
সকাল থেকে কিচ্ছু করি নাই।
এদিকে ১২টা বেজে গেছে। সময় দ্রুত যায়। নাস্তা করিনি তবে দুই কাপ চা খেয়েছি শুধু। অথচ আজ আমার অনেক কাজ। গতকাল অনেক রাতে ঘুমিয়েছি। কারন, আমার কন্যা ফারাজা। রাত দেড়টায় সে বলে, বাবা আম খাবো। সুরভির মেজাজ খারাপ। তাকে বলতে সাহস পেলাম না- মেয়েকে আম কেটে দাও। সে সকাল থেকে ঘরের সব কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে বুয়াও আজ আসে নাই। বুয়া যেদিন না আসে, সেদিন সুরভির মেজাজ খারাপ থাকে। আজ সুরভির মেজাজ খারাপ। কারন, সকাল থেকেই সুরভি মিষ্টি বানাচ্ছে। মিষ্টি গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিন তো এমন হয় না। সুরভির তৈরি মিষ্টির সবচেয়ে বড় ভক্ত হচ্ছে ফারাজা। সে মিষ্টি মুখে দিয়েই বলে- মা দারুন হয়েছে। অথচ এই দারুন মিষ্টি আজ পর্যন্ত আমি এক পিসও খাইনি। এটা নিয়ে সুরভির অনেক দুঃখ আছে।
যাইহোক, ফারাজা চার পিছ আম নিয়ে এসেছে।
সেই আম আমি মেয়েকে কেটে দিলাম। আম গুলো ভালো দারুন মিষ্টি। হিমসাগর আম হলো- আমের রাজা। আম খাওয়ার পর কন্যা ঘুমায় না। বলে, বাবা গল্প বলো। এদিকে আমার চোখে ঘুম। সুরভি অলরেডি গভীর ঘুমে। ফাজ্জাকে বললাম, এখন ঘুমাও। ফাজ্জা বলে এখন আমি গরু দেখতে যাবো। ছোট ভাই হাঁট থেকে গরু কিনে এনেছে। সেই গরু সে তিনবার দেখে এসেছে। বললাম, ফাজ্জা এখন ঘুমাও। ফাজ্জা বলে, তুমি ঘুমাও। আমি একাই যাবো তাহলে। মেয়ের সাহস দেখে আমি অবাক! ছয় তলা থেকে সে একাএকা সিড়ি দিয়ে নেমে গরু দেখতে যাবে। সিড়ির সব লাইট অফ। অলরেডি সে দরজা খুলে নামতে শুরু করেছে। এই হলো অবস্থা।
সকালে এক হুজুর এসেছেন।
তাদের মাদ্রাসায় যেন গরুর চামড়াটা দেওয়া হয়। হুজুরকে বললাম, অবশ্যই চামড়া দেওয়া হবে। হজুর চলে যাচ্ছিলেন, বললাম- বসুন। একসাথে চা খাই। চা খেতে খেতে হুজুরের সাথে গল্প করলাম। হুজুরের বয়স অল্প। বয়স আমার থেকেও কম হবে। বললাম, এখন কি করছেন। হুজুর বলল, আমি মাদ্রাসার শিক্ষক। এছাড়া আমি মাত্রই ধর্মীয় আইন নিয়ে এক বছরের কোর্স শেষ করলাম। বললাম, ধর্মীয় আইন দিয়ে সমাজের কি উপকার হবে? দেশ তো ধর্মীয় আইন দিয়ে চলে না। দেশ চলে সংবিধান অনুযায়ী। হুজুর আমার কথায় নড়ে চনেচড়ে বসলেন। আমি প্রশ্ন করলাম- হুজুর আমাদের নবীজি নামাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আমি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে দেশ বা সমাজের কি উপকার হবে? অথবা আল্লাহরই বা কি উপকার হবে? হুজুর আমাকে ভুংভাং বুঝাতে শুরু করলো। সম্পূর্ন লজিকহীন কথা শুরু করলো। আমি মন দিয়ে হুজুরের ফালতু কথা শুনলাম। মানুষ বলতে ভালোবাসে।
আগামীকাল ইদ।
আমি সামুতে আসিব না। আমি ঘুমাবো। আমার ঘুমের প্রয়োজন আছে। গত দুই মাস আমি রাতে গড়ে চার ঘন্টা করে ঘুমিয়েছি। মানুষের ঘুমের প্রয়োজন আছে। মানুষ যত ঘুমাবে তত সুস্থ থাকবে। ঘুম কম হলে মানুষ স্ট্রোক করে। সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষের টানা ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। সেখানে আমি মাত্র চার ঘন্টা করে ঘুমিয়েছি। আমি তো নেপোলিয়ান নই। নেপোলিয়ান শালা রাতে তিন ঘন্টা ঘুমাতেন। সেদিন সিএনজি'তে করে বাসায় ফিরছি। হঠাত খেয়াল করে দেখি সিএনজি চালক ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সিএনজি চালাচ্ছে! আমি তো ভীষন অবাক। ভয়ও পেয়েছি। হারামজাদা তো একসিডেন্ট করবে। বাসায় আমার মেয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে। বললাম, আপনি ঘুমাচ্ছেন কেন? একসিডেন্ট হবে তো। সে বলল- আমি কি ইচ্ছা করে ঘুমাচ্ছি নাকি? ঘুমে চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসছে। সিএনজি বিজয় সরনি সিগনালে থেমেছে। আমি ভয়ে সিনজি থেকে নেমে গেলাম। এই শালার সিএনজিতে গেলে নির্ঘাত মরতে হবে। আমি এত তাড়াতাড়ি মরিতে চাহি না।
ঢাকা শহর এখন খালি।
কোথাও কোনো জ্যাম নেই। সমস্যা হলো রাস্তার পাশের চায়ের দোকান গুলোও বন্ধ। রেস্টুরেন্ট বন্ধ। রাস্তায় তুফানের মতো বাস চলছে। খুশিতে একটা বাসে উঠে পড়লাম। মুহুর্তের মধ্যে সংসদ ভবন এসে পড়লাম। বাস যাবে নিউমার্কেট। আমি কি নিউমার্কেট যাবো? নিউমার্কেট গিয়ে কি করিব? সুরভি ফোন দিলো। বলল- তুমি কোথায়? বললাম, আমি নিউমার্কেট। সুরভি বলল- মানে?! বললাম, জ্যোতি নামের একটা মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছি। সুরভি বলল, ডেটিং? আমি কিছু বললাম না। চুপ করে থাকলাম। সুরভি ফোন রেখে দিলো। স্যতি স্যতি জ্যোতি নামের একটা মেয়েকে আমি চিনতাম। মেয়েটা সুন্দর ছিলো। আধুনিক ছিলো। সিগারেট খেতো মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে। কোনো লুকোছুপা ছিলো না। ধানমন্ডির এক আর্ট স্কুলে আমি গিটার বাজানো শিখতাম, জ্যোতি বেহালা বাজানো শিখতো। এখন জ্যোতি কোথায় আছে, কেমন আছে- আমি জানি না। যেখানেই থাকুক, সে ভালো থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০২৫ বিকাল ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



