
খিজির আঃ এর কাহিনী। তার ডাকনাম ছিল- আবুল আব্বাস।
কুরআনের সুরা আল-কাহফে হযরত খিজির আঃ এর কথা বলা হয়েছে। খিজির নামটা কুরআনে নেই। খিজির নাম আমরা পেয়েছি হাদিস থেকে। কুরআনে যা আছে, সবই মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। হাদিসের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন আল কুরআন। খিজির আঃ নবী নন। আবার ওলি'ও নন। তবে আল্লাহ তাকে কিছু স্পেশাল পাওয়ার দিয়েছিলেন। আজও অনেক ধার্মিকগন মনে করেন খিজির বেচে আছেন। অন্য ধর্মের লোকেরা খিজির আঃ কে দেবতা মনে করেন। ধারনা করা হয় খিজির আঃ আদমের পুত্র। এক হিসেবে বিশ্বের সকল মানুষই তো আদম আঃ থেকে এসেছে।
সূরা আল কাহফে উল্লেখিত একজন জ্ঞানী ব্যাক্তির সন্ধান পাই-
এবং হাদীস থেকে তার একটি নাম পাই- খিজির। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর মুসা আঃ এর সাথে এমন এক ব্যক্তির সাথে দেখা হয়, মহান আল্লাহ যাঁর ওপর বিশেষ রহমত বর্ষণ করেছেন এবং তাঁকে বিশেষ জ্ঞান দান করেছেন। খিজির আঃ কে নিয়ে নানান মিথ ও মুখরোচক ঘটনা আছে। শুধু খিজির নয়- আদম আঃ থেকে শুরু করে- শেষ নবী পর্যন্ত সকলকেই নিয়েই অদ্ভুত ও বানোয়াট সব ঘটনা আছে। যাইহোক, খিজির ছাড়াও কুরআনে উঁচুদরের একজন লোকমান নামে একজনের কথা বলা হয়েছে। যেসব হাদিসে খিজিরের নাম এবং তার জীবিত থাকার কথা উল্লেখ আছে, সেগুলোর সবই মিথ্যা হাদিস।
মুসা আঃ এবং খিজির আঃ একসাথে লম্বা পথ ভ্রমন করেছেন।
নানান ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা দুজন নদী পার হয়। নৌকা ভ্রমনে খিজির শুধু বলেছেন, হে মুসা ধর্য্য ধরো। শান্ত থাকো। নৌকা থেকে নেমে তারা হাটতে শুরু করে। পথে বাচ্চারা খেলা করছিলো। খিজির আঃ এক বাচ্চার মাথাটি ধরে নিজ হাতে তার ঘাড় থেকে আলাদা করে ফেললেন। মুসা আঃ তাঁকে বললেন, আপনি একটি নিষ্পাপ বালককে বিনা অপরাধে হত্যা করলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটা অন্যায় করলেন। খিজির আঃ বললেন, আমি কি আপনাকে বলিনি, আপনি সঙ্গে ধৈর্য ধরে রাখুন। শেষে তারা এক গ্রামে পৌছালো। গ্রাম বাসীর কাছে তারা খাবার চাইলো। কিন্তু কেউ দুটা শুকনা রুটি বা খেজুর দিলো না।
মুসা আঃ রেগে গেলেন।
এটা কেমন গ্রাম অতিথিকে সামান্য এক গ্লাস পানি পর্যন্ত দিলো না। এবার খিজির রেগে গিয়ে বলল, আপনি চলে যান যেখানে খুশি। আপনার ধর্য্য শক্তি একেবারেই নেই। যাইহোক, একবার মুসা আ বনি ইসরাইলে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী? মুসা বললেন, আমি। মুসা আঃ -এর এ উত্তরে আল্লাহ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন। কেননা তিনি জ্ঞানের উৎস হিসেবে আল্লাহ্র কথা বলেননি। আল্লাহ্ মুসা আঃ কে বললেন, দুই নদীর সংযোগস্থলে আমার এক বান্দা আছে। সে তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। সেই জ্ঞানী ব্যাক্তি আমাদের খিজির আঃ।
খিজির সাহেবকে জ্ঞানী বলছেন কেন?
তার জ্ঞান দিয়ে বিশ্ব সংসারের কোন উপকারটা হয়েছে? উনি কি আবিস্কার করেছেন? বিশ্বে তার অবদান কি? রুপকথার দিন শেষ। মুখের কথায় চিড়া ভিজে না। বিশ্বের জন্য আইন্সটাইনের অবদান আছে। টমাস আলভা এডিসনের অবদান আছে। খিজির সাহেব কম্পিউটার মোবাইল বা উড়োজাহাজ আবিস্কার করেন নাই। কিছুই করেন নাই। কাজেই আপনাকে খিরিজ সাহেবের মতো হওয়ার দরকার নেই। আপনি ভালো মানুষ হোন এবং সমাজের জন্য ভালো কিছু করুন।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে নবী-রাসুলদের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




