
গতকাল একটা সিনেমা দেখলাম।
এক মহিলা চারটা লাগেজ নিয়ে রেলস্টেনে দাঁড়িয়ে আছেন। মহিলাটা অনেক মোটা। তবে দেখতে বেশ কিউট। খুব মায়ামায়া চেহারা। সাথে তাঁর ছয় বছরের কন্যা। মহিলা তাঁর মেয়েকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন। চারটা লাগেজ আবার ছয় বছরের চঞ্চল মেয়েকে সামলাতে তাঁর বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে ষ্টেশনে অনেক ভিড়। চারিদিকে হাজার হাজার মানুষ। খুব হই চই। এমন সময় এক কুলি এসে বলল, ম্যাডাম আপনার মালামাল আমি ট্রেনে তুলে দিচ্ছি। কোনো চিন্তা নাই। আমাকে তিন শ' টাকা দিতে হবে। মহিলা বলল, তিন শ' টাকা কোন আক্কেলে চাইলে তুমি? তোমরা এমন কেন? আমি পঞ্চাশ টাকা দিতে পারি। রাজী থাকো তো বলো। তা না হলে এগুলো আমি একাই ট্রেনে তুলতে পারি।
অবশেষে মহিলা ট্রেনে উঠেছেন।
কোনো মালামাল খোয়া যায় নি তাঁর। তবে তাঁর কন্যা খুব জ্বালাতন করছে। কন্যা ট্রেনের জানালা দিয়ে মাথা বের করে দিয়েছে। সে এই ট্রেনে উঠবে না। পাশের ট্রেনটায় উঠবে। কন্যার মা রাগ করে মেয়েকে একটা চড় দিয়েছেন। মেয়ে মন খারাপ করে গালে হাত দিয়ে বসে আছে। কন্যা খুবই রাগ করেছেন। সে ঠিক করে আজ রাতে কিছু খাবে না। ট্রেনের ফাস্ট ক্লাশ কামরা। এসি আছে। বেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। ট্রেনের লোক এসে পরিস্কার বালিশ চাঁদর দিয়ে গেছে এবং জিজ্ঞেস করে গেছে- ম্যাডাম রাতে কি খাবেন? এখন কি চা নাস্তা কিছু দিবো? মহিলা বলেছেন, আমাদের কিচ্ছু লাগবে না। আমি রাতের খাবার বাসা থেকেই নিয়ে এসেছি। এমন কি ফ্লাক্সে করে চা-ও নিয়ে এসেছি। ট্রেনের খাবার দাবার কেমন হয় আমার জানা আছে। আমার কিচ্ছু লাগবে না। একটু পর ট্রেনের কামরায় একটা মেয়ে উঠলো। মেয়েটা দেখতে বেশ সুন্দর।
কন্যাকে চড় মেরে মহিলার মন খারাপ হয়েছে।
মেয়েকে সে স্যরি বলল। মেয়ে খুশি হয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরলো। এদিকে একটু পর পর মেয়ের বাবা ফোন দিচ্ছে। মেয়ের খোঁজ নিচ্ছে। ভদ্রমহিলা রেগে গিয়ে তার স্বামীকে বললেন, একটু পরপর ফোন দিয়ে মেয়ের খোঁজ নিচ্ছো। মেয়ের কথা জানতে চাইছো। কই আমার কথা তো কিছু জিজ্ঞেস করছো না! তখন স্বামী বলে, বউ গেলে যাক, মেয়ে অন্য জিনিস। মহিলা রেগে গিয়ে বলল, এক জীবনে এই কথাটা আর কতবার বলবে? মেয়ে যেন আর কেউ নেই। স্বামী বলল, সারা দুনিয়া একদিকে আর আমার মেয়ে আরেক দিকে। আমার সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত মহত্ব, সমস্ত ভালোত্ব শুধু মেয়ের জন্য। মেয়ে হওয়ার আগে আমার সব কিছু তোমার ছিলো। এখন মেয়ে হয়েছে। তাই এখন সব কিছু মেয়ের জন্য। আমার কন্যার ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।
ট্রেন কলকাতা থেকে দিল্লী যাচ্ছে।
পুরো তিন দিন সময় লাগবে। যাই হোক, এভাবে সিনেমার কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। ভদ্রমহিলার পাশের সিটে যে সুন্দর মেয়েটি উঠেছে। সে-ও দিল্লী যাবে। মহিলাটির সাথে মেয়েটির খুব ভাব হয়ে যায় অল্প সময়ে। তারা শুরু করে গল্প। মহিলাটি খুব অল্প সময়ে তাঁর জীবনের সব গল্প মেয়েটির কাছে বলে দেয়। এমন কি তাঁর বিয়ের গল্পটাও। তারা দুইজন ভালো বন্ধু হয়ে যায়। এদিকে ঘটনা চক্রে আজ মোটা মহিলার জন্মদিন। পরের ষ্টেশনে দেখা যায় মহিলার স্বামী ট্রেনে উঠে যায়। স্বামীকে দেখে মহিলা ভীষন অবাক। স্বামী বলে, আজ তোমার জন্মদিন। আমি তোমাকে প্রচন্ড অবাক করে দিয়ে তোমার সামনে এখন। হা হা-- এটাই তোমার জন্মদিনের উপহার। তুমি খুশি হওনি? মহিলা খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে বলে- ভীষন খুশি হয়েছি। আবেগে মহিলা স্বামীকে জড়িয়ে ধরে। সে ভুলেই যায় তাদের কামরায় আরেকটা মেয়ে আছে।
এই পর্যায়ে সিনেমা বিরতি হয়।
সিনেমার আসল কাহিনী শুরু হয় এখান থেকেই। দেখা যায় ট্রেনে তাদের কামরায় অন্য যে মেয়েটা উঠেছে। সেটা মহিলার স্বামীর আগের স্ত্রী। তাদের বিয়ে হয়েছিলো দশ বছর আগে। বিয়ের তিন বছর পর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ট্রেনে দুজন দুজনকে চিনতে পারে। কিন্তু না চেনার ভান করে। যদিও সিনেমার শেষের দিকে সব জানাজানি হয়ে যায়। পুরো সিনেমায় এই ডায়লগটাই আমার ভালো লেগেছে- 'বউ গেলে যাক। মেয়ে অন্য জিনিস'। আরেকটা ডায়লগ আছে- 'দুনিয়াতে নিজের সন্তানের চেয়ে বুঝি প্রিয় আর কিছু নাই'। দুটা ডায়লগই আমার খুব পছন্দ হয়েছে। একদম আমার সাথে মিলে গেছে। আমার কন্যা দুনিয়াতে আমার সবচেয়ে প্রিয়। সুরভিকে ছাড়া থাকতে পারবো। কিন্তু কন্যাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। বাঁচতে পারবো না।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০২১ রাত ১:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



