somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সুখী মানুষ হওয়ার উপায় কি?

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার বন্ধু শাহেদ জামাল। শাহেদ একজন সুখী মানুষ।
শাহেদকে প্রশ্ন করেছিলাম, সুখী মানুষ হওয়ার উপায় কি রে? আমার কথা শুনে শাহেদ হাসে। সহজ সরল সুন্দর হাসি। শাহেদ বলেছিলো, অর্থচিন্তা বাদ দাও। তাহলে'ই জীবন সহজ ও সুন্দর হয়ে যাবে। যেমন ধরো, আগামীকাল শুরু হবে আমার খালি পকেটে। এক কাপ চা, একটা সিগারেট খেতে মন চাইলেও খেতে পারবো না। তার জন্য আমার কোনো চিন্তা ভাবনা নেই। মন খারাপ নাই। অতি লোভ মানুষকে ধ্বংস করে। মানুষের শুধু চাই আর চাই। এত এত চাওয়ার কারনেই মানুষের জীবনে সুখ থাকে না। শাহেদ জামাল তীব্র আত্মবিশ্বাসী গলায় বলল- সুখী হওয়ার মুল মন্ত্র হচ্ছে- সহজ সরল জীবনযাপন করা। অর্থনীতির সুত্র বলে, মানুষের চাহিদার শেষ নেই বলেই- মানুষের অভাব থাকে বারো মাস।

আমি চিন্তা করে দেখলাম, শাহেদ জামাল সঠিক কথাই বলেছে।
দুনিয়ার কোনো কিছুর প্রতি শাহেদ জামালের লোভ নেই। গাড়ি, বাড়ি, জমি, ব্যাংক ব্যালেন্স করতে হবে- এরকম কোনো তাগিদ তার নেই। সে আছে মহা আনন্দে। এমনকি তার কোনো শারীরিক চাহিদাও নেই। একবার শাহেদকে সেন্টাল রোড, ধানমন্ডি নিয়ে গেলাম এক বাসায়। সুন্দর এক মেয়েকে দেখিয়ে বললাম, এই মেয়েটার নাম- অঞ্জনা। এই মেয়েটার সাথে তুমি কিছুক্ষন থাকো। আমি এক ঘন্টা পর এসে তোমাকে নিয়ে যাবো। শাহেদ জামাল এই মেয়ের হাত পর্যন্ত ধরেনি। অঞ্জনা খুবই অপমান বোধ করেছে। এরকম ছেলে জীবনে সে দেখেনি। অঞ্জনা নিজে তাকে বিছানায় আহবান জানিয়েছে, শাহেদ তার আহবানে সাড়া দেয়নি। শাহেদ বলেছে, অঞ্জনা তুমি দেখতে সুন্দর। আমি তোমার বিছানায় যাবো না। আমাকে এক কাপ চা দাও। চা খেয়ে বিদায় হই।

শাহেদ জামালের ধারনা আমি সুখী মানুষ।
আমি নাকি বউ বাচ্চা নিয়ে মহা সুখে আছি। হ্যা আমার স্ত্রী আছে। কন্যা আছে। অফিস করি। বাসায় যাই। বাসায় যাওয়ার আগে দুই হাত ভরতি করে বাজার করি। ছুটির দিনে সারাদিন বউ বাচ্চা নিয়ে একসাথে সময় পার করি। মুভি দেখি। মেয়েকে গল্প শোনাই। মেয়েকে নিয়ে শপিংয়ে যাই। তবে একথা সত্য- আমি সারাদিন পর যখন বাসায় ফিরি, আমার কন্যা- 'বাবা' 'বাবা' বলে চিৎকার করে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে, তখন আমার নিজেকে একজন সুখী মানুষ বলেই মনে হয়। না চাইতেই যখন সুরভি এক কাপ চা দেয়, তখন আমার নিজেকে সুখী মানুষ বলেই মনে হয়। কিন্তু আমি দুঃখী মানুষ। আমার কোনো পিএইচডি ডিগ্রী নেই। আমস্টারডাম শহরে আমার কোনো বাড়ি নেই। আরো অনেক কিছু নেই।

আসলে সুখী হতে তেমন কিছু লাগে না।
শুধু ভাবলেই হলো- আমি সুখী মানুষ। ব্যস। দুঃখ নিয়ে বিলাসিতা করার সরকার কি? লোভ এবং চাহিদা বাদ দিলে জীবন এমনিতেই সুন্দর হয়ে যায়। আমি আমার জীবন থেকে লোভ এবং চাহিদা ত্যাগ করতে পেরেছি। আমি ভালো আছি। আমি স্নান করতে করতে ভুল সুরে গান গাই রবীন্দ্রনাথের। আমি মানুষকে ক্ষমা করে দেই এবং ক্ষমা চেয়ে নিই। ব্যস, সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো। হয়ে গেলাম আমি সুখী মানুষ। বাসে উঠেছি, কেউ একজন আমার পালিশ করা চকচকে জুতো পা দিয়ে মাড়িয়ে দেয়, আমি ক্ষমা করে দেই। রিকশা চালক ত্রিশ টাকার ভাড়া, সত্তর টাকা চায়, আমি মেনে নেই। মাছ বিক্রেতা ওজনে কম দেয়, আমি তাকে ক্ষমা করে দেই। ফল বিক্রেতা পচা ফল দিয়ে দেয়, আমি হেসে তাকে ক্ষমা করে দেই। ক্ষমা করতে শেখা এবং ক্ষমা চাওয়া শেখার পর আমি ভালো আছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৩
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×