somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার সাথে ঘটে যাওয়া ভূতুড়ে সত্যি ঘটনা

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ ইউটিউব।

১। বিয়ের পর হানিমুনে কক্সবাজার গেলাম। সারাদিন বউকে নিয়ে ঘুরে বেড়ালাম। ইনানী বিচ গেলাম। সমুদ্রের পাড়ে হেঁটে বেড়ালাম। বার্মিজ মার্কেটে গেলাম। সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরলাম। চাবি দিয়ে রুমের দরজা খুলতেই- দেখি আমার বউ ঘরের মধ্যে। সে ভীষন রাগ করেছে। বলল, আমাকে ঘরে রেখে তুমি সারাদিন কোথায় ছিলে? আমি তো অবাক! পাশে তাকিয়ে দেখি আমার বউ আমার পাশে নেই। অথচ দুরজা খোলার আগেই আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো। খাটে বসে থাকা বউকে বললাম- স্যরি। খুব স্যরি। আমি একজন আধুনিক মানুষ। আমার মধ্যে কোনো কুসংস্কার নেই। অথচ অনেক চিন্তা ভাবনা করেও আমি এই ঘটনার ব্যাখ্যা পাইনি। আমার বউ যদি রুমেই থাকে, তাহলে সারাদিন আমি কার সাথে ঘুরে বেড়ালাম? মেয়েটা তো আমার সাথেই ছিলো। হঠাত করে কোথায় চলে গেলো?

২। সৌদি থাকে আমার বন্ধু জাহাঙ্গীর। আমরা একই স্কুলে পড়েছি। দারিদ্রতার কারনে বন্ধু চলে যায় সৌদি। সেখান থেকে সে আমাকে নিয়মিত ফোন দেয়। ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে। কেউ দেশে ফিরলেই জাহাঙ্গীর আমার জন্য খেজুর, জমজম পানি ইত্যাদি পাঠিয়ে দিতো। যাইহোক, টানা ছয় বছর সে সৌদি থাকলো। এবার দেশে ফিরবে। এখন তার আর্থিক অবস্থা অনেক উন্নত। নারায়নগঞ্জে জমি কিনে বাড়ি করেছে। মেয়ে ঠিক করে রাখা হয়েছে, দেশে ফিরে সে বিয়ে করবে।

আমার বন্ধু দেশে আসার দুদিন আগে স্ট্রোক করে মরে গেলো। এই ঘটনায় আমি ভীষন কষ্ট পেলাম। সৌদি থেকে দেশে লাশ ফিরিয়ে আনতে এক মাসের বেশি সময় লাগলো। যখন আমি একা থাকি, তখন প্রায়ই জাহাঙ্গীর আমার কাছে আসে। প্রথম প্রথম ভয় পেতাম। এখন আর ভয় পাই না। একদিন আমি দুপুরবেলা রমনা পার্কে বসে আছি। জাহাঙ্গীর আমার পাশে এসে বসলো। চুপচাপ। কোনো কথা না। এরপর একদিন রাতে আমি সিগারেট খেতে ছাদে গিয়েছি, দেখি বন্ধু জাহাঙ্গীর। গত পরশু বাসায় কেউ নেই। আমি একা। কি কারনে বসার ঘরে এসেছি। দেখি বন্ধু জাহাঙ্গীর সোফায় বসে আছে। আমি বিশ্বাস করি দুনিয়াতে কারন ছাড়া কিছুই ঘটে না। মৃত মানুষ ফিরে আসতে পারে না। এগুলো নিশ্চয়ই আমার অবচেতন মনের কারসাজি।

৩। এটা আমার বিয়ের আগের ঘটনা। বাসার সবাই নাটোর গিয়েছে। ছোট চাচার বিয়ে। আমি যাইনি। আমার জন্য মা খাবার রান্না করে ফ্রিজে রেখে গেছে। জাস্ট ওভেনে গরম করে খেলেই হবে। মাঝে মাঝে আমাকে চরম আলসেমিতে পায়। খাবার গরম করতে হবে, এই কারনে না খেয়েই ঘুমাতে গেলাম। হঠাত ঘুম ভেঙ্গে গেলো। কে যেন কলিং টিপছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত দুতো। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে খুব। আমি দরজা খুলে দেখি এক সুন্দর মতো মেয়ে দাড়িয়ে আছে। সুন্দর একটা শাড়ি পরা। শাড়ি ভেজা। গায়ের সাথে লেপটে আছে। মেয়েটার চুলে বেলী ফুল। সুন্দর গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমি বললাম, আপনি কে? মেয়েটা বলল, আগে ঘরে ঢুকতে দাও। দেখো না ভিজে গেছি। টাওয়াল দাও। গরম এক মগ চা দাও। আমরা চা খেলাম। অনেক গল্প করলাম।

সকালে আমি ঘুম থেকে উঠলাম। সাথে সাথে আমার মেয়েটার কথা মনে পড়লো। কি সুন্দর স্বপ্ন দেখলাম! দারুন রোমান্টিক স্বপ্ন। মনট বেশ খুশি খুশি লাগছে। বিছানা গুছাতে গিয়ে দেখি আমার বালিশের নিচে বেলী ফুল। বেলি ফুল কোথা থেকে এলো? তার মানে মেয়েটা সত্যি এসেছিলো? মেয়েটার চুলে আমি বেলী ফুল দেখেছি। নাটক সিনেমায় এরকম হয়। বাস্তবে এরকম হয় না। বেলী ফুল কোথা থেকে এলো আমার ঘরে বালিশের নিচে? বাসায় তো আমি ছাড়া আর কেউ নেই! এই বেলী ফুলের রহস্য আমি আজও সমাধান করতে পারিনি। মাঝে মাঝে এরকম অলৌকিক ঘটনা ঘটে বলেই জীবন সুন্দর।

৪। ছোটবেলার কথা। স্কুল থেকে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছি। বেশ ক্ষুধা পেয়েছে। ইচ্ছা করছে মোরগ পোলাউ খেতে। মনে মনে ভাবছি মা কি আজ মোরগ পোলাউ রান্না করেছে? ঠিক তখন কোথা থেকে একলোক এলো। অদ্ভুত পোশাক পরা। মাথার চুল লম্বা। সে আমার হাতে এক প্যাকেট খাবার দিলো। বাসায় এসে দেখি- প্যাকেটে মোরগ পোলাউ। আর মা রান্নাই করেনি। মার শরীর ভাল না। এরকম ঘটনা আমার জীবনে বহু আছে। একদিন সন্ধ্যায় মাঠ থেকে খেলাধূলা করে বাসায় ফিরছি। বেশ ক্ষুধা পেয়েছে। পটেটো চিপস খেতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু পকেটে টাকা নেই। মন খারাপ করে বাসায় ফিরছি। আমাদের বাসার গলিতে ঢুকতেই দেখি একটা চিপসের প্যাকেট। কে রাখলো আমার চলার পথে চিপসের প্যাকেট? এরকম তুচ্ছ ঘটনা গুলো কে ঘটায়? ঈশ্বর?

সেন্টাল স্কুলের মাঠে আমি ফুটবল খেলতাম। সেই সময় মাঠের এক কোনায় একটা পুকুর ছিলো। একদিন দুপুর বেলা মাঠে ফুটবল খেলছি। সেদিন ছিলো শুক্রবার- আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমার বল টি মাঝ পুকুরে চলে যায়। জুম্মার নামাজের জন্য পুরো মাঠ ফাঁকা হয়ে গেছে। আমি আমার বল আনতে পুকুরে নামি। এবং ডুবে যাই। আমি সাঁতার জানি না। পুকুরে ডুবে যাওয়ার পর একটা মেয়েকে দেখতে পাই। মেয়েটা ভীষন সুন্দর। সে আমাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে। এইসব ঘটনার কোনো ব্যখ্যা পাই না। সম্ভবত এসব আমার অবচেতন মনের কল্পনা। কার্যকারন ছাড়া দুনিয়াতে কিছুই ঘটে না।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ২:৩৪
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×