somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

মোখলেছের কঠিন অবস্থা!

২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি রাস্তায় থাকি। আমার কোনো ঘরবাড়ি নেই।
মা বাবা নেই। এমনকি আমার কোনো ভাইবোন নেই। রাস্তায় না থেকে অন্য কোনো উপায় তো নেই। কারণ আমার কোনো লেখাপড়া নেই। বড় কোনো ডিগ্রি নেই। কোনো রকমে ভেঙে ভেঙে বাংলা রিডিং পড়তে পারি। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে বাংলা লিখতে পারি। আল্লাহর দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া। এই শহর বড় নিষ্ঠুর। কেউ আমাকে আশ্রয় দিবে না। শহরে কতশত সুন্দর সুন্দর বড় বড় দালানকোঠা। সেসব বাড়িতে থাকতে মন চায়। এসি ছেড়ে আরাম করে ঘুমাবো। অল্প ভলিউম দিয়ে রবীন্দ্র সংগীত বাজবে। জানালা দিয়ে দেখা যাবে পূর্নিমার চাঁদ। আবেশে আবেগে ভেসে যাবো। তখনই তো চিৎকার করে বলতে পারিব, লাইফ ইজ বিউটিফুল।

সারাদিন এখানে সেখানে থাকি। হাটাঁহাটি করি।
খুব ক্লান্ত হয়ে গেলে, রমনা পার্কে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকি। সারা বছর আমার পকেট থাকে গড়ের মাঠ। অর্থাৎ ফাঁকা। আজকাল আমার টাকা পয়সা লাগেও না। এক বছর ধরে চুল দাড়ি কাটি না। জামা কাপড়ের অবস্থা ভালো না। খাবারের দোকানে সামনে গিয়ে দাড়ালে কেউ কেউ টাকা পয়সা দেয়। রেস্টুরেন্ট থেকে কেউ কেউ খাবারও কিনে দেয়। সেদিন কড়া রোদ উঠেছে। কাঁচের মতো স্বচ্ছ রোদ। প্রচুর ক্ষিধে পেয়েছে। মিরপুরের আবেশ রেস্টুরেন্টের সামনে দাড়িয়ে আছি। কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না। বৃষ্টিতে ভিজছি। হঠাৎ একটা মেয়ে গাড়ি থেকে নামলো। যেন একদম দেবী স্বরসতী। মেয়েটা অনেক সুন্দর। সাদা জামা পড়েছে। সেই মেয়ে আমাকে এক বক্স খাবার কিনে দিলো। আনন্দে আমার চোখে পানি এসে গেলো।

আমার কোনো গ্রামের বাড়ি নেই। শহরের ভাড়া বাসাও নেই।
রাস্তায় থাকলেও আমি পরিস্কার জায়গায় থাকি। গরীব বলে তো আর ডাস্টবিনের পাশে শুয়ে থাকতে পারি না। একটা রাস্তার কুকুরও মাটিতে বসার আগে লেজ দিয়ে জায়গাটা সামান্য পরিস্কার করে নেয়। আর আমি তো মানুষ। ঢাকা শহরে পরিস্কার ফুটপাতের বড় অভাব। সব জায়গায় গাদাগাদি ভিড়। শোয়ার জায়গা নিয়ে আমি কারো সাথে ঝগড়া করি না। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ যা ভাগ্যে লিখে রেখেছেন, এর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। গতকাল রাতে ছিলাম, জিনজিয়ান চায়নিজ রেস্টুরেন্টের সামনের ফুটপাতে। এখানে শুয়ে আরাম পেয়েছি। মশা নেই বললেই চলে। আর বিকট শব্দে গাড়ি গুলো হর্ন বাজায় না। কবে যে মাথার উপরে ছাদ হবে। নরম বিছানায়, নরম বালিশে মাথা রেখে আরামে ঘুমাবো! রাতে ঘুম না এলে হাতে চায়ের মগ নিয়ে ব্যলকনিতে বসে থাকিব।

দুপুরবেলা আমি লালমাটিয়া কলেজের সামনে গিয়ে দাড়াই।
মাঝে মাঝে ইডেন কলেজ আর নিউ মার্কেটে যাই। অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখা যায়! আমি দূর থেকে তাকিয়ে তাদের দেখি আর মুগ্ধ হই। গরীব বলে আজ আমার কোনো প্রেমিকা নেই। একটা প্রেমিকা থাকলে ভালো হতো। হাত ধরাধরি করে হাটতাম। দুজনে মিলে সংসদ ভবনের রাস্তায় বৃষ্টিতে ভিজতাম। একদিন দেখেছি, আকাশ কালো করে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিল। দুটা ছেলেমেয়ে মনের সুখে ভিজছে। দৃশ্যটা মাথার ভেতর গেথে আছে! 'সুইট নভেম্বর' মুভিতে এরকম একটা দৃশ্য দেখেছি। এই মুভির শেষ দৃশ্যটা অতি মনোরম। আকাশ ভরা মেঘ! ছেলেটা অনেক বছর পর ট্রেনে করে শহরে ফিরছে। মেয়েটা একটা বড় ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করছে। মেয়েটার চোখে মুখে সীমাহীন অস্থিরতা। একসময় ট্রেন থেকে ছেলেটা নামে। এবং ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। মেয়েটা ফুলের তোড়া ছুড়ে ফেলে দেয়। তার চোখ ভরা জল। দৌড়ে যায় ছেলেটার দিকে। ছেলেটা দুই হাত মেলে দাঁড়িয়ে থাকে। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে। ঠোঁটে ঠোঁট রাখে!

একবার ভেবেছিলাম বাউল হয়ে যাই।
শহর বন্দর আর গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াবো। গান করবো। কিন্তু আমার গানের গলা নেই। তাছাড়া গাজা চড়স আমি খাই না। বাংলা মদও খাই না। ব্লাক ডগ বা ওল্ড স্মাগলার হলে কথা ছিলো। গরীব বলে কি আমার দামী জিনিস খেতে চাইবে না! যাইহোক, নারী সঙ্গ আমার প্রয়োজন আছে। দীর্ঘদিন ধরে নারী সঙ্গ না পেয়ে আমি হয়ে গেছি ম্যাদামেরা টাইপ। চোখে মুখে কোনো উজ্জ্বলতা নেই। প্রানবন্ত ভাবটা নেই। পেট ভরে ভাত খাওয়ার পরও নিজেকে অসহায় লাগে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে ডায়না হেডেনের মতো কোনো নারীকে তুলে নিয়ে যাই। তার সাথে ঘরসংসার করি। আল্লাহর উপর আমার অনেক ভরসা। দেখি উনি আমাকে কোথায় কোথায় নিয়ে যান। আমি নাদান অসহায় মানুষ হয়েও, সকালে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহকে স্মরণ করি। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করে ঘুমাই। অবশ্যই আল্লাহপাক আমার মনের নেক ইচ্ছে গুলো পূরণ করিবেন। কবি বলেছেন, দেরি হোক, যায়নি সময়।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মন কথনিকা-৬৩৮৯-৯০=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

মন কথনিকা-৬৩৮৯
সকাল সকাল উঠে দেখি, চোখের মাঝে ঘুমের পাহাড়
চোখ মেললেই ঘুমরা ছড়ায়, চোখের মাঝে ক্লান্তির বাহার
রাত বারোটায় ঘুমোতে যাই, ফযর বেলা উঠে পড়ি
পাঁচ ঘন্টা ঘুম মাত্র ঘুমাই, না ঘুমিয়ে ক্লান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×