somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মা ও বউ দুজনকেই খুশি রাখবেন যেভাবে!

০২ রা জুন, ২০২২ বিকাল ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বর্তমান সমাজে ঘরে ঘরে বউ শ্বাশুড়ির ঝগড়া।
যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কি বিশ্রী ঝগড়া! কিন্তু বউ এবং শ্বাশুড়ি যদি কিছুটা 'ছাড়' দিতে শিখতো- তাহলে ঝগড়া হতো না। 'ছাড়' দেওয়ার মানসিকতা থাকলে অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যায়। মা অনেক বড় বিষয়। আবার স্ত্রীকেও ছোট করা ঠিক হবে না। হিসাব করে চললে, বুদ্ধি করে চললে মা এবং স্ত্রী দুজনকেই খুশি রাখা যায়। যেটা আমি পেরেছি। আমার ভাইয়েরা পেরেছে। আমাদের সংসারে অনেক গুলো সদস্য। একান্নবর্তী পরিবার আমাদের। আমরা ভাল আছি। আনন্দে আছি। পাড়া প্রতিবেশীরা আমাদের বাসায় বেড়াতে সে বলেন, তোমাদের বাসায় এলে শান্তি লাগে।

বেশির ভাগ মা মনে করেন ছেলে বিয়ের পর বদলে যায়।
পর হয়ে যায়। এজন্য মা ছেলের বউয়ের উপর রেগে থাকেন। কখনও কখনও রাগ প্রকাশও করে ফেলেন। অথচ ছেলে বিয়ের পর বদলায় না। ছেলে বিয়ে করুক আর না করুক মা তো মা'ই। মায়ের জায়গা কেউ নিতে পারে না। সেটা সম্ভব না। সমাজে কিছু নীচু মানসিকতার লোক আছে তাঁরা বলে, মা আগে না বউ আগে? আরে গাধা মায়ের সাথে বউয়ের তুলনা হয়? শিক্ষিত পরিবারে সাধারণত ঝগড়া কম হয়। কারন তাঁরা সমাজ, সংসার, মানুষ ইত্যাদি সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখেন। তাছাড়া খেয়াল করে দেখবেন ঝগড়া করে শেষমেষ কিছুই পাওয়া যায় না। বুদ্ধি থাকলে ঝগড়া করা লাগে না।

আমি বিয়ে করেছি।
আল্লাহর রহমতে আমার মা এবং বউকে নিয়ে কোনো রকম সমস্যা হয় নাই। আমরা চার ভাই। আমাদের কোনো বোন নেই। আমাদের বাসায় মোট চারটা বউ। কখনও কারো সাথে কারো ঝগড়া বা মনোমালিন্য হয়নি। সবাই মিলেমিশে থাকে। আমার মায়ের সাথে তাদের সম্পর্ক বান্ধবীর মতোন। তারা পাঁচজন মিলে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্পে করে। আমার মার চার ছেলের বউ'ই মাস্টার্স পাশ। সবার মন মানসিকতা উন্নত। কারো মধ্যে কোনো কুসংস্কার নেই। বরং মার জন্য বউয়ের সাথে ঝগড়া করতে পারি না। কিছু বললেই মা এসে সামনে দাঁড়ায়। বলে, খবরদার। আমি এখনও বেঁচে আছি। এলাকার মানুষজন আমার মাকে বলে, আপনি শ্রেষ্ঠ সুখী মানুষ।

আমার মা একজন আধুনিক মানুষ।
মার মধ্যে কোনো কুসংস্কার নেই। মা দুই হাতে টাকা খরচ করে। মা যখন তাঁর ছেলের বউদের সাথে গল্প করে। আমি যদি বলি, আজ তোমাদের রান্না নাই? তখন মা বলে আজ রান্না বন্ধ। আজ রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে আনা হবে। টাকা আমি দিবো। তোমরা যে যা খুশি খাও। আব্বা সব সময় বলতো- বউদের সাথে কখনও ঝগড়া করবে না। খবরদার। ওদের আদর যত্নে রাখবে। আমি যেন কোনোদিন না শুনি বউদের সাথে উচ্চ গলা করেছো। আমরা চার ভাই বাবা মার খুব ভক্ত। বাবা মার কথা গুরুত্বসহকারে মাথা পেতে মেনে নেই ছোটবেলা থেকেই। আমি ভুল করলে এখনও সুরভি আমার মায়ের কাছে গিয়ে বিচার দেয়। মা বাবাকে আমরা চাই ভাই খুব ভালোবাসি।

মাকে সময় দিবেন। মার সাথে গল্প করবেন।
মাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবেন। মা যে খাবার পছন্দ করে তাকে সেটা এনে দিবেন। দেখবেন মা সব সময় খুশি থাকবে। আপনার স্ত্রীকে বলবেন, মাকে চা বানিয়ে দিতে। ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিতে। মানুষের যখন বয়স হয়ে যায় তখন তাঁরা টাকা পয়সা চায় না। তাঁরা চায় সময়। তাঁরা চায় ভালোবাসা। একজন মা বাবা তার সন্তান এবং সন্তানের বউয়ের কাছে সময় চায় এবং ভালোবাসা চায়। আপনারা স্ত্রীকে বললেন, মাকে যেন সময় দেয়। গল্প করে। একা ভালো থাকা ভালো না। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হবে। সেটাই আসল ভালো থাকা। আর যেসব স্ত্রীলোক স্বামীদের কানপড়া দেয় তাঁরা বদ। ওদের কথা এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে টুশ করে বের করে দিবেন। স্ত্রীর কথা শুনে ঘরে অশান্তি করবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০২২ বিকাল ৩:২২
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×