somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল - ৮৮

৩০ শে নভেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রিকশায় উঠে জীবনে একবারই ভালো লেগেছিলো।
অনেক বছর আগে। সেটা আজও ভুলিনি। কোনোদিন ভুলিব না। সেই ঘটনাটা বলা যেতে পারে। একদিন নীলা ফোন করে বলল, বিকেলে শহীদ মিনার আসো। নীলা আমার বন্ধু। হলে থেকে পড়াশোনা করছে। নীলার সাথে আমার সম্পর্কটা প্রেম ভালোবাসার নয়। তবু নীলা ডাকলে মানা করতে পারি না। নীলা হচ্ছে সহজ সরল সুন্দর একটা মেয়ে। মানবিক এবং হৃদয়বান। নীলাকে আমি অনায়াসে যে কোনো কথা বলতে পারি। নীলাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, বলতো আমি কেমন ছেলে? নীলা কোনো রকম ভনিতা না করে বলেছিলো- তুমি এমন একজন মানুষ যাকে বিনা দ্বিধায় বিশ্বাস করা যায়। মন খারাপ হলে যার কাধে মাথা রেখে কান্না করা যায়।

একদিন ভরদুপুরে ফোন করে আমায় ডাকলো।
সে ক্লাস করবে না। তার কিচ্ছু ভালো লাগছে না। আমি দৌড়ে গেলাম নীলার সাথে দেখা করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আমাদের একটা প্রিয় জায়গা আছে, আমরা সাধারণত সেখানে বসেই গল্প করি। মাথার উপরে বিশাল গাছ! আমরা বাদাম খাই, আইসক্রিম খাই, ঝালমুড়ি খাই। আর নানান বিষয়ে গল্প করি। বহু দুপুর কাটিয়েছি নীলার সাথে। মঞ্চ নাটক দেখেছি। বহু বার তূরাগ নদীতে নৌকায় করে গোলাপ গ্রাম গিয়েছি। বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে পদ্মপুকুরে চুপচাপ বসে থেকেছি। আর্ট গ্যালারিতে গিয়ে ছবি দেখেছি। পুরান ঢাকাতে যেতাম বিরানি খেতে। আমরা রিকশায় করে সারা ঢাকা শহর ঘুরে বেড়িয়েছি। রিকশায় উঠলেই নীলা বলতো, তুমি কি চাও আমি রিকশা থেকে পড়ে যাই? আমি বললাম, না। নীলা বলতো, তাহলে আমাকে ধরে রাখছো না কেন?

একদিন ফুলার রোডে গেলাম নীলার সাথে দেখা করতে।
সেদিন কোনো কারণে নীলার মন খারাপ ছিলো। আমরা হাটতে হাটতে শহীদ মিনার পর্যন্ত গেলাম। হটাৎ নীলা বলল, আমার দূরে কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে! আমি কোনো কিছু না ভেবেই বললাম চলো যাই। রাত ১১ টায় আমরা একটা বাসে উঠে পড়লাম। বাস কোথায় যাবে আমাদের জানার কোনো প্রয়োজন নেই। কারন, বাস যেখানে যাবে, আমরা যাবো। শেষ গন্তব্যে নেমে যাবো। কিছু সময় সেখানে থেকে আবার আরেক বাসে উঠে ঢাকা ফিরে আসবো। কোনো রকম ভাবনা চিন্তা না করেই, আমরা রওনা দিলাম। ভাবটা এরকম— যা ঘটার ঘটুক। আমরা কেয়ার করি না। সবচেয়ে বড় কথা নীলা পাশে থাকলে, আমার নিজেকে মিশরের সম্রাট বলে মনে হয়।

শীতের রাত! শেষমেশ বাস ছাড়লো রাত ১২ টায়।
সে বছর অনেক শীত পড়েছিলো। শা শা করে বাস চলছে! নীলা বার বার আমাকে জড়িয়ে ধরছে। যেন আমাকে জড়িয়ে ধরলে তার শীত কমে যাবে। অথবা আমি তার প্রেমিক। কিংবা আমাদের নতুন বিয়ে হয়েছে আমরা হানিমুনে যাচ্ছি। যাইহোক, রাত দুটার দিকে বাস থামলো, বিশাল এক রেস্টুরেন্টের দিকে। রেস্টুরেন্টের নাম নূর জাহান। আমাদের বেশ ক্ষুধা পেয়েছিল। আমরা ভাত মাছ খেলাম। রান্না ভালো ছিলো। তারপর দই মিষ্টি খেলাম। বাসে উঠার আগে আমি একটা সিগারেট ধরালাম। নীলা বলল, আমাকেও একটা সিগারেট দাও। দিলাম নীলাকে সিগারেট। সে এক টান দিয়েই খুক খুক করে কাশতে শুরু করলো। বলল, এই বাজে জিনিস এত আগ্রহ নিয়ে খাও কিভাবে!

ভোর সাড়ে চারটায় আমরা বাস থেকে নামলাম।
বাস থেকে নেমেই আমরা শীতে ঠক ঠক করে কাপছি। প্রচন্ড প্রচন্ড এবং প্রচন্ড শীত। কই যাবো, কি করবো কিছুই জানি না! সম্পূর্ণ অপরিচিত জায়গা। একটা চায়ের দোকান খোলা পেলাম। পরপর দু'কাপ করে চা খেলাম। না শীত কমে না। চায়ের দোকানে আর কতক্ষণ বসে থাকবো! লোকজন কেমন চোখে যেন আমাদের দিকে তাকাচ্ছে। তারা হয়তো ভাবছে, এই পরীর মতো সুন্দর মেয়েটাকে নিয়ে আমি পালিয়েছি। আমরা হাটতে শুরু করলাম। এই তো আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে। চারিদিকে গভীর কুয়াশা। এত কুয়াশা আমি জীবনে দেখিনি। নীলা আর আমি কুয়াশা দেখে মুগ্ধ! হঠাৎ নীলার কি হলো কে জানে! আমাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু খেলো। অপ্রত্যাশিত আনন্দে আমি অভিভূত। জীবনে প্রথম কোনো নারী আমাকে চুম্বন করলো।

আমরা কিছুটা ক্লান্ত। নীলা বলল আর হাটতে ইচ্ছে করছে না।
এই ভোর বেলা, তীব্র কুয়াশার মধ্যে একটা রিকশা পেয়ে গেলাম। রিকশা চালককে মনে হলো দেবদূত। আমরা রিকশায় উঠে বসলাম। কুয়াশা ভেদ করে রিকশা এগিয়ে যাচ্ছে! কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না। রিকশা চালক কিভাবে রিকশা চালাচ্ছে কে জানে! শীতে আমরা জুবুথুবু। দুজন দুজনের হাত ধরে রেখেছি। যেন আমাদের কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। নো নেভার। আমার মনে হচ্ছে রিকশা চলেছে বেহেশতের কোনো পথ দিয়ে। এত আনন্দ জীবনে আর কখনো পাইনি। ভোরবেলা আমরা একটা হোটেলে উঠি। ক্লান্ত বিধ্বস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। দুপুর বেলা একটা বাসে উঠে ঢাকার দিকে রওনা দেই। এই ঘটনার উপসংহার হচ্ছে, নীলার সাথে আমার বিয়ে হয়নি। প্রায় এক যুগ হয়ে গেলো নীলার সাথে আমার যোগাযোগ নেই। তবে নীলার জন্য আমার ভালোবাসা আছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০২৫ রাত ১২:৩৬
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪৫


শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক The Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত একটি বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের কনফারেন্সের বাংলা ভার্সন/ জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কণ‍্যা শেখ হাসিনা ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২০


ল্লীর প্রেস কনফারেন্সে শেখ হাসিনা ,ইংরেজীতে তাঁর বক্তব্য রাখেন, পুরো বক্তব্যটি পাঠকের জন্য বাংলায় অনুবাদ করে দেয়া হলো-

Fcc South কে ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বক্তব্য শুরু করেন।

বাংলাদেশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×