
১। মানুষ সব চাইতে বেশি খুশি হয় যখন সে তার মনের কথা অন্যের কাছে খুলে বলতে পারে এবং মানুষ তার প্রতি খুশি হয় যে তার কথা শোনে। পৃথিবীর অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধান হয়েছে শুধুমাত্র পরস্পরকে শ্রদ্ধা, সম্মান এবং গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে এবং এর মূলসূত্র হলো অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
২। বন্দুকের গুলি যদি কারো শরীরে বা হৃদয়ে আঘাত করে সেই গুলি সার্জারি করে বের করা যায়। এন্টিবায়োটিক দিয়ে ঘা শুকানো যায়, পেনকিলার দিয়ে কষ্ট দূর করা যায়, কিন্তু কথার গুলি যদি কারো মনে বা হৃদয়ে আঘাত করে তবে তা কোনো সার্জারি করে বা এন্টিবায়েটিক দিয়ে বা পেনকিলার দিয়ে ব্যথা দূর করা যায় না। কথার গুলির ব্যথা সারাজীবনই থাকে। বন্দুকের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় কিন্তু কথার গুলি হৃদয়ে লাগবেই।
৩। পৃথিবীতে যত সুস্বাদু ফল আছে, তাদের মধ্যে যদি আপনাকে সেইসব ফলের র্যাংকিং করতে বলা হয়- তবে আপনি প্রথমেই যে ফলের নাম বলবেন তা হল আম। আম এতটাই জনপ্রিয় যে সরকার আম গাছ কে আমাদের জাতীয় গাছ হিসেবে উপাধি দিতে বাধ্য হয়েছে।
৪। এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, সাধারনত মেয়েরা সবচেয়ে বেশী যে বিষয়ে গীবত করে সেটা হল শাশুড়ি এবং শ্বশুর বাড়ি। এটা যে শুধু উপমহাদেশের মেয়েদের মধ্যে বেশী তা কিন্তু নয়; বরং এটি একটি গ্লোবাল ব্যপার। কিছু কিছু মেয়ে তো রীতিমত 'mother-in-law phobia' তে ভুগে এবং তার এই ফোবিয়াকে আরও বাড়িয়ে দেয় তার আশেপাশের লোকজন। এর ফলে কোন রকম কারন ছাড়াই তারা বিয়ের পরের দিন থেকেই তার স্বামীর বাড়ির সবাইকে এবং বিশেষ করে শাশুড়িকে তার প্রতিপক্ষ মনে করে। যে কথাটা নিজের মা বললে সে মোটেই আমলে আনতো না, সেই একই কথা শাশুড়ি বললে সে আকাশ-পাতাল এক করে ফেলে।
৫। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন গেছেন ময়মনসিংহে তাঁর গ্রামের বাড়ি বেড়াতে। গ্রামের এক মুরব্বি দেখা করতে এসে জয়নুলকে বললেন, “কিরে তুই নাকি বড় শিল্পী হইছস? দে তো আমার ছাতিটায় নাম লেইখ্যা?”
জয়নুল আবেদীন খুব যত্ন করে এবং সময় নিয়ে ছাতায় নাম লিখে দিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনা রাষ্ট্র হয়ে গেল গ্রামময়। ব্যস, আর যায় কোথায়, গ্রামের প্রায় সবাই যার যার ছাতা নিয়ে হাজির। আর শিল্পাচার্য কি করবেন, অসীম ধৈর্যের সাথে প্রায় সবার ছাতাতেই নাম লিখে দিয়েছিলেন সেবার।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০২১ দুপুর ১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



