
সমাজে যারা ভালো মানুষ আমি তাদের ভক্ত।
হোক সে একজন বিজ্ঞানী অথবা একজন রিকশা চালক। এখন অবশ্য চারিদিকে তাকিয়ে কোন ভালো মানুষ খুজে পাই না। সব শালা ইতর। হ্যা এটা সত্য বাংলাদেশের মানুষ গুলো ইতর হয়ে গেছে। আগে মানুষের মধ্যে মায়া মমতা ভদ্রতা ছিলো, এখন সব শালা খারাপ। যাইহোক, আমি যাদের পছন্দ করি, আমি যাদের ভক্ত তারা দুনিয়াতে নেই। আমার পছন্দের সব মানুষ মরে গেছে। এদের আমি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি। তাদের প্রতি ভালোবাসায় আমার মাথা নত হয়ে আসে। যারা দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করে তাদের আমি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। তারা আমার কাছে হিরো।
লালন ফকিরকে আমার ভালো লাগে।
গ্রেট মানুষ তিনি। বড় দুঃখের জীবন তার। বিশেষ করে শৈশব তার কষ্টেই কেটেছে। লালনের যখন জন্ম হয়, তখন জাতপাত খুব মানা হতো। লালন এসবের বিরুদ্ধে ছিলেন। লালনের জীবনী সবার পড়া উচিৎ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লালনকে নিয়ে একটা বই লিখেছেন। নাম: মনের মানুষ। এই উপন্যাস নিয়ে সিনেমাও তৈরি হয়েছে। লালনের গান গুলো না শুনলে, না বুঝলে জীবনটাই বৃথা। আমাদের দেশে লালনের অনেক ভক্ত আছে। কুষ্টিয়াতে লালনের মেলা হয়।
বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন আমার পছন্দের।
ছোট বেলা থেকেই আমি এই মহান বিজ্ঞানীকে ভালোবাসি। টমাস এডিস বিজ্ঞানী হতে পেরেছিলেন তার মায়ের কারণে। গ্রেট বিজ্ঞানী। কথায় আছে, কেউ যখন মন থেকে খুব করে কিছু চায়, পুরো পৃথিবী তাকে সেটা পাইয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। ১৮৮৫ সালে এডিসনের স্ত্রী মারা যায়। শূন্যস্থান খুব দ্রুত পূরণ হয়ে যায়। এডিসনের জীবনে আসে মিনা নামের এক তরুনী। মিনা খুবই মায়াবতী ছিলো। শুন্যস্থান খুব দ্রুত পূরণ হয়ে যায়। মিনাকে পেয়ে এডিসন প্রথম স্ত্রীকে ভুলে যায়।
চার্লি চ্যাপলিন আমার পছন্দের। তার একটা মুভি আছে।
নাম 'দ্য কিড'। মুভিটা আমি কম করে হলেও একশ' বার দেখেছি। আসলে আমি চার্লি চ্যাপলিনের সব গুলো মুভিই দেখেছি। যতদিন বেচে থাকবো, দেখিব। চার্লি তার মাকে অনেক ভালোবাসতেন। তার মাওও অভিনয় করতেন কিন্তু জনপ্রিয়তা পান নি। ১৯৭৫ সালে রানী এলিজাবেথ তাকে নাইটহুড উপাধি দেন। তার মৃত্যু হয় ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে। চার্লি নিজেকে সব সময় বিশ্ব নাগরিক বলতেন। আমেরিকা থেকে তাকে বিতাড়িত কর হয়। সন্দেহ করা হয় চার্লি কমিউনিস্ট। এরপর চার্লি সুইজারল্যান্ড চলে যান। বাকি জীবন সেখানেই থাকেন।
মাদার তেরেসার আমি ভক্ত।
মাদার তেরেসা বুঝিয়ে দিয়েছেন, জীবনে ত্যাগ স্বীকার করলে স্বীকৃতি মিলবেই। পৃথিবীর সেরা একজন মানুষ মাদার তেরেসা। মানুষের সেবা করা চারটেখানি কথা নয়। তেরেসা হাই স্কুলে পড়িয়েছেন। কলকাতার বস্তিতে ঘুরে ঘুরে দরিদ্র অসহায় মানুষদের সেবা করেছেন। সমাজে ভালো করতে গেলেও বদনাম কুড়াতে হয়। তেরেসার কিছু বদনাম আছে। তেরেসা নাকি দরিদ্রদের ধরে ধরে খ্রিস্টান বানিয়ে দেন। মিথ্যা কথা। যে স্বেচ্ছায় মানব সেবায় নামে, সে ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামায় না।
মেন্ডেলাকে আমার ভালো লাগে।
মেন্ডেলার জন্ম গ্রামে। লেখাপড়ায় ভালো ছিলেন মেন্ডেলা। একজন শিক্ষক তাকে নেলসন নাম দেয়। তিনি আজীবন গনতন্ত্র, স্বাধীনতা, শান্তি ও মানবতার কথা বলেছেন। কারাগারে ছিলেন ২৭ বছর। এরপর তিনি প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৯৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। মেন্ডেলা একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। মেন্ডেলা আজীবন দেশের জন্য লড়েছেন। তার তুলনা হয় না। পৃথিবীর সবাই তাকে ভালোবাসে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



