somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বেলায়, অবেলায়, কালবেলায়

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রাতে একেবারেই ঘুম হয়নি।
জাস্ট তন্দ্রা তন্দ্রা ভাব হয়েছিলো। আর তখন দেখেছি পাগলাটে, অদ্ভুত ও অযৌক্তিক সব স্বপ্ন। ভয় লাগছিলো। শেষে বিরক্ত হয়ে বিছানা থেকে নামলাম। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ভোর পাঁচ টা বাজে। বাইরে আকাশ ফরসা হয়নি। শীতকাল না হলে আকাশ এতক্ষণে ফরসা হয়ে যেতো। সুরভির ঘুম না ভেঙ্গে যায়, এজন্য আলো জ্বালালাম না। বেচারি ঘুমাক। কি করবো? মাথার মধ্যে এলোমেলো নানান রকম চিন্তা। ভেসিনে গিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলাম। ঠান্ডা পানির ঝাপটা একদম হাড়ের মধ্যে এসে যেন লাগলো। হাড়ে কাঁপন লাগলেও কিছুটা সতেজ লাগছে এখন। ফারাজা কাশছে। শুকনো কাশি। ইচ্ছা করছে ঘরের জানালাটা খুলে দেই। জোরে জোরে একটু ঠান্ডা বাতাস বুকে টেনে নিন। জানালা খুললাম না। মেয়েটার কাশি হয়েছে।

গতকাল রাতে এক প্যাকেট সিগারেট কিনেছিলাম।
গত কয়েকদিন ধরে খুব সিগারেট খাচ্ছি। সিগারেট খেলে কোনো উপকার নেই। তবে কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকা, আর কি। সস্তা সিগারেট খেতে পারি না। ঘরের ফুলদানীতে দীর্ঘদিন ফুল রাখা হয় না। ফুলের যা দাম। একটা সিগারেট ধরিয়ে আমি ব্যলকনিতে এসে দাড়ালাম। ভোরের স্বচ্ছ বাতাসে সারা শরীর কেঁপে উঠলো। এক কাপ চা খেতে পারলে ভালো লাগতো। ভোরবেলা চারপাশটা বেশ সুন্দর লাগে। বড় পবিত্র লাগে। শুধু মাত্র ভোরবেলাতেই এই শহরটাকে ভালো লাগে। কিছু পাখি ডাকাডাকি করছে। আলো না ফুটলে তাঁরা ঘর থেকে বের হবে না। হুট করে খুব শীত পড়ে গেলো এবার। অনেক কুয়াশা। এই কুয়াশা সকাল দশটার আগে কাটবে না। আলতাফ স্যার একটা বই দিয়েছিলেন, সেই বইয়ের প্রতিটা পাতায় ছবি আর ছবি। সেই বইয়ে এরকম একটা ভোরের ছবিও দেখেছিলাম।

সদ্য কৈশোর পেরনোর পর একটা মেয়েকে ভালো লেগেছিলো।
মেয়েটা ভীষন সুন্দর। দূর থেকে আমি রোজ মেয়েটাকে দেখি। মেয়েটাকে দেখলেই আমার রক্ত যেন নেচে উঠতো। এত খুশি লাগতো যে ইচ্ছা হতো হেটে হেঁটে এয়ারপোর্ট চলে যাই। একটা সুময়ের অপেক্ষায় থাকলাম। সুসময় এলেই মেয়েটাকে আমার ভালোবাসার কথাটা জানাবো। মনে মনে সব ঠিক করে রাখলাম। সময় বয়ে যেতে লাগলো। গোপনে মেয়েটাকে নিয়ে কবিতা লিখি। গল্প লিখি। সেই সব লেখা নিজেই বারবার করে পড়ি। মুগ্ধ হই। রোমাঞ্চিত হই। কি যে ভালো লাগে! আমার ভাগ্য মন্দ। একদিন আমার চোখের সামনে দিয়ে একলোক মেয়েটাকে বিয়ে করে আমেরিকা নিয়ে চলে গেলো। ভীষন দুঃখ পেলাম। রাগে দুঃখে হেঁটে হেঁটে এয়ারপোর্ট চলে গেলাম। পকেটে টাকা ছিলো না। তাই হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরেই জ্বরে পড়লাম। চার দিন ভুগলাম।

এই পৃথিবীতে কেউ ঠিকঠাক বেঁচে নেই।
আবার পুরোপুরি মরেও যায়নি কেউ। অনেকে যা দেখতে পায় না আমি তা-ই দেখি। সেই মেয়েটা যদি এখন আমেরিকা থেকে ফিরে এসে আমার হাত ধরতে চায়। আমি তাকে স্পষ্ট মানা করে দিবো। বেশি বাড়াবাড়ি করলে হয়তো একটা থাপড় দিয়ে বসতে পারি। শুনেছি ওর স্বামীর মাথায় এখন চুল নেই। পুরো টাক। ভালো হয়েছে। নে এবার টাক স্বামীর ঘর কর। সে যাজগে, আজকাল আমার খুব ভুল হয়। অতীত বর্তমান সব মিলেমিশে যায়। পরশু দিন বিকেলে হঠাত বই পড়তে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্ন দেখলাম। দুইশ ' সাতান্ন বছর পেছনে চলে গেছি আমি। একজন বলল, এখন তোমাকে মরতে হবে। আমি মনে মনে বললাম, শালা বলে কি! ভয়ে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচলাম। মরতে ইচ্ছা করে না। এখন মরেও তো শান্তি পাবো না। ছোট মেয়েটার মাত্র দুই বছর। আমাকে ছাড়া সে আনন্দ নিয়ে বড় হতে পারবে না।

মরতে অবশ্য আমার কোনো ভয় নেই।
কিন্তু মেয়েটার কথা ভাবলে আমার মরতে ইচ্ছা করে না। সুরভির ঘুম ভেঙ্গেছে। নরম সুরে বললাম, এক কাপ চা কি পেতে পারি? সুরভি কিছুটা রেগে বলল, দাঁত ব্রাশ না করে কেউ চা খায়? কি যে বাজে অভ্যাস তোমার! সুরভির জায়গায় যদি সেই মেয়েটা থাকতো তাহলে সে-ও কি এখন সুরভির মতোন বলতো- 'দাঁত ব্রাশ না করে কেউ চা খায়? কি যে বাজে অভ্যাস তোমার!' যাইহোক, চায়ের কাপ হাতে নিলাম। কোনো কাজ নেই আমার। এজন্য অনেক কিছু খেয়াল করতে পারি। অনেক রকম শব্দ শুনতে পাই। অথবা কিছুই খেয়াল করি না। কোনো শব্দই শুনি না। সবটাই আমার ভুল। আমার নিজস্ব একটা ভুবন আছে। সেখানে কোনো সমস্যা নেই, অভাব নেই, দুঃখ কষ্ট নেই, হতাশা, হাহাকার কিছুই নেই। সেখানে আমি ঘুরে বেড়াই। গান গাই। আনন্দ করি। ধান চাষ করি। পুকুরে মাছ। গোয়াল ঘরে গরু। সব আমি এক হাতেই সামলাই।

আমি সক্কাল বেলাতেই লিখতে বসলাম।
যা মন চায় লিখব। কেউ ঠিকঠাক ভাবে বেঁচে নেই। অথচ সকলেই বেঁচে আছে। আমার কান্না পায়। কথায় যাবো আমি? সুরভি চায়ে চিনি কম দিয়েছে। চায়ে চিনি কম কেন হবে? ঘরে কি চিনি নেই? সুরভি কি ইচ্ছা করেই চায়ে চিনি কম দিয়েছে? নাকি চিনি ঠিকই আছে। দেশে কি চিনির টানাপোড়ন চলছে? টানাপোড়ন? নাকি সংসারে? সংসারে কি খুব অভাব চলছে? কে জানে! আমার ধান কই? মাছ কই? গোয়াল ঘরের গরু কই? আজ কি কোথাও কোনো সমাবেশ আছে? আছে কোনো মানববন্ধন? কে জানে? আমি জানি না। আমি শুধু জানি আজ আমার চায়ে চিনি কম হয়েছে। চায়ে চুমুক না দিয়ে আমি জানালার পাশে এসে দাঁড়াই। রোদ উঠেছে। চারপাশ বেশ স্বাভাবিক। কুয়াশা কেটে গেছে। আকাশে কয়েকটা পাখি উড়ছে। লোকজন হাঁটছে। সব স্বাভাবিক। শুধু আমার চায়ে চিনি কম হয়েছে। সারাটা দিন কেটে যাবে, শুধু বিস্বাদ চায়ের স্বাদ মুখে লেগে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:৩১
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অথচ সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল পানিকে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৫


তারেক রহমান এখন চীনে আছেন। গতকাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ করলেন। তিস্তা নদীর জন্য কারিগরি সহায়তা চাইলেন, নদীভাঙন ঠেকানোর উপায় খুঁজলেন, এমনকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×