somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বকর বকর!!!

১৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার জীবনে আমি কিছুই করতে পারিনি।
যা যা করা হয়নি, তার তালিকা করলে, তালিকা লম্বা হতেই থাকবে। রাস্তায় প্রায় দেখা যায়, কিছু লোকজন ফুটপাতে দাড়িয়ে প্রস্রাব করছে। এই কাজটি আমি কোনোদিন করতে পারিনি। অনেককে দেখি রাস্তায় মেয়ে দেখলেই কুৎসিত ভাবে তাকিয়ে থাকে। আমি রাস্তায় কোনো মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি না। কেন জানি ইচ্ছাই হয় না। সমরেশ মজুমদারের একটা লেখায় পড়েছিলাম, পুরুষ মানুষ চিতায় উঠেও যায় একবার চোখ মেলার সুযোগ পায়, তবুও সেটা মেলবে মেয়েদের দিকে। একদিন হুট করে মরে যাবো, কত শত আফসোস থেকে যাবে। দরিদ্ররা আফসোস কম করে, ধনীরা আফসোস বেশি করে। অবশ্য আমার কোনো আফসোস নেই!

লোকাল বাসে আমি কখনো ঝগড়া করতে পারি নাই।
একবার কাওরানবাজার থেকে বাসে উঠেছি। মিরপুর দশ যাবো। ভাড়া দিলাম বিশ টাকা। কিন্তু কন্টাকটর শ্যাওড়াপাড়া গিয়ে আমার কাছে আবার ভাড়া চাইছে! বললাম, ভাড়া তো দিয়েছি। কন্টাকটর তার হলুদ দাত বের করে বলল, ১৮ বছর ধরে কন্টাকটরগিরি করি। লোক দেখলেই বুঝতে পারি, কে ভাড়া দেয়, আর কে ভাড়া মেরে খায়। আপনি ভাড়া দেন নাই। আমি বিরাট লজ্জায় পড়লাম। হারামজাদা কয় কি! এদিকে বাসের লোকজন আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। এখন আমি কি করবো? লজ্জায় আমি শেষ। অথচ আমি ভাড়া দিয়েছি। নতুন একটা বিশ টাকার নোট দিয়েছি। শেষে কন্টাকটরকে আবার ভাড়া দিলাম। কন্টাকটর বিজয়ের একটা হাসি দিলো।

রাত প্রায় ১২ টা!
মৎসভবন থেকে হেটে হেটে প্রেসক্লাবের দিকে যাচ্ছিলাম। কোনো রিকশা নেই। রাস্তাঘাট বেশ নিরিবিলি। আশ্বিন মাসের রাত। যে কোনো সময় হুট করে বৃষ্টি নেমে যেতে পারে। ঠান্ডা বাতাস বইছে! আকাশের চাঁদ দেখা যাচ্ছে না। বিশাল এক মেঘ খন্ড চাঁদটাকে ঢেকে দিয়েছে। এক ভিক্ষুক ফুটপাতে শোয়ার ব্যবস্থা করছে, আমাকে দেখেই ভিক্ষা চাইল। আমি ভিক্ষুকের দিকে ফিরেও তাকালাম না। মনে মনে বললাম, সারাদিন অনেক হাটাহাটি করেছেন, এখন বিশ্রাম নিন। কিছু ভিক্ষুক আছে, দেখলেই বিরক্ত লাগে। ভিক্ষা দিতে ইচ্ছে করে না। বোকা ভিক্ষুক। ধনী এক মহিলাকে বিয়ে করলে তো আর ভিক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না। একটু বুদ্ধি না থাকলে, বেচে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়।

যাইহোক, প্রেসক্লাবের সামনে আসতেই একটা মেয়ে আমার দিকে এগিয়ে এলো।
দেখেই বুঝা যাচ্ছে, দরিদ্র একটা মেয়ে। জামা কাপড়ে স্পষ্ট দারিদ্রতার ছাপ। সস্তার মেকাপ চোখে মুখে। কিন্তু মেয়েটাকে দেখে ভালো লাগছে। মেয়েটার চোখে মুখে কোথাও একটা সরলতা আছে! চারপাশে জটিল কুটিল মানুষ। জটিল কুটিলের ভিড়ে একআধজন সহজ সরল মানুষ দেখলে ভালো লাগে। একবার আমি এক সহজ সরল মানুষ পেয়েছিলাম। সেই মানুষ টা আমায় বলেছিল, বাবু একটু পানি দাও চিড়া ভিজিয়ে খাবো। আবার আমায় ভিক্ষুক ভেবো না। আমি শহরে আসছি, আমার ভাইকে খুজতে। আমি লোকটাকে ভালো করে দেখলাম। আলাভোলা টাইপ মানুষ। লোকটার হাতে শুধু পানি আছে, চিড়া নেই। লোকটা চাইবে চিড়া। অথচ লোকটা ভুল করে বলছে, বাবু একটু পানি দাও, চিড়া ভিজিয়ে খাবো।

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে! অনেক রাত!
প্রেসক্লাবের সামনে মেয়েটা বলল, তার সাথে কিছুক্ষন সময় কাটাতে। বিনিময়ে অল্প কিছু টাকা দিলেই হবে। আমি মানা করে দিলাম। যদিও আমার খুব ইচ্ছে করছিল, এই বৃষ্টির রাতে মেয়েটির সাথে কিছু আনন্দময় সময় কাটাই। কি হবে যদি কিছু ঘটে, ঘটুক! ব্যস্ততা এবং লজ্জায় মেয়েটার সাথে সময় কাটাতে পারলাম না। আমৃত্যু এই আফসোস আমার থেকে যাবে। বাসায় ফেরার পর মনে হলো, বৃষ্টির রাতে মেয়েটা এখন কি করছে! কার বুকে মাথা রেখেছে! আমার উচিৎ ছিলো মেয়েটার হাতে কিছু টাকা গুজে দেওয়া। বেচারি! আশা করে এসেছিল আমার কাছে! দরকারি কাজ গুলো কখনোই করা হয় না! ধরে নিলাম, মেয়েটির নাম সুরঞ্জনা! সুরঞ্জনা ভালো থেকো, আমি তোমাকে ভুলিনি। যদি আবার তোমার সাথে দেখা হয়, এবার সত্যি সত্যি সাহস সঞ্চয় করে তোমার সাথে সময় কাটাবো। কথা দিলাম। আমি কথা দিলাম।

গ্রামের নাম রসূলপুর। একদম সুন্দরবন ঘেষে এই গ্রাম!
নিরিবিলিতে সময় কাটানোর জন্য গ্রামে এসেছি। আর মন ভরে প্রকৃতির ছবি তুলবো। এখানে এসে পরিচয় হয় চাঁদনী নামে একটা মেয়ের সাথে। চাঁদনী সহজ সরল গ্রামের মেয়ে! মেয়েটা আমাকে ভালোবেসে ফেলে। আমি ঢাকা ফিরে আসার সময়, সে আমায় জড়িয়ে ধরে কি কান্না! সে আমাকে বিয়ে করবে। আমি বিয়ে না করলে মরে যাবে। কি বিপদে পড়লাম! চাঁদনী মেয়েটার সাথে আমার পরিচয় তিন দিনের। সে তিন দিন আমার সাথে ছিলো। আমি ছবি তুলেছি, মেয়েটা আমার সাথে ঘুরঘুর করেছে। শুধু বাংলা সিনেমার মতো একটা ঘটনা ঘটেছে। একদিন হুট করে আকাশ কালো করে বৃষ্টি নেমেছে। বজ্রপাত হয়েছে, তখন মেয়েটা ভয় পেয়ে আমায় জড়িয়ে ধরেছে। এই মেয়ে একদিন বাসায় এসে হাজির! মাকে বলে, আপনার ছেলেকে বিয়ে করতে চাই। আমার মা মেয়ের কথা শুনে হাসে!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেম....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১০



সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেমঃ সমর্থনের জায়গা থেকেই কিছু কঠিন কথা.....

ছয় মাস খুব দীর্ঘ সময় নয়- কিন্তু একটি সরকারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠের সওয়াব

লিখেছেন শিমুল মামুন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬


লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এর ফজিলত ও সওয়াব অনেক বেশি। আমলটি করার ব্যাপারে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে।

সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ হয়
আবদুল্লাহ ইবনে আমর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×