somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নামাজ না পড়লে বাস্তব জীবনে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবিঃ আমার তোলা।

নিয়মিত নামাজ পড়লে কি হবে? কিছুই হবে না।
নামাজ কি? উঠবস করা। আমাদের গ্রামে সোলেমান নামে একলোক সারা জীবনে কোনোদিন নামাজ পড়েন নি। এমনকি জুম্মা নামাজও না। ঈদের নামাজও না। শবে বরাতের রাতেও না। সে খুব ভালো একজন ভালো মানুষ ছিলেন। মানবিক মানুষ। হৃদয়বান মানুষ। যে কারো বিপদে এগিয়ে যেতেন। হোক সে হিন্দু বা মুসলিম। সে মানুষকে 'মানুষ' হিসেবে দেখতো। ধর্ম দিয়ে বিচার করতো না। উনি ৮৫ বছর বয়সে মারা যান। তার কোন অসুখ বিসুখ হয়নি। ঘুমের মধ্যে মারা যান। সুন্দর মৃত্যু। উনার মৃত্যুতে সারা গ্রামের মানুষ কেদেছিলো। নামাজ না পড়েও তিনি মানুষের স্বচ্ছ ভালোবাসা পেয়েছেন।

আমার পরিচিত একলোক। আব্দুল্লাহ নাম।
সে-ও আমাদের গ্রামের। তার জ্ঞান হওয়ার পর জীবনে কোনোদিন নামাজ মিস করেননি। চলন্ত ট্রেনে, বাসে, লঞ্চে নামাজ পড়েছেন। তিনি বলতেন, সময় মতো নামাজ না পড়তে পারলে শান্তি পাই না। লোকটা অনেক গরীব ছিলো। সারাটা জীবন তার অভাবে অভাবে কেটেছে। টাকার অভাবে তিনবেলা পেট ভরে খেতে পারেন নি। মানুষের দয়ায় কেটেছে তার জীবন। তার পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করেছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি আব্দুল্লাহ। তার মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামি ছিলো ব্যাপক। দীর্ঘদিন অসুখে ভূগে মারা যান। অবাক ব্যাপার হলো তার জানাজায় মানুষ হয়েছিলো মাত্র এগারো জন। একজন নামাজী মানুষের মৃত্যুতে মাত্র এগারো জন কেন হবে? কারন নামাজ পড়লেও উনি ছিলেন ভীষন দুষ্টলোক।

নামাজ মানুষকে কিছু দেয় না।
আপনি যদি কাজ করেন, পরিশ্রম করুণ। তবেই জীবনে সফলতা আসবে। তবে নামাজ খুব ভালো ব্যয়াম। আপনি চিন্তা করে দেখুন, প্রতিদিন পাঁচ বার যদি আপনি উঠবস করেন তাতে আল্লাহর কি উপকার হবে? আপনারই বা কি উপকার হবে? আপনি মানুষ, তাই মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। আপনি যদি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান আল্লাহ খুশি হবেন। একজন ক্ষুধার্থ মানুষকে পেট ভরে খাওয়ান- তাহলে প্রভু খুশি হবেন। আপনি যদি একজন বেকারকে চাকরী দিয়ে দেন তাহলে আল্লাহ্‌ খুশি হবেন। আপনি যদি একজন দরিদ্র পিতা মাতার সন্তানকে স্কুলে ভরতি করিয়ে দেন তাহলে আল্লাহ খুশি হবেন। অযথা উঠবস করলে তাতে আল্লাহর কোনো লাভ নাই। আল্লাহকে খুশি করতে হলে আগে নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তারপর ভালো ভালো কাজ করতে হবে। নামাজ পড়া তো সহজ। যে কেউই পারে। একজন রিকশাচালক পারে, একজন সবজি বিক্রেতা পারে, একজন দোকানদার পারে। মানুষের জন্য, সমাজের জন্য- ভালো কাজ করতে পারে কয়জন?

আমি নামাজ পড়েছি, চিল্লায় গিয়েছি, হজ্ব করেছি, ইজতেমায় গিয়েছি।
তাতে কি হয়েছে? কিছুই হয় নাই। হবেও না। যারা এগুলো করে নাই জীবনে তাঁরা দিব্যি বেঁচে আছে। ভালো আছে। সুস্থ আছে। নামাজ না পড়লে বাস্তব জীবনে কোনো ক্ষতি নাই। এমন না যে নামাজ পড়লে আপনার আয় রোজগার বেড়ে যাবে। আবার নামাজ না পড়লে আয় রোজগার কমে যাবে। ঘটনা তা না। অনেকে মনে করেন নামাজ পড়লে বেহেশতে যাওয়া যাবে। ভুল চিন্তা। নামাজ বেহেশতের চাবি একথা কোরআনে লেখা নাই। আছে হাদিসে। আর হাদীস বেশির ভাগই মিথ্যা, বানোয়াট। কারন, নবীজি মৃত্যুর ২/৩ শ' বছর হাদীস লেখা হয়েছে বানিয়ে বানিয়ে। হাদিসে কোনো লজিক নেই। নবীজি বলেন নাই- আমার মৃত্যুর ২/৩ শ' বছর পর তোমরা হাদীস লিখো। আর সেই মোতাবেগ জীবনযাপন করো। কাজেই মানুষ হয়ে জন্মেছেন, তাই ভালো কাজ করুণ। মহৎ কাজ করুণ। কুকুরের লেজ নিয়ে পড়ে থাকবেন না। মানুষের পেছনে লেগে থাকবেন না।

খেয়াল করে দেখবেন, মসজিদে কোন শ্রেনীর মানুষ বেশি নামাজ পড়তে যাচ্ছে।
দেখবেন অনেক বয়স্ক মানুষজন নামাজ পড়তে যাচ্ছে। কারন তাঁরা অবসর জীবনযাপন করছে। কোথাও যাওয়ার নেই তাদের। কোনো তাঁরা নেই। খেয়েদেয়ে কাজ নেই। তাই যায় মসজিদে। নামাজ পড়ে। নিজেকে ব্যস্ত রাখা আর কি। কোরআন শরীফে নামাজের কথা লেখা নেই। আর হাদীস তো বানোয়াট। নানান রকম ভুলে ও আজগুবি কথাতে ভরপুর। এজন্য নামাজ নিয়ে সিরিয়াস হওয়ার কিছু নাই। ভালো কাজ করুণ। নিজের লক্ষ্য ঠিক করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান। বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরন করুণ। সমাজের জন্য কিছু করুণ। তাতে আল্লাহ্‌ খুশি হবেন। হাশরের ময়দান চেলচেলাইয়া পার হতে পারবেন। বেহেশত নিশ্চিত। পরকাল হবে আনন্দময়।

(ইহা আমার লেখা নয়। শাহেদ জামালের লেখা। লেখাটি তার কাছ থেকে আমি সংগ্রহ করেছি। এবং আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। তার মনোভাব আপনাদের জানানোর জন্য। আমি শাহেদ জামালের সাথে একমত না। কিছুতেই না। আমি নিজে এই বিষয়টা নিয়ে লিখব।)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ১২:৫২
২১টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

never give up!!! চেষ্টাটা যেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হয়....

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১০



অনেকেই নিজের ভাগ্যকে দোষ দেন। বলেন- ''ভাই, ভাগ্য বিড়ম্বনায় আজ আমার এই অবস্থা।'' অনেককে এও বলতে শুনেছি- ''আজ ভাগ্য সহায় থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতাম।''
.
এইসব মানুষদের আমি বলি- ''শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেভার গিভ আপ!!!: দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের পিছনে বিনিয়োগ করুন, প্রধানমন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার খুব খুশির দিন হওয়ার কথা ছিলো। ব্রিটিশ একটি ভার্সিটিতে ৩য় বারের মতো মেন্টর হিসেবে সিলেক্টেড হয়েছি। এই আনন্দে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে পার্টি দেওয়ার কথা ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×