somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১৮৫

২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই কন্যাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। ওরে বাবা কঠিন অবস্থা! প্রচন্ড ভিড়! কন্যাদের বললাম, অনেক ভিড়। চলো বাসায় চলে যাই। তোমার মা খুব সুন্দর করে মেহেদি দিয়ে দিতে পারবে। কন্যারা মেহেদি না দিয়ে বাসায় যাবে না। শেষে রাত দেড় টায় মেহেদি দিয়ে বাসায় ফিরি। এরপর আমি বাজারে যাই শেষ মুহুর্তের বাজার করতে। আজ বাসার সবাই মিলে মেহেদি দিতে যাবে। আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি, আমি পারিব না। সুরভি বাসার সব বাচ্চাদের নিয়ে গেছে মেহেদি দিতে। এত গুলো বাচ্চাকে নিয়ে কিভাবে যাবে কে জানে! ড্রাইভার ইদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি চলে গেছে। আমার বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১১ টা বেজে যাবে।

গতকাল ইফতারির পর- কথা নেই, বার্তা নেই- হঠাত বৃষ্টি শুরু হলো।
সাথে ধমকা বাতাস! এখন বৃষ্টি মানে বিরাট বিপদ। লোকজন কেনাকাটায় ভীষন ব্যস্ত। এদিকে ফুটপাতে লাখ লাখ দোকানের কি হবে? তারা বৃষ্টির মধ্যে কোথায় যাবে? সবচেয়ে বড় কথা তাদের ব্যবসায় বিরাট ক্ষতি হয়ে গেলো! গতকাল রাত একটায় আমি মিরপুর দশ নম্বর দাড়িয়ে আছি। সিএনজি পাচ্ছি না। অনেকক্ষন পর-পর একটা সিএনজি আসে, লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমি ভাই ধাক্কা-ধাক্কি করে সিএনজি ঠিক করতে পারিব না। এদিকে সময় চলে যাচ্ছে। সুরভি আছে গুলশান আড়ংয়ে। তাকে নিয়ে বাসায় ফিরবো। সুরভিকে ফোন করে বলে দিলাম, তুমি চলে যাও। আমি আসতে পারবো না। কয়েকবার রিকশা চেঞ্জ করে আমি রাত সোয়া দুটায় বাসায় ফিরি। আমি ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। সুরভি বলল, তোমার সাথে কথা আছে! আমি বললাম, আগামীকাল কথা বলব। যাওয়ার আগে রুমের লাইট অফ করে দিয়ে যাও, প্লীজ। বালিশে মাথা রেখে চিন্তা করলাম, সুরভি কি কথা বলবে? সে তো নতুন একটা দামী মোবাইল কিনেছে। ইদ উপলক্ষ্যে অনেক কেনাকাটা করেছে। আর কি?

এবছর আমি ভরপুর ইফতারি করিনি।
খেতে ইচ্ছে করেনি। কিছুই ভালো লাগেনি। অবশ্য বাসায় ইফতারি করেছি মাত্র চার দিন। আমি মানসিক ভাবে ভালো নেই। আমি ভেবেছিলাম, কোনো দিন আমার ডায়বেটিকস হবে না। কিন্তু আমার ডায়বেটিকস হয়ে গেছে। এরপর খাবার দাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। সামান্য এক কাপ চা খাই চিনি ছাড়া। অথচ সারা জীবন তিন চামচ চিনি দিয়ে এক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাস আমার। ফ্রিজ ভরা চকলেট। সেদিন একটা চকলেট নিলাম। খাবো। এক কামড় দিতেই সুরভি ছো মেরে চকলেট টা নিয়ে নিলো! বাসায় যা-ই রান্না করে আমাকে খেতে দেয় না। যেন আমার মারাত্মক ডায়বেটিকস! এদিকে চোখে ঝাপসা দেখছি সব কিছু! চশমা পড়লেও কাজ হয় না। আমাদের ঘরের কাজের জন্য নতুন এক মহিলা এসেছে। সে আমাকে দেখলেই বলে, সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে, আমাকে কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন। কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতে পারিনি বলে, তাকে ইদের বাজার করে দিয়েছি। তবু সে ফ্যামিলি কার্ড চায়।

সুরভি এবছর প্রচুর কেনাকাটা করেছে।
সেদিন শপিং করে বাসায় ফিরেছে রাত দুটায়। আমি ফারাজাকে নিয়ে বাসায়। সুরভি বাসায় ফিরে বলল, ভেবেছিলাম রেস্টুরেন্ট থেকে সেহেরি খেয়ে বাসায় ফিরবো। তোমাদের জন্য সেহেরি না খেয়ে বাসায় ফিরতে হলো। রমজান মাস আসলে মুসলিমদের বিলাসিতার মাস! সুরভি ধর্মকর্ম মানার পরও বিলাসিতা করছে! এদিকে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বলে, ইদে আমি সব সময় দশ জোড়া জুতো কিনি। এবার বারো জোড়া কিনেছি। আরেক ভাইয়ের বউ বলে, আমার সবচেয়ে কমদামী জুতোর দাম হচ্ছে- পাঁচ হাজার টাকা। অথচ রমজান মাস! কোথাও সংযম নেই। কেনাকাটা, ইফতার, চালচলন, স্বভাবে কোথাও সংযমের পরিচয় দেখি না। ইসলামের ধারে কাছেও কেউ নেই। অথচ সবাই রোজা রাখছে, নামাজ পড়ছে। এ কেমন সিয়াম সাধনা! গ্রামের খবর জানি না, শহরে কারো মধ্যে সংযম নেই।

আমি ধর্ম থেকে দূরে থাকার পরও দেখা যায়-
আমিই সিয়াম সাধনার মধ্যে আছি। আমি অপচয় করি নাই। ইফতার পার্টি করি নাই। এলোমেলো অযথা কেনাকাটা করিনি। কোনো রকম বিলাসিতা করিনি। কাউকে ঠকাইনি। কারো সাথে প্রতারনা করিনি। দান খয়রাত করেছি। আজ চাঁদরাত। রমজান মাস শেষ। আবার এক বছর পর রোজা আসবে! ঢাকা শহর ফাঁকা! কোথাও যানজট নেই। শুধু শপিংমল গুলোতে ভিড়। দুঃখী বাঙালি ইদ উপলক্ষ্যে আনন্দ করুক, কেনাকাটা করুক, ভালো মন্দ রান্না করে খাওয়া দাওয়া করুক। ইদের মাসে সবাই কম বেশি বেতন বোনাস পায়। সবার হাতেই টাকা পয়সা থাকে। এজন্য বুঝি সবার মন মানসিকতা ভালো থাকে। এমনকি মিসকিনদের হাতেও টাকা পয়সা আছে। অতি কৃপণ লোকও জাকাত, ফেতরা দেয়। সবাইকে ইদের শুভেচ্ছা। ইদ মোবারক।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সকালে শিক্ষক, বিকালে সবজি বিক্রেতা

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৪৯


মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন আলোড়ন সৃষ্টিকারী পদক্ষেপে যখন মিডিয়া জগৎ সয়লাব এমনি সময় হটাৎ করেই ইউ টিউবে একটা ভিডিও চোখে পড়লো। ২ মিনিটের এ ভিডিওটা সেলফ এক্সপ্লানেটোরি ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়াময় স্মৃতি, পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫….(৯)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৬

অষ্টম পর্বের লিঙ্কঃ পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

১০ই জিলহজ্জ্ব তারিখে (০৬ জুন ২০২৫) সূর্যোদয়ের আগেই আমরা মুযদালিফা থেকে রওনা হয়ে সকাল সকাল ‘বড় জামারাত’ বা জামারাত আল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুদিত, অনূদিত এবং অনুবাদিত, কোনটার কী অর্থ?

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

অনুদিত, অনূদিত এবং অনুবাদিত, কোনটার কী অর্থ?

অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

প্রথমেই বলা দরকার, "অনূদিত" শব্দটি সাধারণত সঠিক এবং প্রমিত বানান হিসেবে ব্যবহৃত হয় যখন অর্থ "অনুবাদ করা হয়েছে এমন" বা "ভাষান্তরিত"... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শেকল ভাঙার গান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০২

রক্ত-আগুনে প্রতিবাদ চলুক,
বিক্ষোভের অনলে সারাদেশ জ্বলুক ।
শেষ থেকে শুরু হোক না আবার,
নতুন করে তো কিছু নেই হারাবার!

পুনরায় বিনাশিব তিমির রাত
আঁধার কেটে জাগবে প্রভাত।

দিকে দিকে সংগঠিত হও... ...বাকিটুকু পড়ুন

Diplomacy is not tourism

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৯


আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের তীরে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। এপ্রিলের শেষে সেখানে বসেছে 'Dakar International Forum on Peace and Security in Africa'-এর দশম আসর। নামটা দীর্ঘ হলেও এবারের হাওয়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×