somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রিয় কন্যা আমার- ৫২

০৩ রা এপ্রিল, ২০২৩ বিকাল ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রিয় কন্যা আমার-
সন্ধ্যার পর যখন তোমাকে নিয়ে হাঁটতে বের হই, তখন নিজেকে একজন সুখী মানুষ বলে মনে হয়। তোমাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে আমার খুব ভালো লাগে। সেদিন তুমি বললে তোমার বাসে চড়তে ইচ্ছা করে। একটা বাসে উঠে পড়লাম। ইফতারীর পর, রাস্তায় জ্যাম নেই। মুহুর্তে রমধ্যে চলে গেলাম কাওরান বাজার। বাস থেকে নেমে চলে গেলাম বসুন্ধরা মার্কেটে। খোলামেলা মার্কেট। তুমি মনের সুখে সারা মার্কেট ঘুরে বেড়ালে। বিএফসি'র চিকেন খেলাম আমরা দুজনে। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১১ টা বেজে গেলো। এদিকে তোমার মা চিন্তায় শেষ। সে বেশ কয়েকবার ফোন করেছিল। আমি শুনতে পাইনি।

এখন প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর তোমাকে নিয়ে বাইরে যাচ্ছি।
বাইরে বের হলেই তুমি বলো- বাবা রিকশা। রিকশা করে আমরা অনেক দূর চলে যাই। তোমার মা বলে, ফারজাকে বাইরের কোনো খাবার দিবে না। অথচ তুমি বাইরে বের হলেই এটা সেটা খেতে চাও। আমি তোমাকে লুকিয়ে কিছু খেতে দেই। অন্যদিকে তোমার মা কখনও তোমাকে বাইরের খাবার এলাউ করে না। সে তোমাকে সোয়াবিন তেল পর্যন্ত খাওয়ায় না। একটা ডিম ভাজলেও ঘি দিয়ে ভেজে দেয়। সেই ঘি আবার আনা হয় কুষ্টিয়া থেকে। সরিষার তেল আনা হয়- সাভার থেকে। সিএসডি থেকে তোমার জন্য আনা হয় মাছ, মাংস ডিম। আমি যখন ছোট ছিলাম আমার বাবা মা খাবার নিয়ে এত বাছাবাছি করতো না।

ফারাজা প্রিয় কন্যা আমার-
আমার ইচ্ছা করে এখনই তোমাকে কোনো স্কুলে ভরতি করিয়ে দেই। ইউনিফর্ম পড়ে তুমি স্কুলে যাবে। তুমি সব কথা বলতে পারো। দুই একটা ছড়া কবিতাও শিখে গেছো। এখন তোমাকে স্কুলে ভরতি নিবে না। কারন তোমার এখনও তিন বছর হয়নি। মাত্র দুই বছর চার মাস চলছে। তোমার বড় বোন পরীর সাথে তোমার কোনো মিল নেই। সে উত্তর মেরু, তুমি দক্ষিন মেরু। তোমার বড় বোন পরী পড়ালেখা ছাড়া কিচ্ছু বুঝে না। সে কোথাও যেতে চায় না, তার লেখাপড়া ক্ষতি হবে বলে। সে রোজা রাখে, মাথায় হিজাব পড়ে। আর কিছুদিন পর সে কোরআন খতম দেবে। অন্যদিকে সে স্কুলে ভালো রেজাল্ট করছে।

ফারাজা তাবাসসুম খান-
সেদিন তোমাকে একটা পুতুল কিনে দিয়েছি। এই নিয়ে তোমার পুতুলের সংখ্যা নয়। প্রতিটা পুতুলের তুমি নাম রেখেছো। পিংকু, অরু, চিকু, চিপ্পু ইত্যাদি। পুতুলের এরকম নাম তুমি কেন দিলে আমি জানি না। আমার সাথে বাইরে গেলে সাথে করে অরুকে নিয়ে যাচ্ছো। এযুগের সব বাচ্চাদের প্রিয় খেলনা হচ্ছে মোবাইল। তাঁরা মোবাইলে হাতে নিয়ে টিকটক, ইউটউব চালাতে পারে। প্রায় সব মা বাচ্চাদের খাওয়ানোর সময় ইউটিউবে বাংলা রাইম ছেড়ে দেন। তাহলে বাচ্চাদের খাওয়ানো কিছুটা সহজ হয়। আমি খেয়াল করে দেখেছি, তুমি ইউটিউবে কার্টুন গুলো মুগ্ধ হয়ে দেখো। কিন্তু মোবাইল বাচ্চাদের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর।

প্রিয় ফারাজা-
লেখা এখানেই শেষ করছি। রমজান মাস চলছে। আর কিছুক্ষন পর ইফতারীর সময় এসে যাবে। আমাদের বাসায় ইফতারী বানানো হয়। তবু কিছু কিছু আইটেম দোকান থেকে কিনে আনতে হয়। বাসার বানানো হালিম আমার ভালো লাগে না। বাসার বানানো চিকেন ফ্রাই টাও আমার ভালো লাগে না। তুমি প্রতিদিন আমাদের সাথে ইফতার খেতে বসো। তোমাকে একটা প্লেটে সব কিছু সাজিয়ে দেওয়া হয়। তোমার যেটা পছন্দ সেটা তুমি খাও। আমি আর তুমি পাশাপাশি বসে ইফতারী করি। বড় ভালো লাগে। আমি আরো ২৫ বছর তোমার পাশে বসে ইফতারী করতে চাই। আল্লাহ কি আমার আশা পূরন করবেন?

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৩ বিকাল ৪:১০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রশ্নের আগুন যুক্তির মহাযাত্রা :প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য ২য় পর্ব ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:০৮


আদিতে ছিল প্রশ্ন
অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়িয়ে মানুষ
চেয়ে দেখেছিল নক্ষত্রের দিকে
মনে তার জেগেছিল বিস্ময়
কে জ্বালালো এই দীপ
কেন ঘোরে পৃথিবী, কেন নামে বৃষ্টি
কেন জন্ম, কেন মৃত্যু
কেন এই অনন্ত চলা?
উত্তর ছিল না হাতে
ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্টের দেশে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:২৮


বাংলাদেশে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখতে ভালোবাসেন, তারা সাধারণত খুব নিরীহ বিষয় পছন্দ করেন। এর একটা কারণও আছে। বেশিরভাগ মানুষই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলতে চান। এমন কোনো বিষয় নিয়ে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না - সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




মিরপুর-১ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সরকারের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে করি। তবে পদত্যাগের নির্দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরারী বিকেল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫

বাংলা বর্ষপঞ্জীর ষষ্ঠ মাস, আশ্বিনের শুরু থেকেই দিনের ‘বিকেল বেলা’ টা আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে। আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আহ্নিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের রসায়নবিদ, Case File 02 — সিউলের অসমাপ্ত গুলি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৯


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ১৯৭৪ সালের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ঐতিহাসিক হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে পটভূমি হিসেবে নিয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম থ্রিলার। ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও ঘটনার পাশাপাশি প্রফেসর রেহান আশরাফ, তাঁর পরিকল্পনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×