somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১১১

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

ঠিক রাত তিনটায় প্রতিদিন গজব অবস্থা হয়।
আমাদের বাড়ির সামনে এবং পেছনে দুটা বাড়ি। সামনের বাড়িতে তাঁরা ছাদে হাঁস মূরগী লালনপালন করে। পেছনের বাড়ির ছাদে লালন পালন করে নানান রকম পাখি। মনে হয় তাঁরা ছাগল আর বানরও পালে। ঠিক রাত তিনটায় হাঁস প্যাঁক প্যাঁক করে ডাকে। ডাকতেই থাকে। হাঁসের দেখাদেখি মোরগ ডাকে। যেন পাল্লা দিয়েছে। হাঁস মূরগীর দেখাদেখি পেছনের বাড়ির ছাদে যেন যুদ্ধ শুরু হয়। ছাগল আর বানরের দৌড়ঝাঁপ। আর কিছু পাখির বিশ্রী ডাক। কি পাখি কে জানে! আমি তো জানতাম পাখি মিষ্টি সুরে ডাকে। এইসব যন্ত্রনার কারনে আমার ঘুমের সমস্যা হয়। কিন্তু কি করবো? কাকে বলব? তাই চুপ করে সহ্য করে যাই। বাসার কাছেই মসজিদ শেষমেষ হুজুর আমার কানের কাছে মাইকে আযান দেয়। সবাই মিলে ঠিক করেছে কেউ আমাকে শান্তিতে ঘুমাতে দেবে না।

আমি সাধারণত অতি ভদ্র একটা ছেলে।
নিজের সমস্যার বা অসুবিধার কথা কাউকে বলি না। আশে পাশে অনেক বাড়ি ঘর আছে, পশু পাখির শব্দে তাদেরও নিশ্চয়ই ঘুমের সমস্যা হয়। তারাও তো কিছু বলে না। নাকি আসলে কোনো শব্দই হয় না। আমার মনের ভুল। অথবা আমি তখন গভীর ঘুমে থাকি। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে পশু পাখির শব্দ শুনি। না স্বপ্ন নয়। কারন ঐ দুই বাড়ির দাড়োয়ানকে কে আমি চিনি। দাড়োয়ান আমাকে বলেছে, তাঁরা ধনী লোক। ধনী লোকের অনেক রকম শখ থাকে। তাদের শখ ছাদের মধ্যে হাঁস মূরগী পালন। আর তাদের শখ ছাদে বিদেশী পাখি পালন। মানুষের শখের শেষ নেই। আমারও তো কত অদ্ভুত অদ্ভুত শখ আছে। কিন্তু আমার শখ কাউকে যন্ত্রনা দেয় না।

বাংলাদেশে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে নতুন দুটো স্থান যুক্ত হয়েছে।
পদ্মাসেতু এবং মেট্রোরেল। বহু লোক আয়োজন করে বউ বাচ্চা নিয়ে পদ্মাসেতু আর মেট্রোরেল দেখতে যায়। ঢাকা শহরে যখন প্রথম উড়াল সেতু হলো- তখন দেখা যেতো গাড়ির চেয়ে মানুষের সংখ্যা বেশি। সন্ধ্যার পর তো ফ্লাইওভার পুরো জমজমাট। কেমন মেলা বসে গেছে। ধুমছে বাদাম বিক্রি হচ্ছে। চা বিক্রি হচ্ছে। চিতই পিঠা বিক্রি হচ্ছে। আইসক্রীম বিক্রি হচ্ছে। পুরো ফ্লাইওভার একেবারে নোংরা করে ফেলেছে। ফ্লাইওভারে আড্ডা প্রিয় বাঙ্গালীরা আড্ডা দেয় মধ্যরাত পর্যন্ত। মাসের পর মাস একই অবস্থা। তখন পুলিশ এসে এই আড্ডা ভাঙ্গে। এবং হকারদের পিটিয়ে ফ্লাইওভার থেকে নামায়। এখনও অনেককে ফ্লাইওভারে সন্ধ্যার পর দেখা যায়, বাইক থামিয়ে, বাইকের আড়ালে প্রেমিক প্রেমিকা বসে আছে ঘনিষ্ট ভাবে। প্রায়ই সেখানে ছিনতাই হয়।

চোখে সমস্যা। গেলাম ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার চশমা দিলেন।
এখন আমি বই পড়তে পাড়ি। বেগ পেতে হয় না। এতদিন কি কষ্ট করেই না বই পড়তে হয়েছে। আসলে আমি জানতান'ই না যে আমার চোখে সমস্যা। আমার মাথা ব্যথা করতো। লম্বা সময় ধরে মাথা ব্যথা করতো। তখন একজন বললেন, তোমার চোখে সমস্যা। আমি রেগে গেলাম। বললাম, চোখে সমস্যা হলে চোখ ব্যথা হতো। আমার ব্যথা মাথা। এরপর মা বলল, হ্যাঁ তোমার চোখে সমস্যা। গেলাম চোখের ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার আমাকে পড়তে দিলেন। একদম ছোট ছোট লেখা। কাগজটা চোখের সামনে নিয়ে পড়তে চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। ডাক্তার বললেন বুঝতে পেরেছি। এরপর চশমা। আপনাদের গোপনে বলি- আমি চশমা পড়ি না। বিরক্ত লাগে। মা জিজ্ঞেস করলে বলি হ্যাঁ চশমা পড়ি তো।

নতুন কোনো লেখকের বই বের হলে, সবাই তাকে শুধু শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন জানায়।
ব্যাপারটা খুব দুঃখজনক। সহজ সরল সত্য কথা হলো- লেখকরা শুধু শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন চায় না। নতুন লেখক চায় সবাই এক কপি করে তার বই কিনুক। শীতের বুড়ি ফেরত যাওয়ার রাস্তা খুঁজছে। প্রকৃতিতে লেগেছে ফাগুনের ছোঁয়া। নতুন বইগুলোকে ঘিরে লেখক-পাঠক-প্রকাশকেরা সব্বাই ভীষণ ব্যস্ত। মেলায় লেখক পাঠক হাত নেড়ে নেড়ে খুব গল্প করে, আমি দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি। খুব ভালো লাগে। প্রতিদিন চায়ের কাপের পাশে বই থাকুক, মনিটরের পাশে থাকুক বই, বিছানায় বালিশের পাশে থাকুক বই, বই থাকুক বাথরুমে, জ্যামের বাসে, কিবা যাত্রা পথে। ইলেকট্রিক বিল অথবা ব্যাংকে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে আপনার হাতে একটা বই থাকতেই পারে। সময়কে উপভোগ করতে চান বা সময় থেকে পালিয়ে থাকতে চান বই হোক শ্রেষ্ঠ সঙ্গী।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ১০:৪৯
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×