
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। কিন্তু আয়তনের হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে ৯৩তম। ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। ১৯৯১ এর পর থেকে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক প্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে। উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে প্রাপ্ত পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন অনুযায়ী বাংলাদেশ অঞ্চলে জনবসতি গড়ে উঠেছিলো প্রায় ৪ হাজার বছর আগে।
১। মোঘল বিজয়ের পর ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় এবং এর নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীর নগর।
২। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ১১ নভেম্বর এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ লোকের মৃত্যু ঘটে।
৩। দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম দুটি নদী- গঙ্গা আর ব্রহ্মপুত্র যেখানে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে সেখানেই কালের পরিক্রমায় গড়ে ওঠা বঙ্গীয়।
৪। বদ্বীপ। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে বর্ষা মৌসুম। এসময় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, ও জলোচ্ছ্বাস প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশের কোনো না কোনো স্থানে আঘাত হানে।
জাতিগত ভাবে বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ অধিবাসী বাঙালি।
বাকি ২ শতাংশ অধিবাসী বিহারী বংশদ্ভুত এবং বিভিন্ন উপজাতি সদস্য। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের হিসাবে বাংলাদেশে স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৪১ শতাংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষিনির্ভর। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষিজীবী। তাই বাংলাদেশের প্রাচীনতম যাতায়াত পথ হিসেবে গণ্য করা হয় নৌপথ বা জলপথকে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ঐতিহ্য হাজার বছরের বেশি পুরনো।
নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ বাংলা ভাষায় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশে প্রায় ২৩৫টি দৈনিক সংবাদপত্র ও ১৮০০রও বেশি সাপ্তাহিক বা মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তবে নিয়মিতভাবে পত্রিকা পড়েন এরকম লোকের সংখ্যা কম, মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৫%। বাংলাদেশের সর্বজনীন উত্সবের মধ্যে পহেলা বৈশাখ প্রধান। গ্রামাঞ্চলে নবান্ন, পৌষ পার্বণ ইত্যাদি লোকজ উত্সবের প্রচলন রয়েছে।
প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যে ভরা আমাদের এই বাংলাদেশ।
এই দেশে পরিচিত অপরিচিত অনেক পর্যটক-আকর্ষক স্থান আছে। এর মধ্যে প্রত্মতাত্বিক নির্দশন, ঐতিহাসিক মসজিদ এবং মিনার, পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, অরণ্য ইত্যাদি অন্যতম। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি এলাকা বিভিন্ন স্বতন্ত্র্র বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত। এমন একদিন ছিল যখন সন্তানের জন্যে মা দুধভাত পেলেই খুশি হতো। ক্ষুধাতুর শিশু যেকালে দুটো ভাত একটু নুন চাইত, সে-সময়টাও আমরা পেরিয়ে এসেছি। এখন মানুষ অনেক কিছু চায়: অন্ন চায়, বস্ত্র চায়, আশ্রয় চায়; শিক্ষা চায়, স্বাস্থ্য চায়, প্রাণ চায়; বল চায়, আলো চায়, মুক্ত বায়ু চায়; আনন্দ-উজ্জ্বল পরমায়ু চায়, চায় সাহস বিস্তৃত বক্ষপট। মানুষ জানতে চায়, শুনতে চায়, বলতে চায়। আজ এসবই আমাদের অধিকার।
জাহানারা ইমাম নামটিরই একটি প্রতীকী তাৎপর্য আছে বাংলাদেশে।
যুদ্ধাপরাধী, জামাত শিবির ও ফ্রিডম পার্টির কর্মী ও বিএনপির কিছু উগ্র ধরনের লোক ছাড়া এই বীর মাতাকে শ্রদ্ধা করে না এমন লোক আমাদের সমাজে বিরল। অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যর্থতা এখানেই যে ,স্বাধীনতার ৫০ বৎসর পরেও আমরা একটি দক্ষ, নৈতিকতা সম্পন্ন, দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ এবং প্রতিশ্রুতিশীল উন্নয়নবান্ধব জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পারিনি।
বাংলাদেশ ছোট্ট একটা দেশ।
বেশিভাগ ভূমিই পলি জমা উপত্যকা। যেটুকু শক্ত মাটি আছে তার তলায় সামান্য কিছু গ্যাস-কয়লা আছে। কিন্তু এগুলো তুলবার বিদ্যা আমাদের জানা নেই। তাই বিদেশি শেয়ালকে দিয়েছি মুরগির খামার করতে। ইচ্ছেমত খায় ইচ্ছেমত ছড়ায়, দয়া হলে কিছু দেয়। বুয়েট থেকে শক্ত কিছু ইঞ্জিনিয়ার বের হয়। যারা ভাল তারা চলে যায় দেশের বাইরে, ওখান থেকে দেশ গেল, দেশের কি হবে টাইপের লেখালেখি করে। এর মধ্যে কিছু বিবেকবান টাকা-পয়সার মায়া ছেড়ে দেশে আসতে চান, এদের সরকার আনতে চায় না।
বছর পাঁচেক আগেও ঢাকায় থাকতো এক কোটি লোক, এখন দুই কোটি।
আগে ৫০ লাখ লাইট জ্বললে এখন জ্বলে এক কোটি। পনের কোটি মানুষের বেশির ভাগ মানুষ যেদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে বলতে পারবে 'আমি সত্যিকারভাবে একজন ভালো মানুষ, যোগ্য মানুষ, অন্তত পক্ষে সেরকম হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি' সেদিন শুধুমাত্র আমরা আমাদের স্বপ্নের দেশ পাবো। তার আগ পর্যন্ত কেবল 'নিজে ভালো, অন্যরা খারাপ' বলে গলা ফাটিয়ে যাবো, কিংবা বিভিন্ন উন্নত দেশের এম্ব্যাসিতে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে কোনো মতে এই মৃত্যু উপত্যকা থেকে পালানোর চেষ্টা করে যাবো।
ধনধান্যপুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক – সকল দেশের সেরা; –
ও সে, স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে-দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানি সে যে – আমার জন্মভূমি।
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা, কোথায় উজল এমন ধারা।
কোথায় এমন খেলে তড়িৎ এমন কালো মেঘে!
তার পাখির ডাকে ঘুমিয়ে উঠি, পাখির ডাকে জেগে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০২১ রাত ৯:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



