somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মুক্তমনা মানুষেরা কি পারবে সমাজের কুসংস্কার গুলো দূর করতে?

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সমস্যা হলো সমাজের সব মানুষ মুক্তমনা নয়।
বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেই আছে নানান রকম কুসংস্কার। সবচেয়ে বিপদজনক কুসংস্কার হলো- ধর্মীয় কুসংস্কার। ধর্মীয় কুসংস্কার সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। একটা শিশু বড় হয়- বাবা মায়ের ধর্মীয় গোঁড়ামি দেখে দেখে। তারপর এই শিশুর মধ্যে বাসা বাদে ধর্মীয় গোঁড়ামি। এর থেকে সে আর বেড়িয়ে আসতে পারে না। শিশুকে ভয় দেখিয়ে বড় করা হয়- তুমি এখন খাও, নইলে আল্লাহ গুনাহ দেবে। পাপ দেবে। তুমি এখন ঘুমাও, নইলে শয়তান এসে পড়বে। দুষ্টমি করো না- আল্লাহ রাগ করবে। প্রভুকে ভালোবেসে নয়, ভয় পেয়ে শিশুরা বড় হয়।

এই আধুনিক যুগে এসে মানুষ তাবিজ কবচে বিশ্বাস রাখে।
ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাস করে। রাতে খারাপ স্বপ্ন দেখলে হজুরের কাছে যায় পরামর্শের জন্য। হুজুর বলে- একটা মূরগী ছদকা দিতে। সেই মূরগী হুজুর চিবিয়ে চিবিয়ে খায়। অনেকে মানত করে সিলেট মাজারে ছাগল দিবে। একই ছাগল প্রতিদিন দশবার করে বিক্রি হচ্ছে। বাচ্চা পাঁচ বছর হয়ে গেছে কিন্তু বিছানায় মুতে, বাচ্চার বাবা মা নিয়ে যায় হুজুরের কাছে। হুজুর ফু দিয়ে দেয়। কেউ কেউ কাইতন শিশুর কোমরে দেয়। বাচ্চার ক'দিন পরপর অসুস্থ হয়, বাচ্চার বাবা মা রোজা রাখে। ধর্মীয় বেড়াজাল থেকে এই আধুনিক যুগে এসেও মানুষ বের হতে পারছে না।

একটি সুস্থ স্বাভাবিক সমাজ কি আদৌ সম্ভব?
সমাজের যারা অধিপতি, যারা সমাজ আধুনিক করবে, মানুষকে সচেতন করবে- তাদের মধ্যেই গোঁড়ামি দিয়ে ভরা। তাহলে এই সমাজ কুসংস্কারমুক্ত হবে কি করে? আপনি হাজার বলে কয়ে একজন কুসংস্কার বিশ্বাসী মানুষকে লাইনে আনতে পারবেন না। আমাদের দেশে পাঁচশ' মডেল মসজিদ করা হয় কিন্তু পঞ্চাশটা লাইব্রেরী করা হয় না। এখন আপনিই বলুন সমাজ কিভাবে বদলাবে? সমাজের সব মানুষের মধ্যে একটাই চিন্তা আমার পরিবার ভালো থাকুক, অন্যের পরিবার বন্যায় ভেসে যাক। শুধু মাত্র সঠিক শিক্ষাই পারে কুসংস্কার দূর করতে।

আমার কথা বলি- আমার মধ্যে কোনো কুসংস্কার নেই।
আমার বাচ্চা অসুস্থ হলে আমি মসজিদে মিলাদ পড়াই না। রোজা রাখি না। কোনো হুজুরের কাছে যাই না। তাবিজ কবচ তো দূরের কথা। ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তারের কথা মতো চলি। কিন্তু আমার খালাতো ভাইয়ের বাচ্চা অসুস্থ হলে- তাঁরা ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে হাতে কাইতন বাঁধে। জমজম পানি খাওয়ায়। রোজা রাখে। ছদকা দেয়। কোরআন পড়ে। বাচ্চা ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে সূরা পড়ে ফু দেয়। মাগরিবের আযানের সাথে সাথে ঘরের দরজা জানালা লাগাতে হয়, নইলে ঘরে শয়তান ঢুকে যাবে। এরকম চিন্তা ভাবনার মানুষ আজও আছে, বহু আছে।

মুক্তমনা মানুষেরা সমাজের ভালো চায়।
মুক্তমনা মানুষেরা চায়- মানুষ আধুনিক হোক। তাদের চিন্তা ভাবনা উন্নত হোক। তাদের মধ্যে থাকা কুসংস্কার গুলো দূর হোক। উন্নত দেশের একটা শিশু যেভাবে সঠিক আধুনিক শিক্ষা পেয়ে বড় হয়, আমাদের দেশের শিশুরা সঠিক ও আধুনিক শিক্ষা পেয়ে বড় হচ্ছে না। কারন তাদের বাপ মায়ের মধ্যেই নানান রকম কুসংস্কার দিয়ে ভরা। এক বাচ্চা খেলা করতে গিয়ে জানালার গ্রিল থেকে পড়ে গেছে। তাদের বাবা মায়ের ধারনা শয়তান বাচ্চাটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। এখন ঘরে সোনা রুপার পানি ছিটাও। ধর্মীয় শিক্ষার চেয়ে বেশি জোর দিতে হবে আধুনিক শিক্ষায়। মাদ্রসা সমাজের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ দুপুর ২:১১
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩২

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?


গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি মৌলিক নীতি হলো- অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে আদালতে, প্রমাণের ভিত্তিতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কোনো রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×