somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

দৈনিক পত্রিকা

০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি দীর্ঘদিন পত্রিকা অফিসে চাকরী করেছি।
তাই পত্রিকা অফিসের খুটিনাটি সব কিছুই জানি। পত্রিকা বের করতে চাইলে সবার প্রথমে আপনাকে টাকার বস্তা নিয়ে বসতে হবে। কারন নতুন পত্রিকা বের করলেই আপনি পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন পাবেন না। সময় লাগবে। অনেক সময় লাগবে। খেয়াল করে দেখবেন যারা দৈনিক পত্রিকার মালিক তাঁরা বেশির ভাগই দূর্নীতিবাজ। তাদের টাকার অভাব নাই। অনেক দূর্নীতিবাজ কালো টাকাকে সাদা করার জন্য পত্রিকা বের করেন। এখন দৈনিক পত্রিকা ছাড়াও অনলাইন নিউজ পোর্টালও আছে। সৎ লোক পত্রিকা বের করতে পারবে না। পত্রিকা থেকে যে টাকা ইনকাম হবে সেই টাকা দিয়ে পত্রিকা অফিস চালানো যাবে না। বাংলাদেশে একমাত্র 'প্রথম আলো' বেশ ভাল ভাবেই টিকে আছে। ওদের ইনকাম অনেক। খরচও অনেক।

তথ্য মন্ত্রনালয় থেকে পত্রিকা বের করার অনুমতি নিতে হবে।
ঘুষ তো কিছু দিতে হবেই। তাঁরা আপনার পত্রিকা অফিস পরিদর্শনে আসবেন। সব মিলিয়ে অনুমতি পেতে পেতে ২/৩ বছর লেগে যাবে। এই ২/৩ বছর ডামি বের করে যাবেন। বিশাল বড় একটা অফিস নেবেন। তারপর সব বিভাগ আলাদা করবেন। যেমন সার্কুলেশন বিভাগ, বিজ্ঞাপন বিভাগ, নিউজ বিভাগ, একাউন্স ইত্যাদি। প্রতিটা বিভাগের জন্য একাধিক লোক নিয়োগ দিতে হবে। তবে যেন তেন লোক নিয়োগ দিলে হবে। সৎ, দক্ষ ও যোগ্য লোককে নিয়োগ দিতে হবে। যেমন খেলাধুলা, অর্থনীতি, রাজনীতি, সাহিত্য, শহর, গ্রাম ইত্যাদি বিষয়েরর কমপক্ষে দুজন করে লোক নিতে হবে। সরকারের প্রতিটা মন্ত্রনালয়ের জন্য একজন করে বিট সাংবাদিক নিয়োগ দিতে হবে। শেয়ার বাজারের জন্য কমপক্ষে দুইজন। ফোটোগ্রাফার ৪/৫ জন লাগে। সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে প্রতিনিধি নিতে হবে। একজন সম্পাদক নিয়োগ করতে হবে। যাকে সবাই চিনে, জানে, মানে।

এবার আসল কথায় আসি।
বাংলাদেশের লোকজন পত্রিকা খুব কম পড়ে। হাতের কাছে পত্রিকা পেলে দুই একজন চোখ বুলায় পত্রিকার পাতায়। কেউ কেউ অনলাইনে চোখ বুলায়। পত্রিকা বের করা সহজ। কিন্তু সেই পত্রিকা বের করে টিকে থাকা সহজ নয়। অনেকে ধুমধাম করে পত্রিকা বের করে তারপর সেই সব পত্রিকার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। যদি পত্রিকা মালিকের সীমাহীন টাকা থাকে তাহলে পত্রিকা চালু থাকবে। নইলে কদিন পর পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাবে। আবার সরকার পরিবর্তন হলে অনেক পত্রিকা উধাও হয়ে যায়। বাংলাদেশে কি নিরপেক্ষ কোনো পত্রিকা আছে? যাইহোক, বর্তমানে অনেক গুলো পত্রিকা ধুকে ধুকে টিকে আছে। অনেক অফিস তো ঠিক মতো সেলারিও দিতে পারছে না। বাংলাদেশের মতো দেশে শুধু মাত্র বিজ্ঞাপন দিয়ে পত্রিকা টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। হাতে গোনা কয়েটা বড় বড় প্রতিষ্ঠান ভালো বিজ্ঞাপন দেয়। এবং তাঁরা অনেক টাকা দেয়। সমস্যা হলো এই প্রতিষ্ঠান আবার সব পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় না। প্রথম সারির পত্রিকা ছাড়া তাঁরা বিজ্ঞাপন দেয় না। যারা বিজ্ঞাপন বিভাগে কাজ করে তাদের মূলত ছেচরা হতে হয়। গায়ের চামরা মোটা হতে হয়।

পত্রিকা অফিসের সার্কুলেশন বিভাগের লোকেরা সাক্ষাৎ চোর হয়।
ধান্দাবাজ হয়। এমনকি অনেক সাংবাদিক পর্যন্ত ধান্দাবাজ হয়। তাঁরা ধান্দাবাজি করার জন্যই পত্রিকা অফিসে জয়েন করে, অনেক পুলিশ যেমন ঘুষ খাওয়ার জন্য পুলিশে জয়েন করে, ঠিক তেমন। যাইহোক, সব অফিসেই দুচারজন করে চোর বা ধান্দাবাজ থাকেই। আপনি টাকার বস্তা হাতে নিয়ে পত্রিকা বের করুণ। হোক সেটা দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল অথবা সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন। কিছু আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকা আছে। ২/১ শ' কপি বের করে। এদের উদ্দেশ্য আলাদা। এদের কে আপনি টাকা দিলে যা বলবেন এরা তাই লিখে দিবে। এরা ফকিরাপুলের ছোট মেশিন থেকে পত্রিকা বের করে। কাগজের মান খারাপ। অসংখ্য বানান ভুল। অতি নিম্মমানের পত্রিকা। এগুলো কেউ পড়ে না। তবে ধান্দাবাজি করে এদের ইনকাম বেশ ভাল। বাংলাদেশে একটা দরিদ্র দেশ। দরিদ্র দেশের লোকজন ধান্দাবাজ হবে এটাই স্বাভাবিক।

সরকার ধান্দাবাজি করা পত্রিকা গুলো কেন বন্ধ করছে না সেটা আমি ভেবে পাই না।
অনেক পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার নতুন করে অনেক পত্রিকা চালু হচ্ছে। ইলেকট্রিক মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়া গুলো পরিচালনা করতে হলে সীমাহীন টাকা লাগে। এজন্য সীমাহীন টাকার মালিক ছাড়া কেউ টিভি চ্যানেল বা দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকাশ করতে পারে না। অবশ্য আজকাল কিছু ধান্দাবাজ অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে নানান রকম ধান্দাবাজি শুরু করেছে। সরকার এদের কোনো অনুমোদন দেয়নি। তবু তাঁরা ধুকে ধুকে টিকে আছে। বহু সাংবাদিক পত্রিকা অফিসে কাজ করে অবৈধ ভাবে অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে। ফ্লাট কিনেছে। গ্রামে পাকা বাড়ি করেছে। দুষ্টসাংবাদিকরা নিজেদের অপকর্ম ঢেকে রাখার জন্য সাহিত্যে নজর দিয়েছে। প্রতিবছর দু চারটা করে বই প্রকাশ করছে। সেই সব বই আবার নিজ খরচে দেশের গন্যমান্য ব্যাক্তিকে কুরিয়ার করে পাঠাচ্ছে। এভাই চলছে পত্রিকা অফিস গুলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১:১৩
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুকতারা

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১



তুমি আমাকে যে জায়গায় রেখে গিয়েছিলে, সেই জায়গাটা ধীরে ধীরে একটা ভূগোল হয়ে গেছে। সেখানে সময়ের নিজস্ব কোনো ঘড়ি নেই, ঋতুর আলাদা নাম নেই, কেবল স্থিরতা আছে, যেন দুপুরবেলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×