
মেজাজ অত্যাধিক খারাপ।
সুরভিকে বলেছিলাম দুপুরে গরুর মাংস রান্না করো। সে গরুর মাংস রান্না করেছে। কিন্তু সাথে পেঁপে দিয়েছে। গরুর মাংস কেউ পেঁপে দিয়ে খায়? অন্তত আমি খাই না। আমি কাঁচা পেঁপে, পাকা পেঁপে কিছুই খাই না। খেতে বসে ইচ্ছা করলো- সব কিছু ছুড়ে মেরে ফেলে দেই। আমি ভদ্রলোকের সন্তান এসব করতে পারি না। সুরভিকে বললাম, আমি মাংস খাবো না। তুমি আমাকে একটা ডিম ভেজে দাও। সুরভি বলল, তুমি বেছে বেছে মাংস খাও। পেঁপে খেতে হবে না। সুরভির কথায়- আমার রাগ আরো বাড়লো। তবু চুপ করে থাকলাম। বললাম, না আমাকে ডিম ভেজে দাও। সাথে একটা শুকনা মরিচও ভেজে দিও।
পোড়া কপাল আমার!
গরুর মাংশ আমার বিশেষ পছন্দ। মাংসের বদলে খেলাম ডিম ভাজি দিয়ে ভাত। সাথে অবশ্য ডাল ছিলো। পাটশাক ভাজি ছিলো। সুরভি কোন আক্কেলে মাংস পেঁপে দিয়ে রান্না করলো- আমি ভেবে পাই না। ওর তো বুঝা উচিত ছিলো- এইভাবে রান্না করলে আমি খাবো না। আমি অন্য জিনিস। এদিকে বুয়া আসে না। ঈদ শেষ হয়ে গেছে প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চললো। কিন্তু বুয়ার কোনো খোজ নেই। তিন বালতি কাপড় জমেছে। সুরভি এক বালতি কাপড় ভিজিয়েছে। আমাকে বলল, তুমি কাপড় ধুয়ে দাও প্লীজ। রাগে আমি দাঁত কিরমির করলাম। আমার জীবনে আমি কোনো দিন কাপড় নি। কাপড় কিভাবে ধুতে হয় আমি জানি না।
আন্দাজে এক বালতি কাপড় ধুলাম।
আমার হাত পুরো সাদা হয়ে গেছে। মা কোনো দিন আমাকে কাপড় ধুতে দেয় নি। বিছানার চাঁদর, জানালার পর্দা। কত ভারি। এসব ধোঁয়া আমার পক্ষে সম্ভব? সেই অসম্ভব কাজটাই করলাম। ছাদে গিয়ে ধোঁয়া কাপড় গুলো মেলে দিলাম। আমার ইচ্ছা করলো- দূরে কোথাও চলে যাই। অন্তত দশ দিনের জন্য। এই দশ দিন কারো সাথে কোনো যোগাযোগ করবো না। মোবাইল থাকবে অফ। তাহলে সুরভির একটা শিক্ষা হয়। মাঝে মাঝে শিক্ষা না দিলে তো সমস্যা। ছোট কন্যা ফাইহার জন্য শিক্ষা দিতে পারলাম না। সুরভি বলল, কাপড় আমি ধুয়ে ফেলতাম। কিন্তু আমার ঠান্ডা লাগলে ফাইহা'র ঠান্ডা লাগবে। তাই তোমাকে ধুতে বলেছি। যাই হোক, দুপুরে ভাত খেতে পারো নি। রাতে কি মোরগ পোলাউ রান্না করবো?
কয়েকদিন ধরে আরাম করে ঘুমাতে পারছি না।
চারটার দিকে বিছানায় যাই। কারন ভোরের দিকে আমার বেশ আরামের ঘুম আসে। আমি বিছানায় যাওয়া মাত্র ফাইহার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আজিব! সে মুখ দিয়ে নানান রকম শব্দ করতেই থাকে। এক জায়গায় স্থির থাকে না। সে সারা বিছানায় পা দিয়ে লেছরে লেছরে ঘুরে বেড়ায়। আমার কাছে এসে পা দিয়ে আমাকে গুতো দিতেই থাকে। হাত দিয়ে খামচি দেয়। যে পর্যন্ত তাকে কোলে না নিবো- সে রকম বিরক্ত করতে থাকবেই। এদিকে আমার চোখে ঘুম। আমার ঘুমের দরকার আছে। আমি তো মানুষ। সুরভি মটকা মেরে দেয়ালের দিকে পাশ ফিরে ঘুমে। মনে মনে বলি- শান্তি নাই। আমার শান্তি নাই। সংসারের মায়রে বাপ।
কন্যাকে কোলে নিই।
কন্যা হেসে উঠে। কন্যার হাসি ভালো লাগে। কন্যাকে নিয়ে বারান্দায় যাই। আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে। কন্যা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমিও আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। গান গাই। আমার কন্যা আবার গান খুব ভালোবাসে। যে কোনো গান সুর করে গাইলেই কন্যা খুশি। আমার গান শুনতে শুনতে কন্যা ঘুমিয়ে যায়। কন্যাকে বিছানায় শুইয়ে দেই। ঘুমন্ত কন্যার কপালে একটা চুমু খাই। তারপর কন্যার পাশে আমিও গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকি। এবং মুহুর্তের মধ্যে ঘুমিয়ে যাই। ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখি। একটা সাদা ঘোড়ায় চড়ে কোহেকাফ নগর যাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০২১ বিকাল ৫:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



