somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৭৫

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এখন সময় দুপুর সাড়ে তিনটা।
এখনো দুপুরের খাবার খাওয়া হয় নাই। এই মুহুর্তে আমি রমনা পার্কে বসে আছি। আজ আমার কোথাও যাওয়ার নাই। বেঞ্চে বসে থাকতে ভালো লাগছে। রোদ আমার গায়ে লাগছে না। বিশাল একটা অশ্বথ গাছের নিচে আমি। রমনা পার্কে এলে আমি এই গাছটার নিচেই বসি। এই শহরের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা রমনা পার্ক। একমাত্র এখানেই আছে অনেক রকম গাছপালা। বিশুদ্ধ বাতাস। নানান রকম মানুষ। ভরদুপুরবেলা যারা পার্কে এসে বসে থাকে তারা নিঃসঙ্গ মানুষ।

আপাতত সমস্যা হলো আমার গলা শুকিয়ে গেছে।
মনে হচ্ছে এক বালটি পানি খেয়ে ফেলতে পারবো। আগে বাচ্চা মেয়েরা কলসে করে পার্কে পানি বিক্রি করতো। বিনিময়ে এক টাকা-দুই টাকা যে যা দিতো হাসিমুখে নিতো। এখন এরকম কেউ নেই। এখন কিছু চ্যাংড়া পোলাপান পানির বোতল বিক্রি করে। ২০ টাকা পানির বোতল কিন্তু দাম চায় ৫০ টাকা। পকেটে টাকা থাকলে এখন আমি ৫০ টাকা দিয়েই এক বোতল পানি কিনতাম। এখন যদি কেউ আমাকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি অথবা এক গ্লাস লেবুর শরবত দেয়- তাহলে আমি কোনটা খাবো?

এখন আমি ধানমন্ডি যাবো।
সেখানে একটা সুন্দর মসজিদ আছে। সেখানে আমি আছর বা মাগরিব পর্যন্ত ঘুমাবো। মসজিদটা ভালো। নামাজ শেষ হয়ে গেলেই এসি অফ করে দেয় না। এই মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে আমার ভালো খাতির আছে। তার টুকটাক কাজ করে দেই আমি। প্রতিদিন ইমাম সাহেবের খাবার আসে এক সচিবের বাসা থেকে। সচিব সাহেবের স্ত্রী একজনের যে খাবার দেয়, তিনজন সেই খাবার অনায়াসে খেতে পারে। ইচ্ছা আছে একদিন সচিব স্যারের স্ত্রীর সাথে দেখা করে বলব, আপনার হাতের রান্না ভালো।

সমস্যা হলো পকেট ফক্কা।
ধানমন্ডি যেতে হবে হেটে হেটে। টানা দেড় ঘন্টা হাটা আমার জন্য কোনো বিষয়ই না। আমি শাহেদ জামাল একবার শাহবাগ থেকে হেটে হেটে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত গিয়েছি। অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জ থেকে পায়ে হেটে ঢাকা এসেছিলেন। হুমায়ুন ফরিদীর নারায়ণগঞ্জ থেকে হেটে আসার কথাটা ভাবলে আমি শক্তি পেয়ে যাই। তখন অনেক হাটতে পারি। আমার পা দুটা যেন এগারো নম্বর বাস হয়ে যায়। ক্যাম্পাসে এক বড় ভাই বলতো- এগারো নম্বর থাকতে তোমরা বাস-রিকশায় উঠো কেন?

ইমাম সাহেব আর শাহেদ জামাল খেতে বসেছে।
খাবে শুধু শাহেদ জামাল। ইমাম সাহেব খাবেন না, কারণ ইমাম সাহেব রোজা রেখেছেন। রোজা রাখার কারণ তার দ্বিতীয় সন্তান প্রায় আগত। সন্তান যেন সুস্থ অবস্থায় দুনিয়ায় আসতে পারেন সেই কামনায় আজ তিনি রোজা রেখেছেন। শাহেদকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য ইমাম সাহেবকে বসতে হয়েছে। শাহেদ বলেছে, রোজাদার ব্যাক্তির সামনে বসে খাওয়া ঠিক না। ইমাম সাহেব বলেছেন, ইহা ভুল কথা। যে রোজা রাখেনি সে খাবে। যে রোজা রেখেছে সে খাবে না। সহজ হিসাব। ইসলাম নিষ্ঠুর ধর্ম নহে।

যাইহোক, পাচ বাটির বিশাল এক টিফিন বক্স।
ইমাম সাহব বললেন, সচিব সাহেবের বাসার রান্না মাশাল্লাহ ভালো। খেয়ে তৃপ্তি পাই। ইমাম সাহেব আমাকে খাবার বেড়ে দিলেন। লাল শাক বাজি, শাকের মধ্যে চিংড়ি মাছ আছে। এই চিংড়ি মাছটা যেন লালশাকের স্বাদ তিন গুন বাড়িয়ে দিয়েছে। ইলিশ মাছের ডিম দিয়ে করলাভাজি আছে। খেতে দারুণ হয়েছে। আছে চান্দা মাছ ফ্রাই। কাইকা মাছ বেগুন দিয়ে। ডালটা অসাধারণ হয়েছে। সামান্য ডালও যে এত স্বাদ হতে পারে শাহেদ জামালের ধারনা ছিলো না। শাহেদ জামালের ধারনা এই সচিবের স্ত্রীর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমনপুর হবে।

শাহেদ জামাল খেয়ে ঘুম দিলো।
তাকে মসজিদে ঘুমাতে হয়নি। ইমাম সাহেবের রুমেই ঘুমিয়ে গেলো। রুমে এসি আছে। এই এসি সচিব সাহেব কিনে দিয়েছেন। সচিব সাহেব শ্বাশুড়ি মারা গেলে, ইমাম সাহেব কোরআন খতম দিয়েছেন, দোয়া করেছেন- হাদিয়া হিসেবে সচিব সাহেব এই এসি দিয়েছেন। দরাজ দিল সচিব সাহেবের। শাহেদের ইচ্ছা সচিব সাহেবের সাথে একদিন দেখা করবে। যাইহোক, ঠান্ডা হাওয়ায় শাহেদ জামাল গভীর ঘুম দিলো। অনেকদিন পর সে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখলো।

স্বপ্নটা এই রকম: নীলার সাথে তার বিয়ে হয়েছে।
শাহেদ আর নীলা গ্রামে চলে গেছে। শাহেদ সারাদিন জমিতে কাজ করে। দুপুরবেলা নীলা শাহেদের জন্য খাবার নিয়ে যায়। ছাতিম গাছের নিচে বসে শাহেদ জামাল ভাত খায়। পাশে বসে থাকে নীলা। সন্ধ্যায় শাহেদ বাসায় ফিরে। বাসায় ফেরার আগে বাজার করে সামান্য। তরিতরকারি সাথে শাহেদ কি মনে করে একটা শাড়ি কিনে ফেলে। চুন্ডি শাড়ি। সবুজ রঙের। শাড়ির জমিনটা দেখার মতো।

আজ দুপুরে খাওয়া শেষে নীলা যখন হাত মোছার জন্য শাড়ির আচল এগিয়ে দিয়েছিল,
তখন শাহেদ দেখেছে, শাড়িটা অনেকখানি ছিড়ে গেছে। শাড়ি হাতে পেয়ে নীল অনেক খুশি। তার চোখে পানি চলে এসেছে। পানি চলে আসাটা স্বাভাবিক। বাঙালি মেয়েরা প্রিয় মানুষের কাছ থেকে শাড়ি পেলে অকারনেই চোখ ভিজে যায়। রাতের খাবার শেষ করে, শাহেদ আর নীলা উঠানে বসেছে। নীলা নতুন শাড়িটা পরেছে। আকাশে বিশাল একটা চাঁদ উঠেছে। নীলা শাহেদকে একটা সুখবর দিলো। এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে শাহেদ নীলাকে জড়িয়ে ধরলো। কপালে চুমু খেলো।

রাত এগারোটায় শাহেদ জামালকে পুলিশ গ্রেফতার করলো।
সে পুলিশের কাছে তার অপরাধ জানতে চাইলো না। নিশ্চয়ই পুলিশ কোনো না কোনো মামলা দিয়ে দেবে। দোষ ত্রুটি কিছু না পেলে আওয়ামী লীগ বলে চালিয়ে দেবে। যাক, এক বছর কারাগারে থাকুক। এই এক বছর সে শুধু বই পড়বে। ফালতু বই পড়বে না। শুধু ধর্মীয় বই পড়বে। খুব মন দিয়ে পড়বে। যদিও আগে শাহেদ জামাল সকল ধর্মীয় গ্রন্থ গুলো পড়েছে। তবে মন দিয়ে পড়ে নাই, খাপছাড়া ভাবে পড়েছে। এবার সে সময় নিয়ে পড়বে, মন দিয়ে বুঝে পড়বে।

প্রথমে পড়বে মহান গ্রন্থ আল-কোরআন।
তারপর বাইবেল। বাইবেল শেষ করে পড়বে হাদীস। নবীজির হাদিস। এবং সবশেষে পড়বে ত্রিপিটক। যদি ধর্মীয় বিষয় গুলো তার মনে ধরে, তাহলে সে একদম খাটি ধার্মিক হয়ে যাবে। তার হাতে সব সময় থাকবে তজবি। নামাজ পড়তে পড়তে কপালে স্থায়ী কালো দাগ থাকবে। মুখ ভরতি থাকবে দাড়ি। এবং সে সোয়াবের আশায় মৃত মানুষদের গোছল করাবে এজন্য সে কোনো টাকা নেবে না। প্রয়োজনে সে মৃত ব্যাক্তিদের জন্য কবর খুড়বে। যে সমস্ত কাজে সোয়াব আছে, সেসব কাজ শাহেদ জামাল আমৃত্যু করে যাবে। আমল করা ভালো। আমল করলে ইহকালেই অনেক কিছু পাওয়া যাবে। দুই তিনবার হজ্ব করে নামের আগে পরে হাজী/ আলহাজ্ব লাগিয়ে দেবো।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ট্রাম্প কি ভেবেছিল? "সর্দার খুশ হোগা? সাবাশি দেগা?"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কিছু বলি।
আমি সাধারণ সত্য যা ঘটছে সেটাই বলি। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, সেটা যে পক্ষেরই হোক, আমার শেয়ার করতে ভাল্লাগে না।
একটা সময়ে আমেরিকা নিজের এয়ারফোর্স এবং নেভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিত্রের তালাশ ও মিত্রতা তৈরিঃ প্রসঙ্গ আমাদের জাতীয় ও রাজনৈতিক জীবন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাঙলায় পাওলো কোয়েলহোর সর্বাধিক বইয়ের অনুবাদক হিসেবে দেখেছি তিনি তাঁর প্রায় সকল বইয়ে একটা জিনিসকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। সেটা হলোঃ মিত্র তালাশ করা বা তৈরি করা। এই জিনিস আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫০


রমজান মাসের শেষ দিককার কথা। আব্বা-আম্মার সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলাম নানাকে দেখতে। মায়ের দিকের এই আত্মীয়র হার্টে চারটা রিং বসানো হয়েছে, কিন্তু কেবিনে ঢুকে বুঝলাম তার জবান এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:০৪



সূরাঃ ১ ফাতিহা, ১ নং থেকে ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। সমস্ত প্রশংসা জগৎ সমূহের প্রতি পালক আল্লাহর।
২। যিনি অনন্ত দয়াময়, অন্তহীন মেহেরবান।

সূরাঃ ১ ফাতিহা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫২



আমি কবিতা লিখতে পারি না।
আসলে আমি কোনো কিছুই সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারি না। আমার লেখা মানেই এলোমেলো এবং অগোছালো বিশ্রী রকম। মাঝে মাঝে লোভ হয়, কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×