somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৫৬

০৩ রা জুন, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেকদিন মেয়েকে নিয়ে বাইরে যাওয়া হয় না।
আসলে ইদানিং ব্যস্ততা বেড়েছে। তাছাড়া বাইরে ঝড় বৃষ্টি। ক্ষনে ক্ষনে বৃষ্টি। যেন বর্ষাকাল! গতকাল সারাদিন আমি বাসায় ছিলাম। আমি বাসায় থাকলে ফারাজা ভীষন খুশি হয়। এবং এই খুশি সে প্রকাশ করে দেয়। এ বছর হিমসাগর আমের ফলন ভালো হয়েছে। দামও কম। ৮০/৯০ টাকা কেজি। আমি দু-একদিন পরপর পাচ কেজি করে আম কিনছি। ফারাজা আম পছন্দ করে। সুরভিও আম পছন্দ করে। আমার নিজেরও হিমসাগর আম পছন্দ। যাইহোক, ফারাজা হিমসাগর আম খায়। বলে, বাবা অনেক মিষ্টি। আমি তাকিয়ে-তাকিয়ে দেখি। বড় ভালো লাগে। ফারাজা বলল, বাবা লিচু খাবো। আমি দৌড়ে বাজারে গেলাম। লিচু নিয়ে এলাম। এবার লিচুর দাম বেশি। একশ' লিচুর দাম নিচ্ছে ৬/৭ শ' টাকা। ফারাজা পাগলের মতো লিচু খাচ্ছে। তার হাত-জামা রসে মাখামাখি। দেখতে বড় ভালো লাগছে। আমি মনে করতে পারছি না, আমার বাবা আমাকে এভাবে বসিয়ে আম, লিচু খাইয়েছে কিনা।

বিকেলে আমি আর ফারাজা বের হলাম।
সাথে ছাতা নিয়েছি। ফারাজা বলল, বাবা আমরা কোথায় যাচ্ছি? বললাম, আজ তোমার জন্য জামা কিনব, জুতো কিনবো। ফারাজা খুশি। আমরা রিকশায় করে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে যাচ্ছি। আকাশ ভরা মেঘ। বড় একটা দোকানে গেলাম। কন্যা নিজেই এক জামা পছন্দ করলো। জুতো আর পছন্দ হয় না। মার্কেটে অনেক হাঁটাহাঁটি করার কারণে ফারাজা ক্লান্ত। আমরা কেএফসি গেলাম। চিকেন টিকেন খেলাম। সুরভিকে ভিডিও কল করলাম। সে বলল, আমাকে রেখে তোমরা বাইরে গেলে। চিকেন খাচ্ছো!! আমি বললাম, আমি আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছি। তোমার বাবা তোমাকে নিয়ে যাবে। ব্যস শেষ। এরপর আমি আর ফারাজা আইসক্রিম খেলাম। একলোক তালের শাঁস বিক্রি করছিলো, আমরা তালের শাঁসও খেলাম। সুরভির জন্যও কিছু নিয়ে নিলাম। লাইফ ইজ বিউটিফুল বলা যেতে পারে। আমাকে আল্লাহপাক সুন্দর জীবন কেন দিলেন? আমি নামাজ রোজা করি না।

আমাদের বাসার অনেক গুলো বাচ্চাকাচ্চা।
বাচ্চারা আমাকে 'পি' বলে ডাকে। পি অর্থ্যাত প্রিয়। সংক্ষেপে পি। গতকাল রাত ১০ টায় ছোট ভাইয়ের ছেলে আরিশ বলল, পি হাঁটে যাবো। বললাম, চল। আমার বাসা থেকে বিশ মিনিট হেটে গেলেই হাঁট। হাঁট একদম গ্রামের হাঁট হয়ে গেছে। কাঁদা। গোবর, খড়। সব মিলেমিশে একাকার। আর গোবরের গন্ধ তো আছেই। হাঁট ভরা দর্শনার্থী। মাইকে এক লোক সমানে চ্যাচাচ্ছে। ''হাশলি কোরবানির অংশ। হাশলি দিতেই হবে। না দিলে কোরবানি হইবে না। ইলেক্টেশিয়ান রবিউল মাঠের উত্তর দিকে বাতি জ্বলছে না। দ্রুত ঠিক করো। রংপুর থেকে আগত আলামিন বেপারি আপনি অতিসত্বর ১ নম্বর কাউন্টারে যোগাযোগ করুন। মখলেস ভাই, জামালপুর। আপনি শাবল ফেরত দেন নাই। এখনই ফেরত দিন''। আমি যা দেখি তাই উপভোগ করি। হাঁটে গরু বিক্রি হচ্ছে না। ঢাকার মানুষ ইদের এক বা দুই দিন আগে গরু কিনে। গরু রাখার জায়গা নাই। গরু দেখভাল করার লোক নাই।

আমার এক আত্মীয় মারা গেছেন।
আমার আপন খালাতো বোন। বয়স ৫০ থেকে ৫৫ হবে। ক্যান্সার হয়েছিলো। নিয়মিত থেরাপি দিচ্ছেন। তার স্বামী মারা গেছেন ছয় বছর আগে। তাদের একটাই কন্যা। সেই কন্যার বিয়ে হয়েছে এক আমেরিকানের সাথে। আপা হাসপাতালে ভরতি। আমি জানি কিন্তু দেখতে যাইনি। আপা মারা গেলো। আমি দেখতে যাইনি। আপার জানাজা হলো- আমি যাইনি। কেন যাইনি আমি নিজেও জানি না। অথচ আপার সাথে আমার দারুন সুসম্পর্ক। অনেক আড্ডা দিয়েছি আমরা। আপার সাথে আমার শেষ দেখা হয়- একমাস আগে সকালবেলা বাসের মধ্যে। আমি একটা ভুল বাসে উঠেছিলাম। বাস থামবে আমি নেমে যাবো। এমন সময় দেখি আমার পেছনের সিটে আপা বসে আছেন। আপা থেরাপি নিতে হাসপাতালে যাচ্ছেন। এই দেখাই শেষ দেখা। আপা সুরভিকে খুবই পছন্দ করতেন। এই আপার গল্প একদিন আপনাদের বলব। দারুন সংগ্রামী জীবন তার।

আপনাদের খবর কি? দিনকাল কেমন যাচ্ছে?
কে কোথায় ইদ করবেন? আমি ঢাকায় ইদ করবো। বরাবর ঢাকাতেই ইদ করি। চাঁদগাজী ইদ করবেন আমেরিকাতে। কামাল১৮ ইদ করবেন কানাডাতে। ঠাকুর মাহমুদ কোথায় ইদ করবেন আমি জানি না। সৈয়দ কুতুব ইদ করবেন কুমিল্লাতে। শাহ আজিজ ইদ করবেন ঢাকাতে। হয়ত শরীর ভালো থাকলে ফরিদপুর যাবেন। মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ইদ করবেন প্রবাসে। শ্যাইয়ান ভাই ইদ করবেন ঢাকাতে। হয়তো ইদের পর উনি সিলেট যাবেন। নতুন নকিব কোথায় ইদ করবেন আমি জানি না। যে যেখানে ইদ করবেন, করুন। শুধু ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। মাংস কম খাবেন। সব্বোর্চ দুই টুকরা। আমি নিজেও মাংস কম খাবো। ইদ হলো একটা উৎসব। আমরা সবাই আনন্দ করবো। আমি সবাইকে অগ্রীম ইদ মোবারক জানাই। তবে ক্রিমিনালদের আমি ইদ মোবারক জানাবো না। ক্রিমিনাল কারা? আমার ওস্তাদ যাদের ক্রিমিনাল বলেছেন, তারাই ক্রিমিনাল। একদিন সামু ক্রিমিনাল মুক্ত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৯
৮টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম কি নারী নেতৃত্ব বিরোধী?

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ইসলামে নারী নেতৃত্ব জায়েজ কিনা এ বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় মূলক বেশ কিছু পোষ্টও আমার চোখে পড়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের যে বড় ক্ষতি হবে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৩২


জামাত ক্ষমতায় এলে আমাদের সমাজে যে বড় ক্ষতি ও ক্ষত তৈরি হবে, তার কিছু নমুনা ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো তারা ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনেই সংবিধান ছিঁড়ে ফেলবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×