somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমার জীবনে অস্বাভাবিক কিছু ঘটনা

২১ শে মে, ২০২৩ দুপুর ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। একবার মতিঝিল সেন্টাল স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলছিলাম।
তখন আমি অনেক ছোট। ৬/৭ বছর হবে হয়তো। হঠাত দেখি মাঠে কেউ নেই। আমি একা। অথচ একটু আগে অনেকেই মাঠে খেলছিলো। অনেক বড় মাঠ। চিন্তা করলাম বাড়ি ফিরে যাই। তখন শুরু হলো- হঠাত ঝড়। অথচ একটু আগেই কড়া রোদ ছিলো। মাঠের একপাশে একটা পুকুর। ছোট পুকুর। বাতাসের ধাক্কায় আমি পুকুরে পড়ে যাই। জানি না সাঁতার। ডুবে যাচ্ছিলাম, তখন সুন্দর মতো একটা মেয়ে আমাকে বাঁচায়। মেয়েটা পানির মধ্যেই ছিলো। এই ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা আমি পাইনি। অথচ আমি একজন কুসংস্কার মুক্ত আধুনিক মানুষ। আমার দুনিয়া লজিকময়।

২। আমার এক বন্ধু স্ট্রোক করে মারা যায় সৌদি আরব।
বন্ধুর মৃত্যু আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। কাছের বন্ধু ছিলো। একদিন বাসায় কেউ নেই। রাতের বেলা। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে তুমুল। আমি ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে বসার ঘরে এসে দেখি- আমার মৃত বন্ধু বসে আছে। ঘরে টিভি চলছে। বন্ধুকে দেখে খুব খুশি লাগলো। আমার মনেই ছিলো না, বন্ধুটি দু বছর আগে সৌদিতে স্ট্রোক করে মারা গেছে। আমি বন্ধুর পাশে বসে গল্প করছি। বন্ধু কিছু বলে না। যেন তার মন খারাপ। আমি একাই কথা বলে যাচ্ছি। রাত দুটায় আমি ঘুমাতে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বন্ধু কোথাও নেই। থাকার কথাও না। মৃত মানুষ ফিরে আসে না। এই বন্ধুকে আমি আরো দুবার দেখেছি। সেই ঘটনা অন্য কোনো সময় বলব।

৩। এটা কিছুদিন আগের ঘটনা।
আমার আব্বা করোনা'তে মারা গেছে। আব্বা মারা গেছে এটা আমি সম্পূর্ন ভুলেই গেছি। মনে হয়, বেঁচে আছে, ঢাকার বাইরে আছে। একদিন এক কাজে কুমিল্লা যাবো। বাসে যেতে ইচ্ছা করছিলো না। আব্বাকে ফোন দিয়ে গাড়ি পাঠাতে বললাম। আব্বা গাড়ি পাঠালো। উল্লেখ্য আমার বাবা গাড়ির বিজনেস করতো। যাইহোক, আব্বা গাড়ি পাঠালো। আমি কুমিল্লা গিয়ে আমার কাজ সেরে ঢাকা ফিরলাম। তিন দিন পর আমার মনে পড়লো, আরেহ আমি কাকে ফোন দিলাম? আমার বাবাতো বেঁচে নেই। তাহলে কে আমাকে গাড়ি পাঠালো? এই ঘটনার পর আমি আমার মোবাইল থেকে আব্বার নম্বর ডিলিট করে দেই।

৪। ছোটবেলা আমি বারবার অসুস্থ হয়ে যেতাম।
বড় বড় ডাক্তার দেখিয়েও সুস্থ হচ্ছিলাম না। আব্বা শুধু বলতো- বেঁচে থাক বাবা। সব বাচ্চারা ছোটাছোটি করে। আমি বিছানায় শুয়ে থাকি সারাদিন। শুধু বেঁচে থাকতে চেষ্টা করতাম। আজমী শরীফ থেকে এক দরবেশ এলেন আমাদের এলাকায়। আমার বাবা তাকে অনুরোধ বাসায় নিয়ে এলেন। আমাকে দেখালেন। বললেন, আমার অসুস্থতার কথা। সেই দরবেশ বিড় বিড় করে কিছু বললেন। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আমি সুস্থ হয়ে গেলাম। এতটাই সুস্থ হলাম- গত ত্রিশ বছর ধরে আমি আর অসুস্থ হইনি। একবারও আমাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়নি। সাম্মান্য জ্বরও আমার হয়নি।

৫। ফরিদপুর গিয়েছিলাম এক কাজে।
কাজ শেষ করে ফিরতে ফিরতে রাত বারোটা বেজে গেলো। বাইকে করে ডাকবাংলোয় ফিরছিলাম। অন্ধকার রাস্তা। শীতের রাত। বেশ কুয়াশা। মাঝে মাঝে দু একটা শিয়াল দেখা যাচ্ছিলো। রাস্তায় হঠাত বাইক নষ্ট হয়ে যায়। বাইক চালক বলল, হেটে চলে যান। দশ মিনিট লাগবে। একদম সোজা রাস্তা। যেতে পারবেন না? আমি বললাম, এটা কোনো ব্যাপারই না। অথচ আমি ভয় পাচ্ছিলাম। রাতেরবেলা গ্রাম দেশে নানান রকম শব্দ হয়। আমি শহরের মানুষ। এরকম পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত নই। গাছের পাতার শব্দ শুনলে অনে হয়- বুঝি সাপ ফোঁস ফোঁস করছে পায়ের কাছে।

বাইক চালক বলেছিলো, দশ মিনিট হাঁটলেই ডাকবাংলো পেয়ে যাবো।
আমি ত্রিশ মিনিট হাঁটলাম। ডাকবাংলো খুঁজে পেলাম না। উলটা ৫//৬ ছয়টা কুকুর আমার পিছু নিয়েছে। আমি ছোটবেলা থেকেই কুকুর ভয় পাই। কুকুর গুলো ঘেউ ঘেউ করছে না। চারিদিকে ঘুট ঘুটে অন্ধকার। বাতাস নেই। অদ্ভুত সব শব্দ চারদিকে। হয়তো শব্দ গুলো অদ্ভুত নয়। কিন্তু আমার কাছে অদ্ভুত বলে মনে হচ্ছে। অজানা ভয়ে আমি বিধ্বস্ত। মনে হচ্ছে দম আটকে মরে যাবো। এমন সময় কোথা থেকে একটা মেয়ে এলো। আমাকে ডাকবাংলোয় পৌঁছে দিলো। মেয়েটা চলে যাবার আগে বলে গেলো- তোমার বিপদেআপদে সব সময় আমাকে পাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০২৩ দুপুর ২:৫৬
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×