
সংসার করাটাই বড় কথা। সংসার টিকিয়ে রাখাটাই বড় কথা।
সেটা প্রেমের বিয়ে না অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সেটা বড় কথা নয়। দেখেন না চারিদিকে কত ডির্ভোস হচ্ছে। প্রেমে ভালোবাসার বিয়েতে ডির্ভোস বেশি হয়। বিয়েরর পর এত এত প্রেম ভালোবাসা হারিয়ে যায়। তখন ঝগড়া হয়। পাড়াপ্রতিবেশীরা ঝগড়া শুনে। প্রেম ভালোবাসার জীবন আর বিয়ের পরের জীবন সম্পূর্ন আলাদা। প্রেম ভালোবাসায় কোনো দায়-দায়িত্ব থাকে না। সংসার মানেই অনেক দায়-দায়িত্ব। যা সবাই পালন করতে পারে না। স্বামী স্ত্রী দুজনের ভালোবাসায় সংসার হয় আনন্দময়।
আমার এক বন্ধু দীর্ঘদিন প্রেম করে বিয়ে করেছে।
বিয়ের পর তাদের মিল মহব্বত দেখে সবাই আমরা সবাই অনেক খুশি। তিন মাস যেতে না যেতেই শুরু হলো ক্যাচাল। ঝগড়া। দুজন দুজনের নামে বিস্তর নালিশ। মুরুব্বীরা মীমাংসা করে দেয়, আবার ক'দিন পর ঝগড়া। দিন যত যেতে লাগলো। ঝগড়া আর ক্যাচাল বাড়তেই থাকলো। ফলাফল তালাক। অথচ তাঁরা বিয়ের পর দুজন দুজনকে কথা দিয়েছিলো কখনও ঝগড়া করবে না। একে অন্যকে ছেড়ে যাবে না। সারা জীবন ভালোবাসা নিয়ে থাকবে। মেয়েদের সাংসারিক বুদ্ধি থাকতে হয়।
আমার আরেক বন্ধুর কথা বলি- তাদের অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ ছিলো।
বিয়ের পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক হলো। এই কক্সবাজার যাচ্ছে। এই নেপাল যাচ্ছে। এই সুন্দরবন যাচ্ছে। হঠাত তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। দুজন আলাদা বিছানায় ঘুমায়। ঝগড়া হয়। এভাবেই চলল তিন বছর। অশান্তি বেড়েই চলেছে। ফলাফল ছাড়াছাড়ি। অর্থ্যাত অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ অথবা প্রেম ভালোবাসার বিয়ে- ঝগড়া তো হচ্ছেই। তালাক তো হচ্ছেই। স্বামী স্ত্রী দুজনের দুজনের প্রতি বিশ্বাস থাকতে হবে। শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। ভালোবাসা থাকতে হবে। কেউ কারো চেয়ে বড় নয়, দুজনেই সমান।
''সংসার করাটাই বড় কথা। সংসার টিকিয়ে রাখাটাই বড় কথা''।
সেটা প্রেমের বিয়ে না অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সেটা বড় কথা নয়। সংসারের স্বামী স্ত্রী দুজনকেই ছাড় দেওয়ার মানসিতা থাকতে হয়। স্বামী স্ত্রী দুজনেই যত ছাড় দেবে- সংসার তত সুন্দর হবে। স্বামী স্ত্রী দুজনকে মিলেই সংসার টিকিয়ে রাখতে, সংসার গড়ে তুলতে হয়। থাকতে হয় ভালোবাসা, আন্তরিকতা, শ্রদ্ধাবোধ। স্বামী স্ত্রী দুজনকেই মানবিক ও হৃদয়বান হতে হয়। ভালো হতে হয়। নইলে ঝগড়া হবে। অশান্তি হবে। হয়তো ডির্ভোস হয়ে যাবে। একটা সংসারে ঝগড়ার প্রধান কারন তৃতীয় পক্ষের প্রবেশ। এই তৃতীয় পক্ষ থেকে খুব সাবধান থাকতে হবে। তৃতীয় পক্ষই বন্ধু সেজে ফাটল ধরায়।
আমার নিজের কথা বলি।
আমি প্রেম করে বিয়ে করেছি। আমরা দুজন খুব সুন্দর আছি। ভালো আছি। আমরা ঝগড়া করি না। তৃতীয় পক্ষ এসে আমাদের মাঝে ফাটল ধরাতে পারে না। দুজনে মিলে ঝগড়াবিহীন একটা আজীবন পার করছি। আমাদের একটা কন্যা আছে। এখন আমাদের আনন্দ আরো বেড়ে গেছে। আমার স্ত্রীর রাগ হলে আমি চুপ করে থাকি। আবার আমার রাগ হলে আমার স্ত্রী চুপ করে থাকে। কখনও স্বামীগিরি ফলাই না। আমরা দুজন বন্ধুর মতো থাকি। ছুটির দিনে বেড়াতে চাই। মাঝে মাঝে রাতে ঘুম না এলে ব্যলকনিতে বসে গল্প করি। স্ত্রীর ইচ্ছার গুরুত্ব দেই। একজন স্বামী বা একজন স্ত্রীর এমন হওয়া উচিত মৃত্যুর পর যদি আবার দুনিয়ায় আসা হয়, তখন যেন স্বামী ও স্ত্রী দুজন দুজনকেই চায়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০২৩ রাত ১২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


