
আজ ৫ই জুন।
গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের ব্যন্ড সংগীতের গুরু, সংগীত শিল্পী আজম খানের (মাহবুবুল হক খান) দশম মৃত্যুবার্ষিকী। মুক্তিযোদ্ধা আজম খান স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সাংস্কৃতিক জগতে একজন বিস্ময়কর ব্যক্তি, সাধারণ হয়েও একজন অসাধারণ মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের পর মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে যে ব্যবধান ছিল, সেটা তিনি প্রকাশ করেছেন গানে গানে। এক্ষেত্রে দেশের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আপোষহীনভাবে পালন করেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিচ্যুত হননি।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও চিরকাল থেকে গেছেন আড়ালে।
জীবিত কালে রাষ্ট্রও তাঁর সঠিক মূল্যায়ন করেনি। তিনিও নিজেকে একটু আড়ালে রাখতেন। তিনি সব সময়ই মনে করতেন, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার চেয়ে বঞ্চিত থাকা সুখের। এখানেই অন্য সব কথিত শিল্পী থেকে আজম খানের পার্থক্য। যদিও মৃত্যুর ৮ বছরের মাথায় এসে ২০১৯ এ তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে তিনি হয়েছিলেন একজন গেরিলা যোদ্ধা।
২ নম্বর সেক্টরে খালেদ মোশাররফের অধীনে যুদ্ধ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ শেষে আজম খান কুমিল্লা অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়া শুরু করেন। প্রথম সরাসরি যুদ্ধ করেন কুমিল্লার সালদায়। যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্য তাকে সেকশন কমান্ডার করে ঢাকা ও আশেপাশে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ২০ নভেম্বর ঢাকায় প্রবেশ করেন আজম খান।
তাঁর উল্লেখযোগ্য অপারেশন হচ্ছে অপারেশন তিতাস। এই অপারেশনে তাঁর নেতৃত্বে গ্যাস সরবরাহ পাইপ লাইন ধ্বংস করে ঢাকার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেন গেরিলারা। তাঁর নেতৃত্বে ঢাকার অদূরে মাদারটেকের কাছে ত্রিমোহনীতে ও কালিগঞ্জের সম্মুখ সমরে পাকিস্তানী হায়েনাদের হটিয়ে দেন মুক্তিযোদ্ধারা। যুদ্ধের মধ্যেও গান ছাড়েননি তিনি। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের 'একাত্তরের দিনগুলি'তে এ বিষয়ে বর্ননা আছে।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধা শিল্পীর প্রতি জানাই শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২১ বিকাল ৩:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



