somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

নিশাচর শিকারী

২৭ শে মে, ২০২৩ রাত ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ বুয়া বলে গেলো আগামী চারদিন সে আসবে না।
অথচ কিছুদিন আগে ঈদ গেলে। ঈদ উপলক্ষ্যে সে ছয় দিনের ছুটি নিয়েছিলো। বুয়ার বাড়ি রংপুর। সে গ্রামে যাবে। তাদের জমি নিয়ে কি যেন ঝামেলা চলছিলো, সেটা নিষ্পত্তি করতে যাচ্ছে। বুয়ার স্বামী ড্রাইভার। সে মাসে বিশ হাজার টাকা সেলারি পায়। সে ছুটি পায়নি। তাই বুয়া তার দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বুয়ারর মেয়ের বয়স সাত বছর। সে এ বছরের জানুয়ারীতে মাদ্রাসায় ভরতি হয়েছে। ছেলের বয়স তিন বছর। বুয়া যখন আমাদের বাসায় কাজ করতে আসে, তখন তার ছেলেটাকে সাথে করে নিয়ে আসে। ছেলেটা সারাক্ষণ খাই খাই করে। আমি বলে দিয়েছি, বুয়ার ছেলেকে প্রতিদিন সকালে নাস্তা দিতে। আমি যা নাস্তা খাই বুয়ার ছেলেও সেই নাস্তা খায়। ঈদে বুয়ার ছেলেকে একসেট জামা দিয়েছি।

আমি অন্তমূখী মানুষ নই। আমার হতাশা নেই।
বিষন্ন হই না। নিজের প্রতি নিজে অসন্তুষ্ট হই না। লোভ করি না। হিংসা করি না। অন্তর্মুখী স্বভাবের হওয়া খারাপ না। তবে বেশি আত্মকেন্দ্রিক হওয়া ভালো না। আত্মকেন্দিক টাইপ মানুষরা জীবনে দুঃখ বেশি পায়। বিষন্নতা একটা রোগ। এই বিষন্নতা কম বেশি সবারই আছে। আমারও আছে। রাজ্যের বিষন্নতা এসে আমার উপর ভর করে। আর হতাশা? হতাশা কার নেই বলুন? আমার বন্ধুর গাড়ি আছে। আমার গাড়ি নেই। প্রচন্ড হতাশা কাজ করে আমার মধ্যে। আমার আরেক বন্ধু বউ বাচ্চা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বেড়াতে গেলো। আর আমি সামান্য কক্সবাজার যেতে পারছি না পরিবার নিয়ে। প্রচন্ড হতাশ হয়ে যাই।

সন্তুষ্ট হওয়া সহজ না। অর্থনীতির সুত্র অনুযায়ী মানুষ কখনও সন্তুষ্ট হবে না।
ধরুন, আপনার দুটো জামা আছে। আপনার ইচ্ছা করবে, আমার যদি আরেকটা জামা থাকতো তাহলে ভালো হতো। মোট তিনটা জামা হয়ে যেতো! যেহেতু আপনার দুটা জামা এবং আপনি আশা করছেন আরো একটা জামার। কিন্তু আরেকটা জামা হচ্ছে না। অর্থ্যাত আপনি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। এই দুনিয়াতে যার চাহিদা কম সেই সন্তুষ্ট হতে পারে। চাহিদা মানুষকে সন্তুষ্ট হতে দেয় না। মানুষের চাহিদার শেষ নেই। আমার একাউন্ট সব সময় খালি পড়ে থাকে। মনে মনে ভাবতাম আমার একাউন্টে যদি পাঁচ লাখ টাকা থাকতো তাহলে অনেক ভালো হতো। এরপর আমার একাউন্টে পাঁচ লাখ টাকা হলো। তখন আমি ভাবতে শুরু করলাম পাঁচ লাখ টাকা, কোনো টাকা হলো। দশ লাখ থাকলে ভালো হতো। প্রচুর টাকার চেয়ে অভাবে থাকা ভালো। দিন আনি, দিন খাই টাইপ মানুষেরা সবচেয়ে ভালো আছে। তাদের বিষন্নতা ধরে না। তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করে না।

এখন আমি বুঝি- লোভ করা যাবে না।
সহজ সরল জীবনযাপন করতে হবে। লোভ মানুষকে পশুর স্তরে নিয়ে যায়। মন্দ কাজ করিয়ে নেয়। নতুন নতুন চাহিদা তৈরি করা যাবে না। মনকে বুঝাতে হবে। প্রয়োজনে শস্তি দিতে হবে। চাহিদা সীমিতি করতে হবে। মানুষের দুঃখের কারন হচ্ছে অত্যাধিক চাহিদা। মনের ইচ্ছা মতো যারা চলে তাঁরা বোকা। চলতে হবে নিজের ইচ্ছা মতোন। মানুষের মন দু রকমের হয়। চেতন মন এবং অবচেতন মন। কিছুতেই অবচেতন মনের পাল্লায় পরা যাবে না। অবচেতন মনের পাল্লায় পড়লেই চাহিদা বাড়বে, হতাশা বাড়বে, বিষন্নতা বাড়বে। এবং অল্পতে সন্তুষ্ট হওয়া যাবে না। এখন আমি আমার মনকে নিয়ন্ত্রণ করি। মনের কথায় উঠসব করি না। আমার অবচেতন মনকে আমি পরাজিত করতে পেরেছি। আমি জয়ী। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মনে হয়- লাইফ ইজ বিউটিফুল। সকালে ঘুম থেকে মনে হয়- জীবন আনন্দময়।

আমি প্রচুর মুভি দেখি, প্রচুর বই পড়ি। হতাশ হওয়ার সুযোগ পাই না।
এক সময় আমি আত্মকেন্দিক মানুষ ছিলাম। এখন আমি আড্ডা দেই। অসংখ্য মানুষের সাথে মিশি, কথা বলি। দৈনিক পত্রিকা গুলো মন দিয়ে পড়ি। টিভিতে মন দিয়ে নিউজ দেখি। অনলাইনে ভালো কোনো আর্টিকেল পেলে পড়ে ফেলি। বাচ্চাদের সাথে খেলি। দেশ নিয়ে ভাবি। মানুষ নিয়ে ভাবি। মহাকাশ নিয়ে ভাবি। সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকার কারনে আমার মধ্যে হতাশা আসে না। লোভ আসে না। বিষন্ন হই না। নতুন নতুন চাহিদা সৃষ্টি হয় না। অন্তর্মুখী স্বভাবটা আর নেই। চারপাশ দেখে শুনে এখন আমি নিজেকে নিয়ে অসন্তুষ্ট নই। আমি সুস্থ। আমার কোনো পাওয়ানাদার নেই। থাকার জায়গা আছে। খাওয়া পরার নিশ্চয়তা আছে। ভালোবাসার মানুষ আছে। আমার কন্যা আছে। মমতাময়ী স্ত্রী আছে। বাসায় ফিরতে দেরী করলেই সে অস্থির হয়ে ফোন দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০২৩ রাত ১২:১৭
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কুরবানীর ঈদ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৮ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:০২


ফাতেমা গরিব ঘরের শিশু। বাপ রিক্সা চালায়। সারা বছর গরুর গোস্ত খাওয়ার সপ্ন দেখলেও সেই সপ্ন আর পূরন হয় না। শিশু ফাতেমার বাপের যা ইনকাম তা দিয়ে টানতে টানতে দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার খারাপ হলেও, জনগণ সমাজকে গড়ে তুলতে পারে কিনা?

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৮ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:০৮



সুদানে এখন সরকার ২টি; যেকোন ১টি, কিংবা উভয়ের হাতে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে মাছির মতো, নিজেদের বাসস্হান হারাচ্ছে, বেঁচে থাকার শেষ সম্বলও হারাচ্ছে। জেনারেল আবদেল-ফাতাহ বুরহান ও জেনারেল মোহাম্মদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন উৎসব সবার হয়!

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ১৮ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:১০

ধরুন সামনে ইদ৷ পুরা রমজান মাস জুড়ে প্রচুর বেচাকেনা চলছে৷ পুরা দেশে লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে৷ আমাদের মতো দেশে এ ধরণের উৎসবে ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো হয়৷ সবার পকেটে টাকা চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বেনজির, আজিজ, আজীমদের রাজত্ব।

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০৩

বাংলাদেশে চলমান আলোচনায় তিনটি নাম বেনজির, আজিজ ও আজীম সবচেয়ে আলোচিত। এই তিনটি নাম তিনটি ঘটনটা যা জাতি হিসেবে আমাদের অনেকটাই হেয় করেছে। অবশ্য জাতি হিসেবে আমাদের অবস্হান অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরায়েলের রাফা দখলের প্রতিবাদে চোখের জলে ভেজা একটি গান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৪ সকাল ১০:২৭



আমার এই গানটা তাঁদের নিয়ে যাদেরকে দূর্ভিক্ষ ছাড়া কোন শত্রুই পরাস্ত করতে পারবে না। তাঁর হবেন রাসুল (সাঁ)-এর শ্রেষ্ঠ উম্মতদের দলভুক্ত। ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসের আশেপাশে তাঁরা থাকবেন।........তাঁদেরকে নিয়েই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×