somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

দেবযানী খাল

১৬ ই জুলাই, ২০২৩ বিকাল ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তারেক কি কমিউনিস্ট ছিলো?
নইলে সে কমিউনিস্টদের মতো মার্কামারা পাঞ্জাবি আর পায়জামা পরে কেন? সমস্ত কমিউনিস্টদের পোশাক দেখেই চেনা যায়। আজকাল অবশ্য কমিউনিস্ট খুজে পাওয়া মুশকিল। কমিউনিস্টরা বুঝে গেছে এভাবে হ্য় না, হবে না। আমি এতটুকু বুঝি, কমিউনিস্টদের বেশির ভাগ ধারনাই লজিক্যাল নয়। গৌরব করার মতো কমিউনিস্টদের কিছু নেই। আমার কাছে তারেকের পরিচয় একটাই, সে আমার বন্ধু। খুব ভালো বন্ধু, কাছের বন্ধু, আপন বন্ধু। তারেক বলতো পৃথিবীতে যত মানুষ আছে, সকলের খাবারের ব্যবস্থা আল্লাহ করে রেখেছেন। আমি বললাম, তাহলে দরিদ্র দেশ গুলোতে এত অভাব কেন? মানুষ না খেয়ে থাকে কেন? তারেক সাথে সাথে বলল, এই অভাব মানুষের সৃষ্টি। তাঁরা আল্লাহর উপরে মাতব্বরি করছে। এর ফল ভালো হবে না।

নির্জন সন্ধ্যা। পদ্মার উপর গভীর গাঢ় কুয়াশা।
নদীর ধার দিয়ে গরুর গাড়ি চলছে, এবড়ো খেবড়ো মাটির রাস্তা। রাখাল গরুর পাল নিয়ে চলেছে। কুয়াশার কারনে বড় বড় গাছ গুলোকে ভূত বলে মনে হয়। থোকায় থোকায় জোনাকি পোকা জ্বলছে আর নিবছে কুয়াশা ভেদ করে। কুয়াশা না থাকলে বিশাল ধানক্ষেত চোখে পড়তো। উত্তর দিক থেকে ভয়ংকর ঠান্ডা বাতাস আসছে। খাল থেকে পঁচা গন্ধ আসছে। পাটপচা গন্ধ, সেই সাথে মুলি বাঁশ পঁচছে। এই দেবযানী খালেই আমার বন্ধু তারেককে মেরে ফেলে রাখা হয়েছিল। তিন দিন পর তার পঁচা গলা লাশ পাওয়া দেখা গেলো। বালাসুর থেকে কামারগাও বাজার পযর্ন্ত দেবযানী খাল ছিলো। বর্ষায় টইটুম্বুর হয়ে থাকতো দেবযানী। আমি আর তারেক এই দেবযানী খালে মাছ ধরতাম। বরশি ফেলে আমি আর তারেক কলাপাতা মাথায় ধরে থাকতাম বৃষ্টি থেকে বাঁচতে। একদিন তারেক একটা বেশ বড় কালিবাউস ধরে ফেলল। প্রাইমারী স্কুলের অবসর প্রাপ্ত নিতাই স্যার কালিবাউস উপহার পেয়ে ভীষন খুশি হলো।

আমার বন্ধুর নাম তারেক। তারেক মাহমুদ।
আমরা সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে থাকতাম। আমাদের রুম নাম্বার ছিলো- ২২২। তারেক গভীর রাতে ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতো। বলতো রাতের ঢাকার চরিত্র আলাদা। তারেকের পাল্লায় পড়ে এই শহরের অলি গলি ঘুরে বেড়াতে হতো। মধ্যে রাতে নীলক্ষেতের ফালতু তেহারি খেতো হাসিমুখে। তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে বলতো- নিজেকে মিশরের সম্রাট বলে মনে হয়। তারেক খুব ভালো ক্রিকেট খেলতো। জেলা পর্যায়ে খেলেছে। এক বছর আবহানীর হয়ে খেলেছিলো। জীবন তার কাছে ক্রিকেট খেলার মতোই উপভোগ্য ও উত্তেজনায় ভরা। তারেক ফুর্তিবাজ ছিলো। মারামারি করতো, আবার কেউ মারা গেলে নিজের হাতেই করব খুড়তো। তার কর্মকান্ড বিচিত্র ও বহুমুখী। তার রাগ যেমন বেশি, ভালোবাসাও বেশি। যাকেই পছন্দ করতো তার জন্য জীবন দিয়ে দিতে পারতো। আবার যার উপর রাগ হতো, তাকে জুতো দিয়ে মারতে দ্বিধা করতো না।

এই তারেক ছিল আমার বন্ধ। খুব ভালো বন্ধু।
অথচ সে ক্রিকেটে চান্স পেলো না। তারেক সন্ধ্যা নামে এক মেয়েকে ভালোবাসতো। অথচ তীব্র রাগের কারন সন্ধ্যার সাথে তারেকের বিয়ে হয়নি। সন্ধ্যা বিয়ে করে তাঁরা স্বামীর সাথে আমেরিকা চলে গেছে। দীর্ঘদিন তারেক আফসোস করে বলেছিলো, 'সন্ধ্যাকে নিয়ে সন্ধ্যা নদীর পাড়ে বসে জোছনা দেখা হলো না'! সবচেয়ে বড় কথা তারেক উগ্র মেজাজের কারনে কোথাও তিন মাসের বেশি চাকরি করতে পারেনি। সবচেয়ে বেশি দিন (চার মাস) চাকরি করেছিল একটা ব্যাংকে। অবশ্য চাকরি না করলেও তারেকের সমস্যা ছিল না। তার বাপ দাদা অনেক ধনী ছিলো। তারেক খুব দিল দরিয়া মানুষ। একবার আমি রাজশাহীতে গিয়ে বেশ বিপদে পড়েছিলাম। তারেক কে ফোনে জানালাম বিপদের কথা। আধা ঘন্টার মধ্যে তারেক এসে হাজির। সে হেলিকাপ্টারে করে চলে এসেছিলো। কিছু কিছু মানুষের পুরো শরীরটাই কলিজা। তাদের সাহসের অভাব হয় না।

একবার আমি আর তারেক পদ্মা নদীর পাড় দিয়ে হেটে হেটে স্কুলে যাচ্ছিলাম।
এক পাগল হঠাৎ আমাদের তাড়া দিলো। দোষটা তারেকের। পাগল নিরিবিলিতে বসে পায়খানা করছিলো। তারেক পাগলকে একটা ঢিল মারে। পাগল তো রেগেমেগে আমাদের তাড়া করলো। বলল, হারামির বাচ্চারা দাড়া। আমি আর তারেক দৌড়াচ্ছি। আমাদের বইখাতা হাত থেকে পড়ে গেছে। তারেকের চেয়ে দৌড়ে আমি ভালো। স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমি সবসময় একটা কাচের প্লেট পুরস্কার পেতাম। সেই কাঁচের প্লেট গুলো এখনও আছে। মা শোকেসে সাজিয়ে রেখেছে। যাইহোক, দ্বিগম্বর পাগল শেষমেশ আমাদের ধরতে পারেনি। আমি আর তারেক দেবযানী খাল পেরিয়ে অনেক দূর চলে গিয়েছিলাম। পাগল তার এড়িয়ার বাইরে যাবে না। তার সীমানা দেবযানী খাল পর্যন্ত। এই ঘটনা পরবর্তী জীবনে আমাদের বহুবার হাসিয়েছে। তারেকের কারণে অদ্ভুত সব বিপদে পড়তে হতো। আরেকবার কালিবাড়ি শ্মশানে বিরাট বিপদে পড়েছিলাম। সেই গল্প আরেকদিন বলব।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০২৩ বিকাল ৩:১৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবার আগে মাতৃভূমি

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:১৩



প্রভাতের আলোতে যে রূপ আমি দেখি
সে যে চেনাজানা চির জন্মভূমিখানি,
পাখির মুগ্ধ সুরেলা কন্ঠে জোড় জাদু
আহা মন ভালো করে দেয় প্রতিদিনি।

পাহাড় নদী মাঠের সবুজ গালিচা
নারীর রূপ লাবণ্য নজর... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×