
ভারত বাংলাদেশকে কখনো আক্রম করবে না। নো নেভার।
বাংলাদেশও কখনো ভারতকে আক্রমণ করবে না। কেউ কি নিজের ঘরে আক্রমণ করবে? ভারত বাংলাদেশ আলাদা কিছু নয়। সবচেয়ে বড় কথা আক্রমণ করার মতো কিছু হয়নি। দুই দেশের বর্বর কিছু জনগণ অযথাই লাফাচ্ছে। মূলত অল্প কয়েকজন দুষ্ট লোক ফেসবুকে কথা কাটাকাটি করছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে দুই দেশের সংবাদ মাধ্যম বেশ লাফাচ্ছে। এবং দুই দেশের অপরাজনৈতিক দল বিষয়টা ঘোলা করছে। আমাদের রিজভী সাহেব তো একদিন স্ত্রীর শাড়ি পোড়াচ্ছেন, আরেকদিন বিছানার চাদর। আরে ভারতের শাড়ি আর চাদর পুড়িয়ে লাভ কি? ভারত আমাদের বন্ধু। ব্যস কথা শেষ।
এক ভিডিওতে দেখলাম, কলকাতার রাস্তায় বাংলাদেশের পতাকা বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
লোকজন আমাদের পতাকা মাড়িয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আমাদের পতাকাতে থু থু দিচ্ছে। অত্যন্ত দুখজনক। শিক্ষিত ও মানবিক মানুষ এরকম কাজ করতে পারে না। ভারতের মিডিয়া গুলো বিষয়টা জটিল করেছে। মিডিয়া শান্ত হলেই সব ঠিকঠাক। আমাদের দেশে লাফাচ্ছে জামায়াত শিবির এবং বিএনপি। সেই সাথে বৈষম্যবিরোধী কতিপয় ছাত্র। এরা আসলে দুষ্টলোকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, সেজন্য এরা অযথাই লাফাচ্ছে। লাফানোর মতো কিছু হয়নি। তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে। পরিস্থিতি খারাপ করার চেস্টা করছে শুধু শুধু। যেন শেখ হাসিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওদের রাগ আসলে শেখ হাসিনা কেন ভারতে গেলো। ভারত কেন তাকে থাকতে দিলো। আসল কথা হচ্ছে, ভারতের বেশির ভাগ লোক বাংলাদেশ কে ভালোবাসে। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ ভারতকে ভালোবাসে।
সহজ সরল সত্য কথা হলো, ভারত আমাদের চেয়ে সব কিছুতেই এগিয়ে আছে।
চিকিৎসা, শিক্ষা, উৎপাদন, কারিগরি। বাংলাদেশ সেলাই মেশিনের একটা সুই পর্যন্ত বানাতে পারে না। আমরা ঢাকায় থেকে ভারতের সাবান শ্যাম্পু জামা কাপড় তালাশ করি। বিয়ের কেনাকাটা করতে আমরা ভারত যাই, চিকিৎসা করতে ভারত যাই, ভ্রমণ করতে ভারত যাই। ভারত ছাড়া আমাদের উপায় নাই। বাংলাদেশ থেকে পশ্চিম বঙ্গে লাখ লাখ লোক যায়। তারা প্রচুর কেনাকাটা করছে। অবশ্য কলকাতার ব্যবসায়ীদের বেশ ক্ষতি হচ্ছে। তারা মনে প্রানে চায় বাংলাদেশের লোকজন আসুক। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে সসত্যজিৎ, সুনীল, সমরেশ মজুমদার, অমর্ত্য সেন সহ ভারতীয়দের নিজেদের লোক বলে মনে করি। দেশভাগ না হলে ভারত যেতে আমাদের ভিসা লাগতো না।
আজ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেই বলে এই পরিস্থি সৃষ্টি হয়েছে।
শেখ হাসিনা যতদিন ছিলেন জামায়াত শিবির আর বিএনপি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে নাই। জামায়াত আসলে দেশের এক নম্বর শত্রু। এরা বাংলাদেশের ভালো চায় না। আওয়ামীলীগের এই পরিস্থিতির জন্য জামায়াত তলে তলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে গেছে। জামায়াত সাপোর্ট পেয়েছে বিএনপির। আর ছাত্ররা কিছু না বুঝেই গাধার মতো লাফিয়েছে। ওদের ভুলের জন্য পুরো জাতিকে ভুগতে হবে। যারা বাংলাদেশ চায়নি, তারাই আজ রাজত্ব করছে। এর চেয়ে দু:খের আর কি আছে! হ্যা আওয়ামীলীগের অনেক দোষ ত্রুটি আছে। কিন্তু তারা জামায়াত শিবির আর বিএনপির চেয়ে অনেক ভালো। মনে প্রানে চাই ভারত আমাদের সাথে নিয়ে এগিয়ে যাক। ভারতের যেকোনো সাফল্যে আমরা আনন্দিত হই, খুশি হই। সামান্য ক্রিকেট খেলায় আমরা ভারতকে সাপোর্ট করি।
ভারত আর আমরা হলাম একই মায়ের পেটের দুই ভাই।
অথচ ভারতের কতিপয় লোক বাংলাদেশকে হেয় করে কথা বলছে৷ ইহা অন্যায়। এটা আধুনিক যুগ। এযুগে কেউ যুদ্ধ করে না। যারা যুদ্ধ করে তারা বোকা ও নির্বোধ। ভারত মানবিক দেশ। বাংলাদেশের বিপদেআপদে সব সময় সবার আগে ভারতই এগিয়ে আসে। ১৯৭১ সালের কথা আমরা ভুলি নাই। আমরা বেঈমান জাতি নই। ভারত আমাদের বন্ধু। খুব শ্রীঘই ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক ঠিক হয়ে যাবে। যারা এই ক্যাচাল লাগিয়েছে তারা কপাল চাপড়াবে। এই সুযোগে পাকিস্তান ইচ্ছে মতো উসকানি দিয়েছে। তাদের উসকানি আমরা আমলে নিইনি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আমাদের কি করেছে আমরা ভুলি নাই। হারামজাদারা আজ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা পর্যন্ত চায়নি। ভারত আমাদের বন্ধু। ভারত ভালো থাকুক। আমাদের পাশে থাকুক। জয় বাংলা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

