somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঘরে ঘরে একই অবস্থা।
কেউ কেউ মুখে বলে, কেউ কেউ বলতে পারে না। বিয়ের কয়েক বছর পরই বউকে ভালো লাগে না। সেই প্রাচীন কাল থেকেই এমনটা হয়ে আসছে আমাদের সমাজে। তারপরও বেশির ভাগই সংসার করে যাচ্ছে। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা একটা গ্রেট সম্পর্ক। অথচ দুজনের একজন বেলাইনে চলে গেলেই সমস্যা। নাটক সিনেমা টিকটক ইউটিউব ফেসবুক এসব মানুষের মাথা নষ্ট করে দিচ্ছে। মানুষ ভুলে গেছে বাস্তব জীবন এবং ভার্চুয়াল জীবন এক নয়।

সমাজ দেশ বদলে গেছে।
স্ত্রী স্বামীকে পছন্দ করে না, স্বামী স্ত্রীকে পছন্দ করে না। এমনও দেখা যায় দুজন দুজনকে ভালোবেসে বিয়ে করে, কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই সংসারে অশান্তি। ফলাফল ডির্ভোস। এখন তো প্রতিদিন একশ' ডির্ভোস হয়। গত বিশ পঁচিশ বছর ধরে স্বামী স্ত্রীদের মধ্যে ঝগড়া বেশি হচ্ছে। অনেক স্বামী স্ত্রী দুজন দুজনকে ভালোবেসে তবু তাদের ঝগড়া হচ্ছে। তাহলে সমস্যা টা কোথায়? সংসার মানে হচ্ছে সহ্য করে যাওয়া। মানুষের জীবনে ভালো সময় আসে, মন্দ সময় আসে। তাই বলে ঝগড়া করতে হবে? রাগ তেজ দেখাতে হবে? একটু সহ্য করে নিলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

আসলে এযুগের মানুষের মধ্যে সততা নেই,
স্বচ্ছ পবিত্র ভালোবাসা নেই, ব্যাক্তিত্ব নেই। প্রজ্ঞা নেই। ভালোত্ব নেই। মহত্ব নেই। ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নেই। এজন্য কেউ কারো সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারে না। স্ত্রী হতে পারে না স্বামীর মনের মতো, স্বামী হতে পারে না স্ত্রীর মনের মতো। ফলাফল সংসারে অশান্তি। সংসার আনন্দময় করার জন্য স্বামী স্ত্রী দুজনেরই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। সংসারে যত ছাড় দেওয়া হবে, সংসার তত আনন্দময় হবে। কিছুটা তুমি ছাড়ো, কিছুটা আমি, এভাবেই মিলেমিশে সুখ ডেকে আনি। স্বামী যদি বদ হয়, তাহলে তার সাথে না থাকাই ভালো।

ফিলিংস মানে কি? আপনার প্রতি সে আকর্ষণ বোধ করছে না?
আপনার প্রতি তার ভালোবাসা নেই? আপনার সাথে সহবাস করে আনন্দ পাচ্ছে না? আপনি তার মনের মতো হতে পারছেন না? আপনি কি আপনার স্বামীর উপর খুশি? সন্তুষ্ট? অসংখ্য মেয়ে মুখবুঝে, শত অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে সংসার করে যাচ্ছে। আমাদের সমাজে মেয়েরা স্বাধীন নয়। একটা মাস্টার্স পাশ করা মেয়েকে দেখি একা যাতায়াত করতে ভয় পায়। সমাজের পুরুষ গুলো খারাপ বলেই মেয়েদের এত দুখ কষ্ট। যে সমাজে পুরুষ ভালো, সেই সমাজে মেয়েদের দুখ কষ্ট থাকে না। ধর্মীয় কারনে মেয়েরা কোনঠাসা। ধর্ম মেয়েদের এগিয়ে যেতে দেয় না।

প্রতিটা মেয়ের উচিৎ নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলা।
ভালো ভাবে লেখা পড়া করা। ভালো রেজাল্ট করা। তারপর ভালো চাকরি অথবা বিজনেস করা। টাকা ইনকাম করা। প্রচুর টাকা ইনকাম করা। টাকা অনেক বড় শক্তি। মেয়েদের উচিৎ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর বিয়ে করা। যে নারী টাকা ইনকাম করে তার কদর আছে। আর যে নারী টাকা ইনকাম করতে পারে না, তার কদর নাই। সংসারে সে যতই খাটাখাটুনি করুক না কেন! মেয়েরা কেন চাকরি করবে না? মেয়েরা কেন সংসারে আবদ্ধ হয়ে থাকবে? মেয়েরা কেন সংসার সংসার করে, স্বামী সন্তান নিয়ে জীবন পার করে দিবে? তারা কেন নিজের ইচ্ছে মতো জীবন যাপন করতে পারবে না? নারীরা মানুষ। তাদের মন আছে, স্বপ্ন আছে।

স্বামীরা এরকমই হয়। ঘরের খাবার তাদের ভালো লাগে না।
বাইরের দিকে তাদের নজর বেশি। স্বামীদের ভালো লাগে পরনারী। ছোক ছোক স্বভাব তাদের। অনেক ফুলের মধু খেতে চায়। একজন দিয়ে তাদের মন ভরে না। মূলত এধরনের স্বামীরা ভন্ড, ইতর, বদমাশ। এরা আসলে পরিবার থেকে সঠিক শিক্ষা পায়নি। এরা পুরুষ নামের কলংক। নারী হচ্ছে ধরনী। এই ধরনীতেই আমাদের বসবাস। যে ছেলে নারীকে সম্মান করবে না, যে ঘরে নারীকে সম্মান করা হয় না, যে সমাজে নারীদের সম্মান নেই, সেই ছেলে, সেই ঘর, সেই সমাজ মন্দ সমাজ। আসলে মানুষের দরকার শিক্ষা। সঠিক শিক্ষা। নারীরা এগিয়ে না গেলে পুরো সমাজ পিছিয়ে যাবে।

আমার নিজের কথা একটু বলি, আমার স্ত্রী আছে।
সে অতি ভালো মেয়ে। মানবিক। আমি তার উপর রাগ করি, সে অনেক লেখাপড়া করেছে কিন্তু চাকরি বাকরি কিছু করলো না। ঘরসংসার করতেই তার বেশি পছন্দ। রান্না করে। ঘর দুয়ার সব সময় সাজিয়ে গুছিয়ে রাখে। মেয়ে হওয়ার পর তার ব্যস্ততা আরো বেড়ে গেলো। মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসা, নিয়ে আসা।মেয়েকে পড়তে বসানো। আফসোস। মানব জীবন একবারই। তাই হেলাফেলা করা উচিৎ নয়। মানুষ হয়ে জন্ম নিলে অনেক দায়দায়িত্ব থাকে। সেসব দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে হয়। একা ভালো থাকা ভালো নয়। আমাদের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভুলে যেও

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

" ভুলে যেও "

একটু একটু করে চলে যাচ্ছি গভীর অতলে,
ধীরে সুস্থে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি
অনন্তকালের ঘরে।
যেখানে থাকতে হবে একাকি
নি:স্বীম আঁধারে।

ভালো থেক ফুল,পাখি, লতাপাতা,
ভালো থেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আকাশ বলতে কিছু নেই

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনেক হয়েছে । আর না ।
সেই পরশু রাত থেকে । এক-দুই-পাঁচ-দশবার নয় । তিরাশিবার ! হ্যাঁ, তিরাশিবার ঈশিতার নাম্বারে ডায়াল করেও কোনো রেসপন্স পায় নি অলক ।
ওপাশ থেকে একটা নারীকণ্ঠ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার রীতিও বদলে গিয়েছে। অনেক ঐতিহ্য কালের গর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোকেয়া পদক ২০২৫: ঘৃণা আর পুরস্কারের এক অদ্ভুত সহাবস্থান

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৭


২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে অনেক কিছু ঘটেছিল। কিছু আশার, কিছু উত্তেজনার, আর কিছু একেবারে হতবাক করে দেওয়ার মতো। হতবাক করার মতো প্রথমেই যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ- মেঘলা আকাশ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৩৮

তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সময় সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪০ মিনিট
জানালা থেকে ঐ বাঁ দিকে Lake Ontario -র জল আর আকাশের মেঘের মেলা মিলেমিশে একাকার


একটু আলোর রেখা
টরোন্টো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×