somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৫৬

০৬ ই জুন, ২০২৫ বিকাল ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকাল থেকে কিচ্ছু করি নাই।
এদিকে ১২টা বেজে গেছে। সময় দ্রুত যায়। নাস্তা করিনি তবে দুই কাপ চা খেয়েছি শুধু। অথচ আজ আমার অনেক কাজ। গতকাল অনেক রাতে ঘুমিয়েছি। কারন, আমার কন্যা ফারাজা। রাত দেড়টায় সে বলে, বাবা আম খাবো। সুরভির মেজাজ খারাপ। তাকে বলতে সাহস পেলাম না- মেয়েকে আম কেটে দাও। সে সকাল থেকে ঘরের সব কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে বুয়াও আজ আসে নাই। বুয়া যেদিন না আসে, সেদিন সুরভির মেজাজ খারাপ থাকে। আজ সুরভির মেজাজ খারাপ। কারন, সকাল থেকেই সুরভি মিষ্টি বানাচ্ছে। মিষ্টি গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিন তো এমন হয় না। সুরভির তৈরি মিষ্টির সবচেয়ে বড় ভক্ত হচ্ছে ফারাজা। সে মিষ্টি মুখে দিয়েই বলে- মা দারুন হয়েছে। অথচ এই দারুন মিষ্টি আজ পর্যন্ত আমি এক পিসও খাইনি। এটা নিয়ে সুরভির অনেক দুঃখ আছে।

যাইহোক, ফারাজা চার পিছ আম নিয়ে এসেছে।
সেই আম আমি মেয়েকে কেটে দিলাম। আম গুলো ভালো দারুন মিষ্টি। হিমসাগর আম হলো- আমের রাজা। আম খাওয়ার পর কন্যা ঘুমায় না। বলে, বাবা গল্প বলো। এদিকে আমার চোখে ঘুম। সুরভি অলরেডি গভীর ঘুমে। ফাজ্জাকে বললাম, এখন ঘুমাও। ফাজ্জা বলে এখন আমি গরু দেখতে যাবো। ছোট ভাই হাঁট থেকে গরু কিনে এনেছে। সেই গরু সে তিনবার দেখে এসেছে। বললাম, ফাজ্জা এখন ঘুমাও। ফাজ্জা বলে, তুমি ঘুমাও। আমি একাই যাবো তাহলে। মেয়ের সাহস দেখে আমি অবাক! ছয় তলা থেকে সে একাএকা সিড়ি দিয়ে নেমে গরু দেখতে যাবে। সিড়ির সব লাইট অফ। অলরেডি সে দরজা খুলে নামতে শুরু করেছে। এই হলো অবস্থা।

সকালে এক হুজুর এসেছেন।
তাদের মাদ্রাসায় যেন গরুর চামড়াটা দেওয়া হয়। হুজুরকে বললাম, অবশ্যই চামড়া দেওয়া হবে। হজুর চলে যাচ্ছিলেন, বললাম- বসুন। একসাথে চা খাই। চা খেতে খেতে হুজুরের সাথে গল্প করলাম। হুজুরের বয়স অল্প। বয়স আমার থেকেও কম হবে। বললাম, এখন কি করছেন। হুজুর বলল, আমি মাদ্রাসার শিক্ষক। এছাড়া আমি মাত্রই ধর্মীয় আইন নিয়ে এক বছরের কোর্স শেষ করলাম। বললাম, ধর্মীয় আইন দিয়ে সমাজের কি উপকার হবে? দেশ তো ধর্মীয় আইন দিয়ে চলে না। দেশ চলে সংবিধান অনুযায়ী। হুজুর আমার কথায় নড়ে চনেচড়ে বসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম- হুজুর আমাদের নবীজি নামাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আমি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে দেশ বা সমাজের কি উপকার হবে? অথবা আল্লাহরই বা কি উপকার হবে? হুজুর আমাকে ভুংভাং বুঝাতে শুরু করলো। সম্পূর্ন লজিকহীন কথা শুরু করলো। আমি মন দিয়ে হুজুরের ফালতু কথা শুনলাম। মানুষ বলতে ভালোবাসে।

আগামীকাল ইদ।
আমি সামুতে আসিব না। আমি ঘুমাবো। আমার ঘুমের প্রয়োজন আছে। গত দুই মাস আমি রাতে গড়ে চার ঘন্টা করে ঘুমিয়েছি। মানুষের ঘুমের প্রয়োজন আছে। মানুষ যত ঘুমাবে তত সুস্থ থাকবে। ঘুম কম হলে মানুষ স্ট্রোক করে। সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষের টানা ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। সেখানে আমি মাত্র চার ঘন্টা করে ঘুমিয়েছি। আমি তো নেপোলিয়ান নই। নেপোলিয়ান শালা রাতে তিন ঘন্টা ঘুমাতেন। সেদিন সিএনজি'তে করে বাসায় ফিরছি। হঠাত খেয়াল করে দেখি সিএনজি চালক ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সিএনজি চালাচ্ছে! আমি তো ভীষন অবাক। ভয়ও পেয়েছি। হারামজাদা তো একসিডেন্ট করবে। বাসায় আমার মেয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে। বললাম, আপনি ঘুমাচ্ছেন কেন? একসিডেন্ট হবে তো। সে বলল- আমি কি ইচ্ছা করে ঘুমাচ্ছি নাকি? ঘুমে চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসছে। সিএনজি বিজয় সরনি সিগনালে থেমেছে। আমি ভয়ে সিনজি থেকে নেমে গেলাম। এই শালার সিএনজিতে গেলে নির্ঘাত মরতে হবে। আমি এত তাড়াতাড়ি মরিতে চাহি না।

ঢাকা শহর এখন খালি।
কোথাও কোনো জ্যাম নেই। সমস্যা হলো রাস্তার পাশের চায়ের দোকান গুলোও বন্ধ। রেস্টুরেন্ট বন্ধ। রাস্তায় তুফানের মতো বাস চলছে। খুশিতে একটা বাসে উঠে পড়লাম। মুহুর্তের মধ্যে সংসদ ভবন এসে পড়লাম। বাস যাবে নিউমার্কেট। আমি কি নিউমার্কেট যাবো? নিউমার্কেট গিয়ে কি করিব? সুরভি ফোন দিলো। বলল- তুমি কোথায়? বললাম, আমি নিউমার্কেট। সুরভি বলল- মানে?! বললাম, জ্যোতি নামের একটা মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছি। সুরভি বলল, ডেটিং? আমি কিছু বললাম না। চুপ করে থাকলাম। সুরভি ফোন রেখে দিলো। স্যতি স্যতি জ্যোতি নামের একটা মেয়েকে আমি চিনতাম। মেয়েটা সুন্দর ছিলো। আধুনিক ছিলো। সিগারেট খেতো মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে। কোনো লুকোছুপা ছিলো না। ধানমন্ডির এক আর্ট স্কুলে আমি গিটার বাজানো শিখতাম, জ্যোতি বেহালা বাজানো শিখতো। এখন জ্যোতি কোথায় আছে, কেমন আছে- আমি জানি না। যেখানেই থাকুক, সে ভালো থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০২৫ বিকাল ৩:০২
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের ইতিহাস অন্য কিছুর সঙ্গে মিলবে না, সত্যিই?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×