somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আসুন খালিস্তান সম্পর্কে জানি

২৭ শে মে, ২০২৩ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খালিস্তান হলো পাঞ্জাবি শব্দ যার অর্থ হলো বিশুদ্ধ ভূমি।
খালিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার পাঞ্জাব অঞ্চলে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত একটি স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম দেশ। পাঞ্জাব অঞ্চল শিখদের ঐতিহ্যগত মাতৃভূমি। ভারত এবং পাকিস্তনের বিরোধপূর্ণ দুটি প্রদেশ খালিস্তান ও বেলুচিস্তান। সেই সাতচল্লিশ সাল থেকে তারা নিজেদের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে আসছে। খালিস্তান আন্দোলন শিখদের একটি পৃথক জাতি গঠনের ধারণার ভিত্তিতে তৈরি। এই ধারণার অনুপ্রেরণা এসেছে মুসলমানদের জন্য মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আলাদা রাষ্ট্রের পরিকল্পনা থেকে।

ভারতের প্রধান দুই জাতীয় দল বিজেপি ও কংগ্রেস কেউই পাঞ্জাবে সবল নয়।
অনেক শিখরা বিশ্বাস করে থাকেন, ৪৭-এ ভারত ভাগ হওয়ার সময় তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, তাদেরকেও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছে। কানাডার রাজনীতিতে ব্যাপক আধিপত্য রয়েছে ভারতীয় শিখদের। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়ে থাকে খালিস্তান আন্দোলনে সর্মথন দানের। বর্তমানে ১৩ লাখের বেশি শিখ কানাডার রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলছে।

৩০ বছর বয়সী অমৃতপাল সিং শিখদের জন্য একটি পৃথক মাতৃভূমির দাবিতে খালিস্তানি আন্দোলনের একজন কড়া সমর্থক।
খালিস্তান আন্দোলন হল -একটি শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। যে আন্দোলনের দাবি শিখ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠন করা। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরে, জগজিৎ সিং চোহানের পাকিস্তান সফরেই ভারতসহ আন্তর্জাতিক মহলে প্রথমবার মতো খালিস্তান আন্দোলন পরিচিতি পেয়েছিল। পাকিস্তানের তরফ থেকেও খালিস্তানি আন্দোলনকে সমর্থন করা হয়েছে। আলাদা দেশ হিসেবে খালিস্তানিপন্থীদের দাবিকে কার্যত মেনে নিয়েছে পাকিস্তান।

জঙ্গিবাদের পাশপাশি বিদেশের মাটিতে খালিস্তানপন্থীরা বহু সভা, সমিতি, মিছিল আয়োজন করে থাকেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিখ ফর জাস্টিস নামে একটি সংগঠন তৈরি হয়েছে, যাকে ২০২০ সালে জঙ্গি সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছে ভারত। খালিস্তান ইস্যুটি কাশ্মীর ইস্যুর মতই। কানাডায় বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ শিখ বসবাস করে। তাদের মধ্যে খালিস্তান আন্দোলনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বৌদ্ধ বা জৈনধর্মের মত শিখধর্মের উৎপত্তি হিন্দুধর্মের থেকেই। স্বাধীনতার পর আর একটি সমস্যা দেখা দেয়। ভারতীয় পঞ্জাবে শিখেরা হয়ে পড়েন সংখ্যালঘু (বর্তমান পঞ্জাব, হরিয়ানা আর হিমাচল প্রদেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল পূর্ব পঞ্জাব)।

অমৃতপাল তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছেন,
দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে শিখ ধর্মাবলম্বীদের অপমান করা হচ্ছে এবং তাঁদের চুল এবং দাড়ি কাটতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শিখ ধর্মকে ধীরে ধীরে ‘শেষ’ করে দেওয়ার পাশাপাশি পাঞ্জাবের আরও একাধিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না কেন্দ্রীয় সরকার। ভারত-চীন সঙ্কটের কারণে এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। খালিস্তান প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেয়া হলে খালিস্তানিরা খুশি মনেই চীনের সাথে সহযোগিতা করবে। খালিস্তান সামরিকভাবে ভারতের মনোবল ভেঙে দেবে। এটি সামরিকভাবে পাকিস্তান ও চীনের জন্য ব্যাপকভাবে কল্যাণকর হবে। উল্লেখ্য, ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে শিখরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তথ্য সুত্র- উইকিপিডিয়া-ইন্টানেট।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০২৩ রাত ১০:২৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×