somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে

০১ লা অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ আমার তোলা।

আজ ১ অক্টোবর।
বাংলা আশ্বিন মাসের ১৬ তারিখ। আর আরবী সফর মাসের ২৩ তারিখ। এই অক্টোবর মাসেই আমার জন্ম। আমি যদি জন্ম না নিতাম তাহলে কি হতো? কিছুই হতো না। আমার বরাদ্দ অক্সিজেনটুকু অন্য কেউ নিয়ে নিতো। পৃথিবীতে আসার সময় আমি খালি হাতে এসেছি। এখন আমার অনেক কিছু আছে। ল্যাপটপ আছে, মোবাইল আছে, বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, কিছু জমিজমা আছে, এমন কি ব্যাংকে সামান্য টাকাও আছে। আত্মীয় স্বজন আছে, বন্ধুবান্ধব আছে। শত্রু আছে। স্ত্রী আছে, কন্যা আছে।

অনেক কিছুই আমার আছে।
আবার অনেক কিছুই নাই। আমার বাবা নাই। গত বছর ডিসেম্বরে বাবা করোনায় মারা গেছে। এই পৃথিবীতে একজন ছিলো- যাকে দেখলে আমি সাহস পেতাম, ভরসা পেতাম। এবং আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম আমার বিপদে অন্তত এই একজন মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়বে। আব্বাকে গ্রামে কবর দেওয়া হয়েছে। অনেকদিন গ্রামে যাই না। অথচ আমাদের গ্রাম ঢাকার খুব কাছে। পোস্তঘোলা ব্রিজ অথবা বাবু বাজার ব্রিজ থেকে মাত্র এক ঘন্টা সময় লাগে। আগামীকাল শুক্রবার। গ্রামে কি যাবো?

আব্বা মারা যাওয়ার পর অনেক কিছু বদলে গেছে।
আগে আমাদের আত্মীয়স্বজনরা খুব একটা আমাদের বাসায় আসতেন না। এখন সবাই নিয়মিত আমাদের বাসায় আসেন। সবচেয়ে বেশি আসেন আমার দুই চাচা। তাঁরা এসে রাতে আমাদের সাথে ডিনার করেন। দুই চাচা বলেন, তোমাদের বাসায় খেয়ে আরাম পাই। সুরভির হাতের রান্না অসাধারণ। এরকম ভালো রান্না খেতেই তোমাদের বাসায় বার বার আসতে ইচ্ছা করে। আমাদের বউরা এরকম ভালো রান্না করতে পারে না। পোড়া কপাল আমাদের। বাসায় ভালো মন্দ রান্না হলে আমিই চাচাদের ফোন দিয়ে ডেকে আনি।

আমার মুখের ভাষা অনেক সুন্দর।
আমি কখনও কাউকে গালি দেই না। তবে ইদানিং আমার মুখে অটোমেটিক গালি চলে আসে। যেমন ধরুন, রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম। সাথে ভয়ানক রোদ। ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। কিন্তু আরামে হাঁটতে পারছি না। একদল লোক ফুটপাতে বাইক উঠিয়ে দিয়েছে। তাদের খুব তাড়া। তাঁরা ক্রমাগত হর্ন দিয়েই যাচ্ছে। তখন আপনাতেই আমার মুখে গালি চলে আসে। ফুটপাতে হাঁটার জায়গা নেই, অথচ ফুটপাত দখল করে দোকান বসিয়েছে। তখন আমার মুখে আপনাতেই গালি চলে আসে। কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারি না।

দুই বছর ধরে আমার মধ্যে একটা জ্যোতিষী ভাব এসেছে।
মানুষ দেখলেই আমি গভীর ভাবে তাকে দেখার চেষ্টা করি। বুঝার চেষ্টা করি। এবং আমি অতি অল্প সময়ে একটা সারমর্মে চলে আসি। আমার ধারনা সঠিক কিনা তা আমি জানি না। এমন কি আকাশের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করি আজ বা আগামীকাল ঠিক কখন বৃষ্টি হবে। যেমন গত পরশু সকাল ৮ টায় আকাশের দিকে তাকালাম। চারিদিকে ঝলমলে রোদ। কিন্তু আমার মনে হলো আজ ঠিক বিকেল ৫ টায় আকাশ কালো করে ঝুম বৃষ্টি নামবে।
সত্যি সত্যি বিকেল পাঁচ টায় ঝুম বৃষ্টি নেমে গেলো। তখন আমি মতিঝিল। দৌড়ে রাস্তার পাশে এক চায়ের দোকানে আমি আশ্রয় নিলাম। লোকজন বলাবলি করছে, সারাটা দিন কড়া রোদ গেলো। আর এখন হুট করে বৃষ্টি শুরু হলো। আজিব! একজন বলল, বৃষ্টি আল্লাহর রহমত। আল্লাহর লীলাখেলা মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব না। তখন অন্য একজন বললেন, আল্লাহর রহমতেরর পানি দিয়ে এখন ঢাকা শহরে গজব নামবে।

বাস্তবতার কাছে পৃথিবীটা বড্ড অসহায়ত্ব দেখায়। চারপাশের মানুষগুলো একটু মানবিক হলেই পৃথিবীটা সুন্দর হতো। জীবন মানেই দ্বন্দ্বের সমন্বয়। এটা শিখতে আমাকে বই পড়তে হয়নি। ইচ্ছা করছে কাউকে কবিতা আবৃত্তি করে শোনাই। এত রাতে কাকে শোনাবো কবিতা?কেউ নেই। কোথাও কেউ নেই। মানুষের মতন চেহারার মধ্যে জানোয়ারের সংখ্যা খুবই বেশি- এই সমাজে। যার দুঃখবোধ আছে, পৃথিবীর তাবৎ দুঃখ তাকেই চুম্বকের মতন নিয়ত আকর্ষণ করে। নিজের দুঃখ তো বটেই, পরের দুঃখও।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:২৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবির বিরুদ্ধে কবি

লিখেছেন অতন্দ্র সাখাওয়াত, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১০

হে মৃত্যুহীন কবি,
কোন এক কোমল রাতে
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
চলতে চাই হাজার বছর।
তারপর তুমি
মিলিয়ে যাবে তারার মাঝে —
তখন আমি লিখবো
তোমার না-লেখা পঙ্ক্তিমালা
কোন এক পূর্ণিমাতে।

হয়তো প্রথম পঙ্ক্তি হবে —
"সে তোমাকে ভালোবাসতো।"
তারপর সমুদ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×