
একটা গান লিখে ফেললাম।
এর আগে আমি কোনোদিন গান লিখি নি। আমার কন্যা চায় আমি সারাক্ষণ তাঁর সাথে কথা বলি, তাঁর সাথে খেলি, তাকে গান গেয়ে শুনাই। সে তাতে বিপুল আনন্দ পায়। এদিকে আমি গান জানি না। আমার গলায় একদমই সুর নেই। আমি এটিএন বাংলার চেয়ারম্যানের চেয়েও খারাপ গান গাই। কিন্তু আমার গান আমার কন্যা খুব পছন্দ করে। সে আমার গান শুনে খুব হাসে। হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে। এবং খুব হাসতে থাকে। আমি গান থামালেই সে বিরক্ত হয়। এজন্য আমাকে সুর করে গানের মতো কিছু বলতে হয়। আমি কন্যাকে খুশি করতে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাই।
আমি সাধারণ কথাবার্তাই বলি সুর করে।
কন্যা তো আর এসব বুঝে না। তাঁর ধারনা আমি মস্ত গায়ক। ইদানিং কন্যার এমন অভ্যাস হয়েছে- আমি গান না গাইলে, সে খাবে না। ঘুমাবে না। গোছল করবে। এই জন্য আমি একেক সময় একেক লাইন গানের মতো সুর করে বলি। কন্যা শুনে আনন্দ পায়। মুগ্ধ হয়। এইভাবে বেশ কিছু লাইন আমার জমে গেছে। সব গুলো লাইন একসাথে করলাম। তারপর আমার মনে হলো- আরেহ এটাতো একটা গান হতে পারে। সুন্দর করে সুর দিতে পারলে দারুন একটা গান হবার সম্ভবনা আছে। আমাদের সামুতে গায়ক আছে। কাজেই কোনো ভাবনা নেই। গানে অবশ্য আবেগের কিছু নাই। বাস্তব কথাবার্তা সব।
মাফ করে দাও
ক্ষমা করে দাও।
কোক কিনে দাও
বার্গার কিনে দাও
চিকেন ফ্রাই কিনে দাও
সস দিয়ে খাবো। আহা!
তাঁর আগে বার্গার গরম করে দাও ওভেনে।
আরিশ কই, এই আরিশ
পরী কই... এই পরী
জলদি আসো
ফাইহা কান্না করে।
ফাইহা দিদার কাছে যাবে
ফাইহা ছাদে যাবে
ফাইহা বাবার কোলে উঠবে
ফাইহা মায়ের কোলে উঠবে।
গানটা একেবারে মন্দ হয়নি।
আপনারা কি বলেন? সুন্দর একটা সুর দিয়ে গাইলে ভালোই লাগবে। আমার তো ধারনা, এই গান ঠিক করে গাইতে পারলে ইউটিউবে ঝড় উঠবে। আমি যখন সুর করে গাই, আমার নিজের কাছেই খুব ভালো লাগে। গান কি করে লিখতে হয়- জানি না। কোনোদিন গান লিখি নাই। নিয়ম কানুন কিছুই জানি না। আমার কন্যা আমার গান শুনে আনন্দ পায়। এটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। কন্যার খুশির জন্য এরকম গান আমি প্রতিদিন একটা করে লিখতে পারি। কারন এক গান নিশ্চয়ই কন্যার প্রতিদিন ভালো লাগবে না। শিশুর ভালো লাগা, মন্দ লাগা অবশ্যই আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০২১ রাত ২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




