somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- (চৌত্রিশ)

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

গতকাল রাতের কথা-
সুরভি আর ফারাজা গভীর ঘুমে। রাতের শেষ সিগারেট খাওয়ার জন্য চুপি চুপি ব্যলকনিতে গিয়েছি। দিয়াশলাই খুঁজে পাচ্ছি না। খুবই রাগ লাগছে। অথচ আমি বাজার থেকে প্রতিমাসে দুই ডজন করে দিয়াশলাই কিনি। ছাদে, সিড়িতে, ড্রয়ারে, রান্নাঘরসহ নানান জায়গায় আমি দিয়াশলাই ছড়িয়ে রাখি। অথচ দরকারের সময় দিয়াশলাই খুঁজে পাচ্ছি না। ভীষন রাগ লাগছে। উচ্ছা করছে সুরভিকে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে জিজ্ঞেস করি দিয়াশলাই কোথায়? দোকান থেকে কিনে আনবো সেই উপায়ও নেই। রাত দেড়টা বাজে। দোতলায় বা চার তলায় গিয়ে এত রাতে নিশ্চয়ই দিয়াশলাই চাইতে পারি না। বা নীচ তলায় গিয়ে এত রাতে মায়ের কাছেও দিয়াশলাই চাইতে পারি না। মা ঝাড়ু পেটা করবে নিশ্চিত। অথবা বাড়ি থেকেও বের করে দিতে পারে। মার অনেক রাগ।

মেজাজ খারাপ করে ব্যলকনিতে বসে আছি।
দিনের বেলার মতো গরম নেই। বরং বেশ ঠান্ডা বাতাস বইছে। তখন হঠাত মনে হলো- অনেকদিন শাহেদ জামালকে নিয়ে লিখি না। শাহেদকে নিয়ে শেষ লেখা লিখেছি প্রায় দেড় বা দুইমাস আগে। শাহেদ আর নীলা দুজনই আমার খুব প্রিয় মানুষ। নীলা হচ্ছে শাহেদ জামালের প্রেমিকা। শাহেদ চাকরী পেলেই নীলাকে বিয়ে করবে। শাহেদ বেকার তাই সে সবার কাছে অবহেলিত। এমনকি তার ভাইয়েরাও তাকে দেখতে পারে না। এজন্য শাহেদ বাসায় বেশি সময় থাকে না। সে রমনা পার্কে চলে যায়। সারাদিন সে পার্কেই শুয়ে বসে থাকে। পকেটে টাকা থাকলে শাহবাগ গিয়ে কিছু খেয়ে নেয়। ঢাকা শহরের মধ্যে রমনা পার্কটাই তার সবচেয়ে ভালো লাগে। এখানে এখনও কিছু গাছপালা অবশিষ্ট আছে। গাছের ঢালে নানান রকম পাখি দেখা যায়।

ব্যলকনিতে শাহেদ জামাল এবং নীলা।
এটা অবশ্যই বিভ্রম। এত রাতে তাঁরা আমার বাসায় আসবে কেন? শাহেদ কিছু রাগ দেখিয়ে বলল, দীর্ঘদিন ধরে আপনি আমাকে নিয়ে লিখছেন না। তাই আপনাকে দেখতে চলে এসেছি। করোনা হয়নি তো আবার? নীলা বলল, রাজীব ভাই কেমন আছেন? ভাবী তো ঘুমে, কিন্তু আমার যে এখন চা খেতে ইচ্ছা করছে। আমি বললাম, নীলা তুমি রান্নাঘরে চলে যাও। তিন কাপ চা বানাও। আমার নিজেরও চা খেতে ইচ্ছা করছে। নীলা রান্না ঘরে চলে গেলো। তখন শাহেদ জামাল একটা দিয়াশলাই আমার হাতে দিলো। আমি হেসে ফেললাম। বললাম, আগে চা খেয়ে নিই তারপর সিগারেট। শাহেদ জামাল বলল, আমিও চা শেষ করে সিগারেট খাই। অনেকে চা সিগারেট একসাথে খায়। আমি বললাম, শাহেদ চা আর সিগারেট একসাথে খেলে দাঁতে কালো পড়ে যায়। দাঁতে কালো দাগ আমার ভীষন রকমের অপছন্দ।

নীলা তিন কাপ চা বানিয়ে এনেছে।
আমি চায়ে চুমুক দিলাম। চমৎকার চা হয়েছে। নীলাকে সে কথা বলতে কৃপণতা করলাম না। নীলা বলল, সুরভি ভাবীর চা কি আমার চেয়ে ভালো হয়? আমি বললাম, হ্যাঁ সুরভির চা তোমার চেয়েও অনেক ভালো হয়। সুরভির চায়ের মধ্যে ভালোবাসা থাকে। শুধু মাত্র চায়ের জন্যই আমি সুরভিকে বিয়ে করেছি। নীলা বলল, মানে! আমি বললাম, সুরভি বিয়ের আগে আমাকে কথা দিয়েছিলো, আমি যদি রাত তিনটায় চা চাই, সে বানিয়ে দিবে। সুরভি তার কথা রেখেছে। মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে আমি চা চাইনি, অথচ সুরভি চা বানিয়ে নিয়ে এসেছে। সুরভি ঘুমে ছিলো, কোনো কারনে হয়তো তার ঘুম ভেঙ্গেছে, দেখেছে আমি বিছানায় নেই। পাশের রুমে ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত। সে চা বানিয়ে নিয়ে এসেছে। মাঝে মাঝে সে আমাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য নিজেও এক কাপ খায়।

শাহেদ জামাল বলল, আমরা চা নিয়ে কথা বলছি কেন?
কথা বলার কি আর কোনো বিষয় নেই? নীলা বলল, হ্যাঁ তাই তো। শাহেদ বলল, রাজীব দা আপনি আপনার ছোটবেলার কথা বলুন। আমি বললাম, ঠিক আছে। তাহলে শোনো- ছেলেবেলায় আমার বাইসাইকেলের খুব শখ ছিলো। কিন্তু আব্বা আমাকে সাইকেল কিছুতেই কিনে দিবে না। কারন আব্বার ধারনা, সাইকেল পেলেই আমি সারাদিন সাইকেল নিয়ে বাইরে বাইরে থাকব। এবং একসিডেন্ট করে হাত পা ভাঙ্গবো। আব্বার উপর আমার খুব রাগ হলো। আমিও কম না। স্কুল থেকেই ফিরেই আমি রেলওয়ে কলোনীতে চলে যেতাম। সেখানে একলোক সাইকেল ভাড়া দিতো। এক ঘন্টা আট টাকা। আমি ১৬ টাকা দিয়ে দুই ঘন্টা ভাড়া নিতাম। আমার সাথে আমার এক বন্ধুও ছিলো। ভাড়ায় সাইকেল নিয়ে আমি সাইকেল চালানো শিখলাম নিজে নিজে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১:০১
৬টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৪২


ছবিঃ আমার তোলা।

মন মেজাজ ভালো নেই।
তাই ব্লগে কম আসি। কম লিখি। যদিও বেশ কিছু লেখা মাথায় জমে আছে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে ব্লগে আসলে ঝামেলা হয়ে যাবে। দেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস বুঝে ছুইটেন !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:৪১

ছবি নেট।

হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেনঃ "মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপদজনক! " 

আসলেই তাই! খবরে দেখলাম ইকবাল নামের একজন ব্যক্তি পবিত্র কুরআন মুর্তির কাছে রেখে চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ভবঘুরে ইকবাল হোসেন জন্য সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৩৫



গত বুধবার ভোরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিন কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। ব্যস আর যায় কোথায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ও আমার পৃথিবী......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৫১

আমি ও আমার পৃথিবী......

আজও খুব ভোরে উঠেছি প্রতিদিনের মতো। আকাশে তখনও আলগোছে লেগে রয়েছে রাত্রির মিহি প্রলেপ। আমার চেনা পাখিরা জেগে ওঠেনি তখনও। মনটা কেমন যেন একটু বিস্বাদে ভরে আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেডাগোজিকাল ট্রানজিশন- শিশু শিক্ষনে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়

লিখেছেন শায়মা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৪৪


করোনাকালীন চার দেওয়ালে বন্দী জীবন ও অনলাইনের ক্লাসরুমের মাঝে গত বছর নভেম্বরে BEN Virtual Discussion "শিশুদের নিয়ে সব কথা" একটি টক শো প্রোগ্রাম থেকে ইনভিটেশন এলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×