somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কথোপকথন

১৪ ই মে, ২০২১ রাত ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রান্না ঘরে শাহেদ নীলার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
নীলা যখন রান্না করে তখন নীলাকে অনেক সুন্দর লাগে। নীলা আজ নানান রকম খাবার রান্না করেছে। এখন রান্না করছে পোলাউ।
নীলা শাহেদের দিকে কঠিন চোখে তাকিয়ে বলল, পেস্তা আর কাজু কোথায়?
শাহেদ বলল, বাজার থেকে আনতে ভুলে গেছি। এইটা কোনো বড় অপরাধ না। তুমি আমার দিকে এইভাবে কঠিন চোখে তাকিয়ে আছো কেন? ঘরে চিনা বাদাম আছে, চিনা বাদাম হালকা করে ভেজে নিলে পেস্তা আর কাজু'র শূন্যস্থান পূরন হয়ে যাবে।
নীলা চিৎকার করে বলল, তুমি যাও এইখান থেকে।
শাহেদ বিড়বিড় করে বললাম- 'ও টক নট টু মী অফ এ নেম গ্রেট ইন স্টোরি; দি ডেইজ অফ আওয়ার ইউথ আর দি ডেইজ অফ আওয়ার গ্লোরি'।

শাহেদ আজ সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি পড়েছে।
তাকে খুব সুন্দর লাগছে। সে হাত নেড়ে নেড়ে গল্প করছে। একদিন রাতে আমি বাসায় ফিরছি। গুড়ি গুড়ি করে বৃষ্টি পড়ছে। তখন রাত ১১ টা। হঠাত দেখি একটি মেয়ে রাস্তার পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে। অল্প বয়সী, রোগা ছিপছিপে চেহারা, মুখখানি শুকনো। আমি কাছে গিয়ে মেয়েটিকে বললাম- এত রাতে বৃষ্টির মধ্যে একা একা পথে ঘুরছ কেন? বাড়ি যাও! মেয়েটি আমাকে দেখে একটু হতাশ হলো।আসলে, মেয়েটির ভাগ্যে এত রাতে একজন ভুল মানুষ ছিলাম আমি। আমার বুঝতে সময় লেগেছিল, মেয়েটি একটি বেশ্যা। মেয়েটি বলল- কী করবো মিস্টার! আজ একটাও খদ্দের জোটেনি। আর আমার কাছে একটাও টাকা নেই। মেয়েটির কথা শুনে আমার খুব কষ্ট হতে লাগল। আমি মেয়েটির হাতে কিছু টাকা দিয়ে বললাম- এখন বাড়ি যাও আর বৃষ্টিতে ভিজ না। মেয়েটি বলল- তুমি আমায় এমনি এমনি টাকা দিচ্ছো কেন? তুমি কে গো? আমি বললাম- আমি কেউ না। তারপর আমি হন হন করে হাঁটা শুরু করলাম। মেয়েটি চিৎকার করতে লাগল, ও ভদ্র লোক, চলে যাচ্ছ কেন, লজ্জা কি? আমি তোমায় ভালো করে সুখ দেব! এই...। আমি দু হাতে কান চাপা দিয়ে ছুটতে লাগলাম।

শাহেদ জামাল নীলাকে কিছুতেই বুঝাতে পারে না- ইউরোপের সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে কিছুটা পরিচয় না হলে আধুনিক পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা থাকে।
নীলা বলল, অভদ্র ব্যবহারের উত্তর কী হতে পারে, শারীরিক শক্তির প্রয়োগ কিংবা পালটা অভদ্র ব্যবহার? নীলা হেসে বলল, মুখ্যেুর মরণ গাছের আগায়।
শাহেদ বললো- খুব ছোটবেলার একটা স্মৃতি মনে পড়ে গেল হঠাৎ। তখন আমার বয়স ছিল সাত বছর। বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে আমি পথ হারিয়ে ফেলি। হাঁটতে হাঁটতে আমি দূরে কোথাও চলে যাই। আমি একটা মসজিদের সিড়িতে বসে খুব কাঁদলাম। তারপর সেখানেই ঘুমিয়ে পড়লাম। আমার যখন ঘুম ভাঙল, তখন বিকেল গড়িয়ে গেছে, রাত সমাগত। আমি দেখলাম আমার পাশে কয়েকটা পয়সা পড়ে আছে। ঘুম ভাঙ্গার পর প্রথমে আমি বুঝতেই পারলাম না আমি কোথায় আছি।

নীলা বলল, অসীমকে সীমা দিয়ে ঘেরার একটা চেষ্টা মনুষ্য জাতির মধ্যে সব সময়েই রয়েছে। এ রকম চেষ্টাই সভ্যতার লক্ষন হসেবে গন্য। যা অসীম, যা অনন্ত রহস্যময় তা মানুষের সহ্য হয় না, সেই জন্যই তো এই দেয়ালঘেরা নগর সভ্যতা। পৃথিবীতে আর্কষনীয় বস্তু তো তেমন কিছুই নেই, শুধু বন্ধুদের ভালোবাসা। একমাত্র তার টানেই মানুষ বেশীদিন বেঁচে থাকতে চায়!
শাহেদ বলল, তোমাকে আমি একটা কথাই বলব, কোনও নারীই একলা একলা পাপ করতে পারে না। বুঝলে নীলা একবার হুলুস্থুলু পড়ে গেল। ভোরবেলা পাগল লোকটি জঙ্গল থেকে বের হয়ে এলো। নদীতে ডুব দিয়ে অনেকক্ষন পর উঠে এলো। তারপর হঠাৎ কী খেয়াল হলো, সামনের এক গির্জায় ডুকে প্রস্রাব করে দিলো মূর্তির গায়ে। চারপাশে অনেক মানুষ জমে গেল। অনেক লোক আবার সেই প্রস্রাব হাতে মেখে সেই হাত জিভে ছোঁয়াচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২১ রাত ৩:০১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×