
ছবিঃ আমার তোলা।
গতকাল রাতের কথা-
সুরভি আর ফারাজা গভীর ঘুমে। রাতের শেষ সিগারেট খাওয়ার জন্য চুপি চুপি ব্যলকনিতে গিয়েছি। দিয়াশলাই খুঁজে পাচ্ছি না। খুবই রাগ লাগছে। অথচ আমি বাজার থেকে প্রতিমাসে দুই ডজন করে দিয়াশলাই কিনি। ছাদে, সিড়িতে, ড্রয়ারে, রান্নাঘরসহ নানান জায়গায় আমি দিয়াশলাই ছড়িয়ে রাখি। অথচ দরকারের সময় দিয়াশলাই খুঁজে পাচ্ছি না। ভীষন রাগ লাগছে। উচ্ছা করছে সুরভিকে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে জিজ্ঞেস করি দিয়াশলাই কোথায়? দোকান থেকে কিনে আনবো সেই উপায়ও নেই। রাত দেড়টা বাজে। দোতলায় বা চার তলায় গিয়ে এত রাতে নিশ্চয়ই দিয়াশলাই চাইতে পারি না। বা নীচ তলায় গিয়ে এত রাতে মায়ের কাছেও দিয়াশলাই চাইতে পারি না। মা ঝাড়ু পেটা করবে নিশ্চিত। অথবা বাড়ি থেকেও বের করে দিতে পারে। মার অনেক রাগ।
মেজাজ খারাপ করে ব্যলকনিতে বসে আছি।
দিনের বেলার মতো গরম নেই। বরং বেশ ঠান্ডা বাতাস বইছে। তখন হঠাত মনে হলো- অনেকদিন শাহেদ জামালকে নিয়ে লিখি না। শাহেদকে নিয়ে শেষ লেখা লিখেছি প্রায় দেড় বা দুইমাস আগে। শাহেদ আর নীলা দুজনই আমার খুব প্রিয় মানুষ। নীলা হচ্ছে শাহেদ জামালের প্রেমিকা। শাহেদ চাকরী পেলেই নীলাকে বিয়ে করবে। শাহেদ বেকার তাই সে সবার কাছে অবহেলিত। এমনকি তার ভাইয়েরাও তাকে দেখতে পারে না। এজন্য শাহেদ বাসায় বেশি সময় থাকে না। সে রমনা পার্কে চলে যায়। সারাদিন সে পার্কেই শুয়ে বসে থাকে। পকেটে টাকা থাকলে শাহবাগ গিয়ে কিছু খেয়ে নেয়। ঢাকা শহরের মধ্যে রমনা পার্কটাই তার সবচেয়ে ভালো লাগে। এখানে এখনও কিছু গাছপালা অবশিষ্ট আছে। গাছের ঢালে নানান রকম পাখি দেখা যায়।
ব্যলকনিতে শাহেদ জামাল এবং নীলা।
এটা অবশ্যই বিভ্রম। এত রাতে তাঁরা আমার বাসায় আসবে কেন? শাহেদ কিছু রাগ দেখিয়ে বলল, দীর্ঘদিন ধরে আপনি আমাকে নিয়ে লিখছেন না। তাই আপনাকে দেখতে চলে এসেছি। করোনা হয়নি তো আবার? নীলা বলল, রাজীব ভাই কেমন আছেন? ভাবী তো ঘুমে, কিন্তু আমার যে এখন চা খেতে ইচ্ছা করছে। আমি বললাম, নীলা তুমি রান্নাঘরে চলে যাও। তিন কাপ চা বানাও। আমার নিজেরও চা খেতে ইচ্ছা করছে। নীলা রান্না ঘরে চলে গেলো। তখন শাহেদ জামাল একটা দিয়াশলাই আমার হাতে দিলো। আমি হেসে ফেললাম। বললাম, আগে চা খেয়ে নিই তারপর সিগারেট। শাহেদ জামাল বলল, আমিও চা শেষ করে সিগারেট খাই। অনেকে চা সিগারেট একসাথে খায়। আমি বললাম, শাহেদ চা আর সিগারেট একসাথে খেলে দাঁতে কালো পড়ে যায়। দাঁতে কালো দাগ আমার ভীষন রকমের অপছন্দ।
নীলা তিন কাপ চা বানিয়ে এনেছে।
আমি চায়ে চুমুক দিলাম। চমৎকার চা হয়েছে। নীলাকে সে কথা বলতে কৃপণতা করলাম না। নীলা বলল, সুরভি ভাবীর চা কি আমার চেয়ে ভালো হয়? আমি বললাম, হ্যাঁ সুরভির চা তোমার চেয়েও অনেক ভালো হয়। সুরভির চায়ের মধ্যে ভালোবাসা থাকে। শুধু মাত্র চায়ের জন্যই আমি সুরভিকে বিয়ে করেছি। নীলা বলল, মানে! আমি বললাম, সুরভি বিয়ের আগে আমাকে কথা দিয়েছিলো, আমি যদি রাত তিনটায় চা চাই, সে বানিয়ে দিবে। সুরভি তার কথা রেখেছে। মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে আমি চা চাইনি, অথচ সুরভি চা বানিয়ে নিয়ে এসেছে। সুরভি ঘুমে ছিলো, কোনো কারনে হয়তো তার ঘুম ভেঙ্গেছে, দেখেছে আমি বিছানায় নেই। পাশের রুমে ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত। সে চা বানিয়ে নিয়ে এসেছে। মাঝে মাঝে সে আমাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য নিজেও এক কাপ খায়।
শাহেদ জামাল বলল, আমরা চা নিয়ে কথা বলছি কেন?
কথা বলার কি আর কোনো বিষয় নেই? নীলা বলল, হ্যাঁ তাই তো। শাহেদ বলল, রাজীব দা আপনি আপনার ছোটবেলার কথা বলুন। আমি বললাম, ঠিক আছে। তাহলে শোনো- ছেলেবেলায় আমার বাইসাইকেলের খুব শখ ছিলো। কিন্তু আব্বা আমাকে সাইকেল কিছুতেই কিনে দিবে না। কারন আব্বার ধারনা, সাইকেল পেলেই আমি সারাদিন সাইকেল নিয়ে বাইরে বাইরে থাকব। এবং একসিডেন্ট করে হাত পা ভাঙ্গবো। আব্বার উপর আমার খুব রাগ হলো। আমিও কম না। স্কুল থেকেই ফিরেই আমি রেলওয়ে কলোনীতে চলে যেতাম। সেখানে একলোক সাইকেল ভাড়া দিতো। এক ঘন্টা আট টাকা। আমি ১৬ টাকা দিয়ে দুই ঘন্টা ভাড়া নিতাম। আমার সাথে আমার এক বন্ধুও ছিলো। ভাড়ায় সাইকেল নিয়ে আমি সাইকেল চালানো শিখলাম নিজে নিজে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




