somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নীলা তোমাকে ভালোবাসি

০২ রা জুন, ২০২১ বিকাল ৩:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ গল্পঘর ডট কম।

ক্ষুধার্থ মানূষের কাছে সৌন্দর্যের কোনো মুল্য নেই,
তাই বলে সব সুন্দর জিনিস মুছে ফেলতে হবে?
যে লোক না খেয়ে আছে, গোলাপের কোনো মুল্য নেই তার কাছে,
কারণ গোলাপ-বেলী-চাঁপা এগুলো তার খাদ্য নয়, খেলে পেটও ভরে না।
সেই জন্য তুমি পৃথিবী থেকে সব ফুলগাছ উপড়ে ফেলতে চাও?


নীলা'র গল্প শুনে শুনে সবাই নীলাকে দেখতে চায়।
নীলা হচ্ছে সেই ধরনের মানুষ, যে লোকের অনুরোধের উত্তরে বারবার না বলার চেয়ে ইচ্ছায় হোক, অনিচ্ছায় হোক কোনো ক্রমে মেনে নিয়ে স্বস্তি বোধ করে। সৌজন্য ও ভদ্রতার খাতিরে এবং বন্ধুদের উপরোধে সে বোধ হয় বিষও খেয়ে ফেলতে পারে। বয়সের তুলনায় নীলা যতই ভারিক্কী ভাব দেখাক, তার ভিতরের শিশুটি যাবে কোথায়? নীলাকে লাস্যময়ী বলা চলে না, তার নৃত্যের মধ্যেও মোহবিলাস নেই। প্রায় সর্বাঙ্গ ঢাকা অতিশয় আঁট পোশাক পরিধান করে থাকে।

নীলা ছোটবেলা থেকেই মদ্যপানকে ঘৃনা করে।
আসলে অচেনা কোনো জিনিসকে জানার সাহস তার নেই। মদ্যপান না করার মধ্যেও কোনো বীরত্ব বা সাহসের পরিচয় নেই। আমার বন্ধু বাবলু, যে- কোনো নতুন তরুনীর সঙ্গেই ব্যবহার করে অতি ঘনিষ্ঠের মতন, প্রথমেই বাবলু তাদের নাম জেনে নেয় এবং তারপর তাদের তুই সম্বোধন করে কথা বলে। আমার মনে হয়, বাবলু বোধহয় আসলে অন্তরে অন্তরে নারী বিদ্ধেষী। মা ও প্রেমিকার কাছ থেকে শান্তি পায়নি বলেই সম্ভবত বাবলু পৃথিবীর আর কোনো রমনীকে শ্রদ্ধা করে না। নারী তার কাছে শুধুই যেন ভোগের সামগ্রী, তাদের আর যেন কোনো মূল্য নেই।

প্রায়ই বন্ধু বাবলু বলে- মেয়ে মানুষ হবে দু' রকম।
হয় নিজের সন্তানের গর্ভধারিনী অথবা নাচুনী। আমি বাবলুকে বলেছি, যারা নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়ে ন্যায়-অন্যায় বুঝতে শেখে, তারা কখনো পরের কথায় নাচে না। তুমি যদি প্রকৃত মানুষ হতে চাও, তবে নিজের বিচার বুদ্ধিকে জাগ্রত করো। কোনো সৎ কাজ করতে পারলেই মানব জীবন সার্থক হয়। যদিও মানুষের মন সব সময় যুক্তি মানে না। এক এক সময় ন্যায়-নীতি-ধর্ম সবই তুচ্ছ হয়ে যায়!

ভাবছি, একটা জাহাজ কিনে নিরুদ্দেশে ভেসে পড়লে কেমন হয়?
সেই জাহাজে আর কেউ থাকবে না, একজন নাবিকও না, শুধু আমি আর নীলা। পৃথিবীর অজানা প্রান্তে যেসব দ্বীপে এখনও মানুষের পদস্পর্শ ঘটেনি, সেখানে আমি একটি কাঠের দোতলা বাড়ি বানাবো। বড় বড় জানালা থাকবে। ঘর ভরতি থাকবে বই দিয়ে। ব্যলকনিতে দুটা চেয়ার থাকবে। সেই চেয়ারে বসে আমি আর নীলা বসে চা খাব।

হুট করে আমি ভর দুপুরবেলা নীলার বাসায় গিয়ে হাজির হই।
আজ দুপুরে আমি নীলা সাথে লাঞ্চ করেছি। আমাকে দেখেই নীলা ভালো করে আঁচল জড়িয়ে উঠে দাঁড়াল। আমার হাত ধরে হাসতে হাসতে বলল, তোমার গা থেকে একটা তাপ বেরোয়, কাছে গেলেই টের পাই। মধ্য দুপুর আকাশ ধুয়ে যাচ্ছে কড়া রোদে। নীলা এক একবার আমাকে দেখছে, এক একবার জানালা দিয়ে দেখছে আকাশ। নীলাকে প্রথম চুমু দেবার পর নীলা বলেছিল, আমার একুশ বছরের জীবনে এমন আনন্দ আর কখনো পাইনি। লেবুর সরবতে একটা চুমুক দিয়ে এবং অনেকদিন অনভ্যাসের ফলে দু-বার বিষম খেয়ে সামলে নিলাম। আর তখনই মনে হলো- আজ রাতে খুব বৃষ্টি হবে।

রান্না ঘরে গিয়ে দেখি নীলা ডিম ভাজছে আর গুন গুন করে গাইছে-
'দি ওয়ান্ডারিং এয়ারস দে ফেইন্ট
অন দা ডার্ক দা সাইলেন্ট ষ্ট্রিম-
দি চম্পক ওডারস ফেইল
লাইক সুইট থটস ইন আ ড্রিম;
দি নাইটিঙ্গেল কমপ্লেইন
ইট ডাইজ আপ অন হার হার্ট
অ্যাজ আই মাস্ট ডাই অন দা...

আমি নিরবে নীলার পাশে গিয়ে দাঁড়াই। নীলার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। আমি পকেট থেকে রুমাল বের করে নীলার কপালের ঘাম মুছে দেই। নীলা আমার দিকে তাকিয়ে বলল- শোনো মিঃ নূর, আমি তোমাকে একটি প্লেইন ট্রুথ বলতে চাই। যে-কোনো রোগেই, যত ভালো মেডিসিনই থাক, সর্বোত্তম ঔষধ হলো উইল টু লিভ, উইল টু সারভাইভ...এই উইল পাওয়ারের মতন ঔষধ আর নেই।

আমাদের খাওয়া শেষ।
মেন্যু ছিল ডিম ভাজি আর ডাল। আমি নীলাকে বললাম- ম্যডামজ্বী আচার হিসেবে কি দু'একটা চুমু পেতে পারি? এই কথা বলতেই, যেন কোনো অপার্থিব সুখের আলো এসে পড়ে নীলার চোখে মুখে। আমি নীলার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম- 'লেট দাই লাভ ইন কিসেস রেইন অন মাই লিপস্ অ্যান্ড আইলিডস পেইল'। কিসেস রেইন মানে কী বুঝলে তো? বৃষ্টির মতো চুমু ঝরে পড়া, কেমন ভাবে ঝরে পড়ে দেখবে? বলতে বলতেই লাফ দিয়ে উঠে এসে আমি নীলাকে আলিঙ্গনাবদ্ধ করে, এই এমনিভাবে... ঠোঁটের ওপরে ...চোখের পাতার ওপরে...

এখন বিকেল।
আমরা দু'জন ব্যালকনিতে বসে আছি। হাতে চায়ের মগ। নীলা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, এই যে এত বড় একটা আকাশ, তাও কি কোনো দিন কোনো কাব্যে ধরা পড়েছে? নীলা গুনগুন করে একটা গান গাইছে। জীবন তাকে চর্তুদিক থেকে ভরিয়ে দিয়েছে, সুখ যেন আর ধরে না তার শরীরে। একদিন নিউমার্কেটে উন্মাদ নূরকে দেখে নীলা ভেবেছিল, তার ভবিষ্যৎ একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে, কিন্তু আবার তার জীবনে যে এমন পরিপূর্ণতা আসবে সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। তার ভালোবাসার মানুষ একেবারে দেবতার মতন মানুষ, জন্ম-জন্মান্তর তপস্যা করেও কটা মেয়ে এমন ভালোবাসার মানুষ পায়!

আমি কখন নীলার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না।
নীলা খুব সন্তর্পনে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। দেখে দেখে আর আশ মিটে না। শয়ন ভঙ্গিটি কেমন যেন করুন ধরনের। তেজী, অহংকারী মানুষটি ঘুমের মধ্যে একেবারে অন্যরকম। হাত দু'টি বুকের কাছে গুটানো। হঠাৎ নীলার চোখের দু'ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো...
এই বিকেলই বুঝি পৃথিবীর শেষ বিকেল।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০২১ বিকাল ৩:১৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলমানের সন্তানের নাম জিকো কীভাবে হতে পারে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৫


ছোটো মামার মুখে একটা নাম প্রায়ই শুনতাম, জিকো। তখন বুঝতাম না এটা কে, শুধু জানতাম এই মানুষটা নাকি ফুটবল মাঠে জাদু দেখাতেন। পরে জেনেছি তার আসল নাম আর্থার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×