somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এই সমাজ- ৫২

২০ শে জানুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

১। আমরা যখন ছোট ছিলাম-
স্কুলে ভরতি হওয়ার আগেই মা, খালার কাছে দারুন সব ছড়া কবিতা শুনতাম। শুনতে শুনতে মুখস্ত হয়ে যেতো। আর এখনকার বাচ্চারা ইউটিউবে শুনে- ''আজ মঙ্গলবার/ ইদুরের জ্বর হয়েছে/ ইদুর গেলে ডাক্তারের কাছে/ ডাক্তার লাগালো সূই/ উই উই উই। এইসব রাইমস পড়ে বাচ্চারা কি শিখবে? আরেকটা রাইমস এরকমঃ বাবার পয়সা গোল গোল/ মায়ের রুটি গোল গোল/ দাদুর চশমা গোল গোল/ দিদার টিপ গোল গোল। বাচ্চারা ইউটিব ছেড়ে এসব শিখছে। বাচ্চার মা মোবাইলে বান্ধবীর সাথে গল্পে ব্যস্ত। বাচ্চার মা খুশি। কারন বাচ্চা তাকে জ্বালাতন করছে না। মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত আছে। এইসব বাচ্চা কাচ্চা ভবিষ্যতে কি করে ভাল মানুষ হবে?

২। গ্রামে আমাদের একজন কাকা আছেন।
আমরা গ্রামে গেলেই উনি সারাক্ষণ আঠার মতো লেগে থাকেন। কোনো কাম কাজ করেন না। যে পর্যন্ত কাকাকে দুইশ' টাকা না দিবো সে পর্যন্ত কাকা পেছন পেছন ঘুরঘুর করতেই থাকবে। টাকা দেওয়ার পর সে আরেকজনকে ধরবে। শহর থেকে গ্রামে গিয়েছি, কেন তাকে টাকা দিবো না। আর সে তো হাজার হাজার টাকা চাচ্ছে না। দুই শ' টাকা দিলেই খুশি। এরকম ৫/৬ জন দুই শ' করে টাকা দিলে তার অনেক টাকা হয়ে যায়। কিছু দিন আগে গ্রামে গিয়েছিলাম। কাকা পেছন পেছন ঘুরছেন। ফালতু সব কথাবার্তা সমানে বলে যাচ্ছেন। আমি প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছি। ভদ্রতার খাতিরে কিছু বলতেও পারছি না।

কাকাকে দুই শ' টাকা দিলাম।
কাকার অনেক বয়স। ৫০ বছর তো হবেই। ছেলে মেয়ে আছে। তাদের বিয়েও হয়ে গেছে। এই কাকাকে গ্রামের কেউ পছন্দ করে না। তার স্বভাবের কারনে। তাছাড়া কাকা গাঁজা খায় নিয়মিত। একদিন আমি বললাম, কাকা এই বয়সে গাঁজা কেন খান? কাকা বললেন, চল্লিশ বছর ধরে গাঁজা খাই। বাবা আমি তো গরীব মানুষ। পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে তো আর বোতল খেতে পারবো না। তাই সস্তা নেশা করি। পঞ্চাশ টাকা দিয়ে গাঁজা কিনি। বন্ধুবান্ধব নিয়ে খাই। গাঁজা নেয় পঞ্চাশ টাকা। সিগারেট কিনতে হয়। গাঁজা খাওয়ার পর খুব ক্ষুধা পায়। তখন দুধ রুটি খেলে মজা পাওয়া যায়। টাকার জন্য দুধ রুটি খেতে পারি না। মুডি খাই।

গত পরশু মোবাইল ফোনে খবর পেলাম-
কাকা এখন মসজিদে আযান দেয়। সারাদিনে পাঁচ বার। আমি প্রচণ্ড অবাক হলাম। কাকা কিভাবে আযান দেয়! সে তো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। স্পষ্ট উচ্চারনে কথা কইতে পারে না। অতি সাধারন কথা বলতে গিয়ে জড়িয়ে ফেলে। আর এই গাঁজা খাওয়া কাকা আযান দিচ্ছে! কাকা এখন মোয়াজ্জিন। কাকা লেখাপড়া জানে না। একদিন গ্রামে গেলাম। দেখি মসজিদ ঘর থেকে ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় কাকা আযান দিচ্ছেন। মাইকে আওয়াজটা বড় অদ্ভুত শোনাচ্ছিলো। মনে মনে ভাবলাম কাকা বোধহয় গাঁজা খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কাকা এলেন। বললাম, কাকা খুব ভাল কাজ করছেন। আযান দিচ্ছেন। এটা অনেক ভাল কাজ।

কাকা বললেন, গাঁজা খাওয়ার পর খুব গান গাইতে ইচ্ছা করে।
কিন্তু আমার গলার অবস্থা ভাল না। তাছাড়া আমি গান গাইলে গ্রামের মানুষ বিরক্ত হয়। লাঠি দিয়ে তাড়া করে। এখন গাঁজা খেয়ে আযান দেই। গ্রামের মানুষ মনে করে আমি এখন 'লাইনে' এসেছি। আল্লাহর পথে এসেছি। এজন্য তাঁরা আমাকে খাতির করে। এর বাড়ি ওর বাড়ি গেলে বসতে দেয়। চা নাস্তা দেয়। তাছাড়া ইমামের সাথে সাথে থাকি। প্রতি সপ্তাহে কোথাও না কোথাও দাওয়াত থাকেই। দাওয়াত খাইয়ে আবার হাতে কিছু টাকাও গুজে দেয়। এই পদ্ধতি যদি অনেক আগে জানতাম তাহলে এত দিনে আমি অনেক টাকার মালিক হয়ে যেতে পারতাম। টাকার পথ চিনলাম শেষ বয়সে এসে। আফসোস।

৩। আমাদের পাশের বাসায় ঝগড়া হচ্ছে।
অতি কুৎসিত ঝগড়া। তাদের মুখের ভাষা বস্তির মহিলাদের মতোন। অথচ তাঁরা শিক্ষিত পরিবার। ভদ্র পরিবার বলে জানতাম। শ্বাশুড়ি ছেলের বউকে মাগী বলে গালি দিয়েছে। এবং বলেছে, তোর মা-ও মাগী। তুই এবং তোর মায়ের স্বভাব খারাপ। শ্বাশুড়ির কথা শুনে ছেলের বউ খুব রেগে গেছে। ঝাড়ু এনে শ্বাশুরিকে বললো- এখন তোকে ঝাড়ু দিয়ে মারবো। শ্বাশুড়ি বলল, তুই তোর বাপের জন্মের না। বউ বলল, তুই যৌবনে কত ব্যাটাদের সাথে সিনেমা দেখতে গেছিস মহল্লার মানুষ সব জানে। এলাকার মানুষজন বউ শ্বাশুড়ির ঝগড়া মন দিয়ে শুনছে। বুঝা যাচ্ছে তাঁরা খুব মজা পাচ্ছে। তাদের চোখে মুখে আনন্দ ঝলমল করছে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৩:৪৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু ছবি ‍কিছু কথা-----------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

-----------------



ব্লগে পোস্ট দিব দিব করে আর দেওয়া হচ্ছে না্। ঈদের ছুটিতে প্রায় ১৫ দিন ছিলাম গ্রামের বাড়ি। তখনও লিখবো করে আর মোবাইল হাতের কাছে পাই না..........বাচ্চা কাচ্চা খেলা ধুলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×