
ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই কন্যাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। ওরে বাবা কঠিন অবস্থা! প্রচন্ড ভিড়! কন্যাদের বললাম, অনেক ভিড়। চলো বাসায় চলে যাই। তোমার মা খুব সুন্দর করে মেহেদি দিয়ে দিতে পারবে। কন্যারা মেহেদি না দিয়ে বাসায় যাবে না। শেষে রাত দেড় টায় মেহেদি দিয়ে বাসায় ফিরি। এরপর আমি বাজারে যাই শেষ মুহুর্তের বাজার করতে। আজ বাসার সবাই মিলে মেহেদি দিতে যাবে। আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি, আমি পারিব না। সুরভি বাসার সব বাচ্চাদের নিয়ে গেছে মেহেদি দিতে। এত গুলো বাচ্চাকে নিয়ে কিভাবে যাবে কে জানে! ড্রাইভার ইদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি চলে গেছে। আমার বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১১ টা বেজে যাবে।
গতকাল ইফতারির পর- কথা নেই, বার্তা নেই- হঠাত বৃষ্টি শুরু হলো।
সাথে ধমকা বাতাস! এখন বৃষ্টি মানে বিরাট বিপদ। লোকজন কেনাকাটায় ভীষন ব্যস্ত। এদিকে ফুটপাতে লাখ লাখ দোকানের কি হবে? তারা বৃষ্টির মধ্যে কোথায় যাবে? সবচেয়ে বড় কথা তাদের ব্যবসায় বিরাট ক্ষতি হয়ে গেলো! গতকাল রাত একটায় আমি মিরপুর দশ নম্বর দাড়িয়ে আছি। সিএনজি পাচ্ছি না। অনেকক্ষন পর-পর একটা সিএনজি আসে, লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমি ভাই ধাক্কা-ধাক্কি করে সিএনজি ঠিক করতে পারিব না। এদিকে সময় চলে যাচ্ছে। সুরভি আছে গুলশান আড়ংয়ে। তাকে নিয়ে বাসায় ফিরবো। সুরভিকে ফোন করে বলে দিলাম, তুমি চলে যাও। আমি আসতে পারবো না। কয়েকবার রিকশা চেঞ্জ করে আমি রাত সোয়া দুটায় বাসায় ফিরি। আমি ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। সুরভি বলল, তোমার সাথে কথা আছে! আমি বললাম, আগামীকাল কথা বলব। যাওয়ার আগে রুমের লাইট অফ করে দিয়ে যাও, প্লীজ। বালিশে মাথা রেখে চিন্তা করলাম, সুরভি কি কথা বলবে? সে তো নতুন একটা দামী মোবাইল কিনেছে। ইদ উপলক্ষ্যে অনেক কেনাকাটা করেছে। আর কি?
এবছর আমি ভরপুর ইফতারি করিনি।
খেতে ইচ্ছে করেনি। কিছুই ভালো লাগেনি। অবশ্য বাসায় ইফতারি করেছি মাত্র চার দিন। আমি মানসিক ভাবে ভালো নেই। আমি ভেবেছিলাম, কোনো দিন আমার ডায়বেটিকস হবে না। কিন্তু আমার ডায়বেটিকস হয়ে গেছে। এরপর খাবার দাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। সামান্য এক কাপ চা খাই চিনি ছাড়া। অথচ সারা জীবন তিন চামচ চিনি দিয়ে এক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাস আমার। ফ্রিজ ভরা চকলেট। সেদিন একটা চকলেট নিলাম। খাবো। এক কামড় দিতেই সুরভি ছো মেরে চকলেট টা নিয়ে নিলো! বাসায় যা-ই রান্না করে আমাকে খেতে দেয় না। যেন আমার মারাত্মক ডায়বেটিকস! এদিকে চোখে ঝাপসা দেখছি সব কিছু! চশমা পড়লেও কাজ হয় না। আমাদের ঘরের কাজের জন্য নতুন এক মহিলা এসেছে। সে আমাকে দেখলেই বলে, সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে, আমাকে কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন। কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতে পারিনি বলে, তাকে ইদের বাজার করে দিয়েছি। তবু সে ফ্যামিলি কার্ড চায়।
সুরভি এবছর প্রচুর কেনাকাটা করেছে।
সেদিন শপিং করে বাসায় ফিরেছে রাত দুটায়। আমি ফারাজাকে নিয়ে বাসায়। সুরভি বাসায় ফিরে বলল, ভেবেছিলাম রেস্টুরেন্ট থেকে সেহেরি খেয়ে বাসায় ফিরবো। তোমাদের জন্য সেহেরি না খেয়ে বাসায় ফিরতে হলো। রমজান মাস আসলে মুসলিমদের বিলাসিতার মাস! সুরভি ধর্মকর্ম মানার পরও বিলাসিতা করছে! এদিকে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বলে, ইদে আমি সব সময় দশ জোড়া জুতো কিনি। এবার বারো জোড়া কিনেছি। আরেক ভাইয়ের বউ বলে, আমার সবচেয়ে কমদামী জুতোর দাম হচ্ছে- পাঁচ হাজার টাকা। অথচ রমজান মাস! কোথাও সংযম নেই। কেনাকাটা, ইফতার, চালচলন, স্বভাবে কোথাও সংযমের পরিচয় দেখি না। ইসলামের ধারে কাছেও কেউ নেই। অথচ সবাই রোজা রাখছে, নামাজ পড়ছে। এ কেমন সিয়াম সাধনা! গ্রামের খবর জানি না, শহরে কারো মধ্যে সংযম নেই।
আমি ধর্ম থেকে দূরে থাকার পরও দেখা যায়-
আমিই সিয়াম সাধনার মধ্যে আছি। আমি অপচয় করি নাই। ইফতার পার্টি করি নাই। এলোমেলো অযথা কেনাকাটা করিনি। কোনো রকম বিলাসিতা করিনি। কাউকে ঠকাইনি। কারো সাথে প্রতারনা করিনি। দান খয়রাত করেছি। আজ চাঁদরাত। রমজান মাস শেষ। আবার এক বছর পর রোজা আসবে! ঢাকা শহর ফাঁকা! কোথাও যানজট নেই। শুধু শপিংমল গুলোতে ভিড়। দুঃখী বাঙালি ইদ উপলক্ষ্যে আনন্দ করুক, কেনাকাটা করুক, ভালো মন্দ রান্না করে খাওয়া দাওয়া করুক। ইদের মাসে সবাই কম বেশি বেতন বোনাস পায়। সবার হাতেই টাকা পয়সা থাকে। এজন্য বুঝি সবার মন মানসিকতা ভালো থাকে। এমনকি মিসকিনদের হাতেও টাকা পয়সা আছে। অতি কৃপণ লোকও জাকাত, ফেতরা দেয়। সবাইকে ইদের শুভেচ্ছা। ইদ মোবারক।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



