somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৬৯

২৬ শে নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সময় বিকেল সাড়ে চারটা।
আমি দাড়িয়েছিলাম তাজমহল রোডের রাস্তার পাশে একটা চায়ের দোকানে। একজন আসবে অপেক্ষা করছিলাম। সুন্দর বিকেল। অতি মনোরম! আমার সামনে এক মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। মহিলার পাশে একটা ৮/৯ বছরের ছেলে। মহিলা ছেলেকে বললেন, আব্দুল্লাহ তুমি এখানে দাঁড়াও। আমি দশ মিনিট পর আসছি। মহিলা চলে গেলেন। ছেলেটা আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে মাদ্রাসায় পড়ে। মাদ্রাসার উইনিফর্ম পরা। মাথায় টুপি। আমার মাথায় প্রশ্ন জাগলো- ছেলেটা কেন স্কুলে না পড়ে মাদ্রাসায় ভরতি হলো? কৌতূহল চেপে রাখতে পারলাম না। ছেলেটাকে প্রশ্ন করলাম- তুমি কোথায় পড়ো, কিসে পড়ো?

ছেলেটা বলল, আমি জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসাতে পড়ি।
'হিফজ' পড়ছি। ছেলেটার কথা বলার মধ্যে কোনো জড়তা নেই। মিষ্টি চেহারার একটা ছেলে! স্কুলে ভরতি না হয়ে মাদ্রাসায় গেলো! আমি বললাম, আর কিছুদিন পর তুমি নিশ্চয়ই কোরানে হাফেজ হবে? ছেলেটা বলল, আল্লাহ যদি চায়। বললাম, তুমি মাদ্রাসা বাদ দিয়ে স্কুলে ভরতি হও। স্কুল শেষ করে কলেজে তারপর ইউনিভার্সিটি। লেখাপড়া শেষ করার পর ভালো চাকরি পাবে। অনেক টাকা ইনকাম করবে। সেই টাকা দিয়ে তুমি সুন্দর জীবনযাপন করতে পারবে। মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে না। এমনকি তখন তুমি চাইলে তোমার মা বাবাকে হজ্ব করিয়ে আনতে পারো। কত না আনন্দের ব্যাপার! ছেলেটা আমার কথা মোটেও পছন্দ করছে না।

ছেলেটাকে বললাম, মাদ্রাসা পড়ে কি পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার হওয়া যাবে?
ছেলেটা বলল, না। বললাম, মাদ্রাসায় লেখাপড়া করলে তোমাকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে। ভালো চাকরি পাবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরআন পড়াতে হবে, নইলে মসজিদের ইমাম অথবা মাদ্রাসার শিক্ষক। অথবা মসজিদের খাদেম। এসব কাজ করলে তুমি অল্প টাকা সেলারি পাবে। সেটা দিয়ে তোমার জীবন কাটবে অভাবে অভাবে বারো মাস। সেটা কি ভালো হবে? আমি এসব বিষয় ভাবি না। বললাম, তাহলে তুমি কি ভাবো? ছেলেটা গর্ব করে বলল- 'আখিরাত'! চিন্তা করে দেখেন অবস্থা বাচ্চা একটা ছেলে- তার মাথায় ঘুরছে আখিরাত! বাস্তব দুনিয়া নিয়ে তার চিন্তা নেই। সে পড়ে আছে আখিরাত নিয়ে!

আমার ইচ্ছা করছে ছেলেটার মাকে বিষয়টা বুঝিয়ে বলি।
স্কুলে পড়লে কি কি সুবিধা। মাদ্রাসা কেন বাদ দিতে হবে। মাদ্রাসায় যে বলাৎকার হয় সেটাও বুঝিয়ে বলি। কিন্তু আমি ছেলেটার মাকে শেষমেষ কিছুই বলতে পারলাম না। কারন এরকম আগে হয়েছে- ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে, বাবা-মাকে বুঝাতে গিয়েছি তাদের সন্তানকে যেন স্কুলে ভরতি করিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে ছেলের জন্য ভালো হবে। আমার পুরো কথা না শুনেই মা-বাবা'রা রেগে যায়। এতটাই রেগে যায় যে, যেন এখনই আমাকে মারবে। না মারলে তাদের কলিজা জুড়াবে না। আমি নাকি ইসলামের দুশমন। আমি নাকি তাদের ভুল পরামর্শ দিচ্ছি। আমি নাকি জাহান্নামের পথ দেখাচ্ছি। এরপর থেকে আমি কাউকে বুঝাতে যাই না। শুধু মনে মনে আফসোস করি।

আমি ইসলামের দুশমন নই।
আমি নিজে মুসলিম। আমি প্রতিনিয়ত প্রভুকে স্মরন করি। আমি মাদ্রাসার বাচ্চা ছেলেদের বুঝাতে চাই- অল্প বয়সে আখিরাতের চিন্তা করার কোনো দরকার নাই। এখন মন দিয়ে শুধু লেখাপড়া করে যাও। এমন না যে স্কুলে পড়লে আরবী পড়া যাবে না। কোরআন হাদিস পড়া যাবে না। মানব জীবন একটাই। পরকালের চিন্তায় বর্তমান নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। বর্তমান গুরুত্বপূর্ন বলেই তো প্রভু আমাদের দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। আমরা বর্তমান ভুলে গেলে, ঈশ্বর নিজেই রাগ করবেন। বলবেন, গাধা গুলো করে কি! কত সুন্দর রুপ, রস, গন্ধ ভরা সুন্দর পৃথিবী তৈরি করে দিলাম, গাধা গুলো সেসব উপভোগ না করে আখিরাত নিয়ে ব্যস্ত!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৫৫
১২টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন মরুঝড়: রেড নোটিশের খোঁজে আরিয়ান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:১৬



দুবাইয়ের জুমেইরাহ বিচের বিলাসবহুল পেন্টহাউসের কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের কৃত্রিম দ্বীপগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলেন সায়েম চৌধুরী। একসময় ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×