somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বউ গেলে যাক, মেয়ে অন্য জিনিস

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল একটা সিনেমা দেখলাম।
এক মহিলা চারটা লাগেজ নিয়ে রেলস্টেনে দাঁড়িয়ে আছেন। মহিলাটা অনেক মোটা। তবে দেখতে বেশ কিউট। খুব মায়ামায়া চেহারা। সাথে তাঁর ছয় বছরের কন্যা। মহিলা তাঁর মেয়েকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন। চারটা লাগেজ আবার ছয় বছরের চঞ্চল মেয়েকে সামলাতে তাঁর বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে ষ্টেশনে অনেক ভিড়। চারিদিকে হাজার হাজার মানুষ। খুব হই চই। এমন সময় এক কুলি এসে বলল, ম্যাডাম আপনার মালামাল আমি ট্রেনে তুলে দিচ্ছি। কোনো চিন্তা নাই। আমাকে তিন শ' টাকা দিতে হবে। মহিলা বলল, তিন শ' টাকা কোন আক্কেলে চাইলে তুমি? তোমরা এমন কেন? আমি পঞ্চাশ টাকা দিতে পারি। রাজী থাকো তো বলো। তা না হলে এগুলো আমি একাই ট্রেনে তুলতে পারি।

অবশেষে মহিলা ট্রেনে উঠেছেন।
কোনো মালামাল খোয়া যায় নি তাঁর। তবে তাঁর কন্যা খুব জ্বালাতন করছে। কন্যা ট্রেনের জানালা দিয়ে মাথা বের করে দিয়েছে। সে এই ট্রেনে উঠবে না। পাশের ট্রেনটায় উঠবে। কন্যার মা রাগ করে মেয়েকে একটা চড় দিয়েছেন। মেয়ে মন খারাপ করে গালে হাত দিয়ে বসে আছে। কন্যা খুবই রাগ করেছেন। সে ঠিক করে আজ রাতে কিছু খাবে না। ট্রেনের ফাস্ট ক্লাশ কামরা। এসি আছে। বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। ট্রেনের লোক এসে পরিস্কার বালিশ চাঁদর দিয়ে গেছে এবং জিজ্ঞেস করে গেছে- ম্যাডাম রাতে কি খাবেন? এখন কি চা নাস্তা কিছু দিবো? মহিলা বলেছেন, আমাদের কিচ্ছু লাগবে না। আমি রাতের খাবার বাসা থেকেই নিয়ে এসেছি। এমন কি ফ্লাক্সে করে চা-ও নিয়ে এসেছি। ট্রেনের খাবার দাবার কেমন হয় আমার জানা আছে। আমার কিচ্ছু লাগবে না। একটু পর ট্রেনের কামরায় একটা মেয়ে উঠলো। মেয়েটা দেখতে বেশ সুন্দর।

কন্যাকে চড় মেরে মহিলার মন খারাপ হয়েছে।
মেয়েকে সে স্যরি বলল। মেয়ে খুশি হয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরলো। এদিকে একটু পর পর মেয়ের বাবা ফোন দিচ্ছে। মেয়ের খোঁজ নিচ্ছে। ভদ্রমহিলা রেগে গিয়ে তার স্বামীকে বললেন, একটু পরপর ফোন দিয়ে মেয়ের খোঁজ নিচ্ছো। মেয়ের কথা জানতে চাইছো। কই আমার কথা তো কিছু জিজ্ঞেস করছো না! তখন স্বামী বলে, বউ গেলে যাক, মেয়ে অন্য জিনিস। মহিলা রেগে গিয়ে বলল, এক জীবনে এই কথাটা আর কতবার বলবে? মেয়ে যেন আর কেউ নেই। স্বামী বলল, সারা দুনিয়া একদিকে আর আমার মেয়ে আরেক দিকে। আমার সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত মহত্ব, সমস্ত ভালোত্ব শুধু মেয়ের জন্য। মেয়ে হওয়ার আগে আমার সব কিছু তোমার ছিলো। এখন মেয়ে হয়েছে। তাই এখন সব কিছু মেয়ের জন্য। আমার কন্যার ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।

ট্রেন কলকাতা থেকে দিল্লী যাচ্ছে।
পুরো তিন দিন সময় লাগবে। যাই হোক, এভাবে সিনেমার কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। ভদ্রমহিলার পাশের সিটে যে সুন্দর মেয়েটি উঠেছে। সে-ও দিল্লী যাবে। মহিলাটির সাথে মেয়েটির খুব ভাব হয়ে যায় অল্প সময়ে। তারা শুরু করে গল্প। মহিলাটি খুব অল্প সময়ে তাঁর জীবনের সব গল্প মেয়েটির কাছে বলে দেয়। এমন কি তাঁর বিয়ের গল্পটাও। তারা দুইজন ভালো বন্ধু হয়ে যায়। এদিকে ঘটনা চক্রে আজ মোটা মহিলার জন্মদিন। পরের ষ্টেশনে দেখা যায় মহিলার স্বামী ট্রেনে উঠে যায়। স্বামীকে দেখে মহিলা ভীষন অবাক। স্বামী বলে, আজ তোমার জন্মদিন। আমি তোমাকে প্রচন্ড অবাক করে দিয়ে তোমার সামনে এখন। হা হা-- এটাই তোমার জন্মদিনের উপহার। তুমি খুশি হওনি? মহিলা খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে বলে- ভীষন খুশি হয়েছি। আবেগে মহিলা স্বামীকে জড়িয়ে ধরে। সে ভুলেই যায় তাদের কামরায় আরেকটা মেয়ে আছে।

এই পর্যায়ে সিনেমা বিরতি হয়।
সিনেমার আসল কাহিনী শুরু হয় এখান থেকেই। দেখা যায় ট্রেনে তাদের কামরায় অন্য যে মেয়েটা উঠেছে। সেটা মহিলার স্বামীর আগের স্ত্রী। তাদের বিয়ে হয়েছিলো দশ বছর আগে। বিয়ের তিন বছর পর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ট্রেনে দুজন দুজনকে চিনতে পারে। কিন্তু না চেনার ভান করে। যদিও সিনেমার শেষের দিকে সব জানাজানি হয়ে যায়। পুরো সিনেমায় এই ডায়লগটাই আমার ভালো লেগেছে- 'বউ গেলে যাক। মেয়ে অন্য জিনিস'। আরেকটা ডায়লগ আছে- 'দুনিয়াতে নিজের সন্তানের চেয়ে বুঝি প্রিয় আর কিছু নাই'। দুটা ডায়লগই আমার খুব পছন্দ হয়েছে। একদম আমার সাথে মিলে গেছে। আমার কন্যা দুনিয়াতে আমার সবচেয়ে প্রিয়। সুরভিকে ছাড়া থাকতে পারবো। কিন্তু কন্যাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। বাঁচতে পারবো না।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০২১ রাত ১:১৩
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×