somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কি কুক্ষণে দেখেছিলি, তুইরে অভাগী! কাল পঞ্চবটীবনে কালকূটে ভরা এ ভুজগে?

১১ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রাজার বাড়ির সিংহ-দরজার পাশে, লোহার খাঁচার একটা মস্ত বাঘ ছিল।
রাজার বাড়ির সামনে দিয়ে যত লোক যাওয়া-আসা করত, বাঘ হাত জোড় করে তাদের সকলকেই বলত, ‘একটিবার খাঁচার দরজাটা খুলে দাও না দাদা!’ শুনে তারা বলত, ‘তা বইকি! দরজাটা খুলে দি, আর তুমি আমাদের ঘাড় ভাঙো।’

এর মধ্যে রাজার বাড়িতে খুব নিমন্ত্রণের ধুম লেগেছে।
বড়-বড় পণ্ডিত মশাইয়ের দলে-দলে নিমন্ত্রণ খেতে আসছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ঠাকুর দেখতে ভারি ভালোমানুষের মতো ছিলেন।
বাঘ এই ঠাকুরমশাইকে বারবার প্রণাম করতে লাগল। তা দেখে ঠাকুরমশাই বললেন, ‘আহা, বাঘটি তো বড় লক্ষ্মী! তুমি কি চাও বাপু।’
বাঘ হাত জোড় করে বললে, ‘আজ্ঞে, একটি বার যদি এই খাঁচার দরজাটা খুলে দেন! আপনার দুটি পায়ে পড়ি।’
ঠাকুরমশাই কিনা বড্ড ভালোমানুষ ছিলেন, তাই তিনি বাঘের কথায় তাড়াতাড়ি খাঁচার দরজা খুলে দিলেন।
তখন হতভাগা বাঘ হাসতে-হাসতে বাইরে এসেই বললে, ‘ঠাকুর, তোমাকে তো খাব!’


গ্রামের নাম রসুলপুর।
গ্রামটি একেবারে সুন্দরবনের কাছে। অন্যসব গ্রামের মতোই সুন্দর একটি গ্রাম। এই রসুলপুর গ্রামটি আমাকে শিখিয়েছে কি করে পৃথিবীকে ভালোবাসতে হয়। এই গ্রামের লোকজন দিন-রাত ঝগড়া করে, দলাদলি করে, হাঙ্গামা করে, কুটকচালি করে, একটা ভাঙ্গা স্কুল ঘর আছে- সেই স্কুলের প্রতি কারো নজর নেই।

এই গ্রামে এক কৃষকের সাথে আমি জমিতে চাষ করেছি।
বর্ষাকালে বিলে মাছ ধরেছি। সাইক্লোন বিন্ডিং এর চারপাশে নানান রকম গাছ লাগিয়েছি। রসুলপুর গ্রামের প্রতিটা গাছ, পুকুর, খাল-বিল, গরু আমার বন্ধু হয়ে গিয়েছিল। তাদের সাথে আমি কথা বলতাম। আধুনিক যন্ত্রপাতি আমাকে মজা দেয় কিন্তু আনন্দ দিতে পারে না। ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট এগুলো ঠিক আমাকে নির্মল আনন্দ দিতে পারে না। গাছপালা, সবুজ ক্ষেত, নদী এসব আমাকে এক আকাশ নির্মল আনন্দ দেয়।

মধ্য দুপুর। মধ্য দুপুর সময়টা খুব অদ্ভুত!
বুকের মধ্যে যেন কেমন করে! সূর্য ঠিক মাথার উপর থাকে বলে- নিজের ছায়াও খুঁজে পাওয়া যায় না। চারপাশে যা দেখা যায় সবই ভালো লাগে। ঢাকা শহরের রাস্তার পাশের চায়ের দোকান গুলো আমার খুব প্রিয়। আসলে এই চায়ের দোকান গুলো জ্ঞানের ভান্ডার। আমি নিয়মিত রাস্তার পাশের চায়ের দোকান গুলোতে যাই। চা খাই আর আশে পাশের লোকজনদের কথা গুলো খুব মন দিয়ে শুনি। কত রকম বিষয় নিয়ে যে আলোচনা হয়- তা চায়ের দোকানে না গেলে বুঝা সম্ভব নয়।

যখন রাস্তা দিয়ে হেটে যাই, সুন্দর একটা গাড়ি দেখলেই আমি থেমে যাই।
মুগ্ধ হয়ে গাড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকি। চারপাশ থেকে গাড়িটা দেখি। আশে পাশে কেউ না থাকলে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখি। বুকের মধ্যে যেন কেমন করে? মনে মনে ভাবি এরকম একটা গাড়ি কি আমি কোনো দিনও কিনতে পারবো? মনে হয় না এ জীবনে সম্ভব হবে। গাড়ি কিনতে না পারার কষ্ট বুকের মধ্যে হাহাকার করে ওঠে।

রাস্তা দিয়ে চলা ফেরা করার সময় কিছু কিছু গাড়ি এত সুন্দর যে দেখে মাথা নষ্ট হয়ে যায়। শুধু ভাবি আমার যদি এরকম একটা গাড়ি থাকতো! ক্লান্ত বিধ্বস্ত হয়ে হাঁটছি, সারা শরীর ঘামে ভেজা। অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে পারছি না। তখন আমার সামনে দিয়ে আমার'ই বয়সী একটা ছেলে গাড়িতে করে যাচ্ছে- তখন আমার খুব কষ্ট হয়, রাগ হয়। ইচ্ছা করে ছেলেটাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে বলি, আমি কষ্ট করে হেটে যাচ্ছি আর তুমি নবাবব্জাদার মতো আরামে যাচ্ছো। কেন? এখন তুমি হেটে যাও। আমি গাড়িতে এসি ছেড়ে আরামে বাড়ি ফিরবো।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১:০৭
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×