
প্রিয় কন্যা আমার-
আজ ঈদের দিন। এবং আজ তোমার সাড়ে চার মাস হয়ে গেলো। তোমার জীবনের প্রথম ঈদ। ঈদ উপলক্ষ্যে আমি তোমাকে কোনো জামা কিনে দেই নি। এই জন্য তোমার মা আমার উপর খুবই হতাশ। আমি তোমাকে কোনো জামা দেই নি, কারন তুমি ছয়টা জামা উপহার পেয়েছো। আমাদের দেশটা দরিদ্র। দরিদ্র দেশে বিলাসিতা করা কি ঠিক? তোমার মা বলল, মেয়ের প্রথম ঈদ আর তুমি বাবা হিসেবে তাকে একটা জামা কিনে দিবে না? আমি বললাম, না দিব না। যদি আমার কন্যা কোনো জামা উপহার হিসবে না পেতো তাহলে অবশ্যই আমি তাকে জামা কিনে দিতাম। তাছাড়া এমনিতেই কন্যার অনেক জামা হয়ে গেছে। অপচয় করা ঠিক না। প্রিয় কন্যা আমার- তোমাকে একসাথে দশটা জামা কিনে দেবার ক্ষমতা আমার আছে। তোমার বাবা দরিদ্র নয়।
প্রিয় কন্যা আমার-
আলোতে আমার ঘুমের সমস্যা হয়। তোমারও দেখছি একই অবস্থা। তুমি ঘুমের মধ্যে এক হাত চোখের উপর দিয়ে রাখো। আমার সাথে তোমার অনেক মিল। কিন্তু আমি চাই তুমি আমার মতো হবে না। তুমি হবে তোমার মতো। তুমি মানুষদের ভাল গুণ গুলো তোমার মধ্যে ধারন করবে। খারাপ গুণ গুলো পা দিয়ে মাড়িয়ে দিবে। তোমাকে হতে হবে একজন শুদ্ধ মানুষ। ভালো মানুষ। যেন মানুষ তোমার সংস্পর্শে আসলে পবিত্র বোধ করে। আনন্দিত হয়। ফারাজা, কলিজা আমার- তোমার উপর আমার অনেক আস্থা, অনেক বিশ্বাস, অনেক ভরসা। তুমি আমার মনের মতোণ হবে। তোমাকে নিয়ে যেন মানুষ গর্ব করে। এই কয়েকদিন আগের কথা, সুরভি দেয়ালের দিকে মুখ করে ঘুমিয়ে। তুমি ঘুমাচ্ছো আরাম করে। ঘরে হালকা আলো। বাম পাশ ফিরে, বাম হাত গালের উপর রেখে। তোমার কপালে একটা চুমু দিলাম। আমি এক আকাশ ভালবাসা নিয়ে তোমার সুন্দর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। নিজের অজান্তেই আমার চোখ ভিজে উঠেছিলো। মসজিদে তখন ফযরের আযান হচ্ছিলো।
ফারাজা তাবাসসুম খান (ফাইহা)
আমি যদি হঠাত মরে যাই। তোমাকে বলা হবে না আমার কোনো গল্প। আমার পছন্দ-অপছন্দ। পাওয়া না পাওয়ার কথা অথবা আমার স্বপ্ন গুলো। এই সমস্ত লেখা কি তুমি কোনোদিন পড়বে? আমার ধারনা, তুমি পড়বে। যথেষ্ট আগ্রহ নিয়েই পড়বে। হাসবে, মন খারাপ করবে, বিষন্ন হবে। তাই আমি তোমাকে নিয়ে লিখছি। লিখতে আমার ভাল লাগছে। দশ বছর বয়সে এই লেখা গুলো হয়ত তুমি পড়বে। কিন্তু কিছুই বুঝবে না। এজন্য এই লেখা তোমাকে অনেকবার করে পড়তে। পড়তে পড়তে তুমি বুঝে ফেলবে- আমি তোমার কাছে কি চাই। তোমাকে কি হতে হবে। কত দূর তোমাকে যেতে হবে। আমার কাছে সারা দুনিয়া একদিকে আর তুমি আরেক দিকে। আমার এই লেখা তোমাকে ভরসা দেবে, সাহস দেবে। স্বপ্ন দেখাবে। এই লেখাটা যদি এক হাজার পর্ব পর্যন্ত লিখতে পারি- তাহলে হয়তো তোমাকে আমার সব কথা বলে যেতে পারবো।
প্রিয় কন্যা আমার-
পৃথিবীর সেরা মুভি গুলো তুমি দুই তিনবার করে দেখবে। সেরা বই গুলো দুই তিনবার করে পড়বে। যদি আমি সময় পাই- তাহলে তুমি আমি একসাথে মুভি গুলো দেখবো। বই গুলো পড়ে আমরা আলোচনা করবো। আমরা বেড়াতে যাবো বিশাল পাহড় এবং সমুদ্রে। সমুদ্র আর পাহাড় মানুষের মনকে শান্তি দেয়। আমি থাকি না থাকি অথবা মরে যাই- সেসব নিয়ে তুমি ভাববে না। তুমি তোমার পথে এগিয়ে যাবে। তুমি তোমার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। তাহলেই আমি যেখানেই থাকি ভালো থাকবো। খুশি থাকব। মনে রাখবে, তুমি ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকব। তুমি খুশি থাকলেই আমি খুশি থাকব। কাজেই তোমাকে ভালো থাকতে হবে। সফল হতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে। প্রচুর পড়াশোনা করবে। জ্ঞান মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। পড়াশোনা তোমাকে সহজ সরল সুন্দর পথ দেখাবে। কাজেই প্রচুর পড়তে হবে তোমাকে। পড়া ছাড়া কোনো গতি নেই।
প্রিয় কন্যা আমার-
আমাদের দেশটা দরিদ্র দেশ। এই দেশের বেশির ভাগ মানুষ'ই খারাপ। যাকে তুমি ভাল মনে করবে, আসলে সে-ও ভালো না। সে আরো বেশী খারাপ। মানুষের কুৎসিত রুপ আমি বহুবার দেখেছি। অথচ সমাজ জানে সে কত ভালো, কত মহান। কাজেই তোমার চারিদিকে দুষ্ট ও বদ মানুষ থাকবে। এটা ধরে নিয়েই তোমাকে জীবনযাপন করতে হবে। এদের সাথে পাল্লা দিয়ে তোমাকে বড় হতে হবে। এগিয়ে যেতে হবে। এই দেশে তোমার চলার পথ মসৃন হবে না। চারপাশে নর্দমার কীটের মতোন দুষ্টলোকেরা কিলবিল করবে। তোমার সামনে এগিয়ে যাবার পথ নষ্ট করে দিতে চেষ্টা করবে। তুমি সর্তক ও সাবধান থাকলে কেউ তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। তাই নিজেকে শক্ত করো, যোগ্য করে গড়ে তোলো। যেন কেউ তোমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে সাহস না পায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২১ সকাল ৯:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




