somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীহীন পৃথিবী

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নারী, এই নারী। ওঠো তো। এত ঘুমালে চলবে। দ্রুত উঠে পড়। তোমার পরিচয় দাও। কে তুমি?
ছেলেটির ক্রমাগত চেষ্টা আর ডাকার ফলে এক সময় আড়মোড়া ভেঙ্গে মেয়েটি জেগে ওঠে। কিন্তু পরক্ষনেই নিজের নগ্ন দেহের সামনে একজন তরুনকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। দু’হাত দিয়ে নিজের লজ্জাস্থান লুকাবার ব্যর্থ চেষ্টা করে।
কিন্তু ছেলেটি নির্লিপ্ত, সে মেয়েটির বাহু ধরে তাকে সোজা হয়ে দাড়াতে সাহায্য করে। ছেলেটি বুঝতে পারে না মেয়েটির মনের ভাষা। সে অনুভব করতে পারে না যে মেয়েটি লজ্জা পাচ্ছে।
সহস্র বছর পর ঘুম ভেঙ্গে জেগে ওঠা মেয়েটি সোজা হয়ে দাড়াতে পারছে না। অনেক দিন বিশ্রামে থাকা তার পা’দুটি শরীরের ভর সঠিক ভাবে নিতে পারছে না।
অলস চোখে মেয়েটি একবার ছেলেটির চোখে তাকায় পরক্ষনেই আবার নিজের নগ্ন দেহ দেখার চেষ্টা করে। ছেলেটি মেয়েটির মনের ভাষা বুঝতে পারে না কিন্তু মেয়েটি ঠিকই ছেলেটির মনের ভাষা বুঝতে পারে। মেয়েটি বুঝতে পারে ছেলেটির সরল দৃষ্টি যে দৃষ্টিতে নেই কোন কামনা –বাসনা। নেই কোন লোভ বরঞ্চ আছে দু’চোখ ভরা বিস্ময়!
আমি এখন কোথায়? প্রশ্ন করে মেয়েটি।
তুমি এখন সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ মঙ্গলের মিসোন সিটিতে।
মিসোন! অবাক হয় মেয়েটি; মিসোন, আমার ভালবাসা, আমার স্বপ্ন, আমার প্রেম, মাই ড্রিম ওয়েভার। বিড়-বিড় করে মেয়েটি আওড়াতে থাকে।
হ্যা। তুমি এখন মিসোন সিটিতে। কিন্তু তুমি এই নারী শুন্য মহাবিশ্বে এলে কি করে? রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে আবার প্রশ্ন করে ছেলেটি।
নারী শুন্য মহাবিশ্ব! প্রচন্ড অবাক হয় মেয়েটি।
হ্যা। মহাবিশ্বের বর্তমান সভ্যতা পুরুষ সভ্যতা কারন পুরুষই শ্রেষ্ঠ। প্রায় হাজার বছর আগে পৃথিবী তথা পুরো মহাবিশ্ব হতে নারী জাতিকে বিদায় জানানো হয়েছে কারন মহাবিশ্বের কোন ক্ষেত্রেই নারীর প্রয়োজন নেই। নারী হচ্ছে উটকো একটা ঝামেলা মাত্র। দুষিত আর্বজনা। তাদের কারনে শান্তি নষ্ট হয়। মহাবিশ্বের যত বিস্ময়কর যুদ্ধ, অপরাধ মুলক যত কর্মকান্ড আর যত অনৈতিক কাজ সংঘটিত হয়েছে নারীর কারনে। কিন্তু তুমি আমার প্রশ্নের জবাব দাও, এই নারী শুন্য মহাবিশ্বে তুমি আসলে কেমন করে? কোন বিজ্ঞানী যদি ল্যাবরেটরীতে তোমাকে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন করে থাকে তবে জেনে রাখ এর পরিনতি খুবই ভয়াবহ হবে কারন কোন প্রকার গবেষনার জন্যও নারীর উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লম্বা নিরবতার পর মেয়েটি মুখ খূলল।
হাজার বছর পুর্বের মানবী আমি। তুমি যে বললে মিসোন সিটি। মহামান্য বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. লিয়াকত আলী চৌধুরীর সহকারী হিসেবে আমি কাজ করতাম। ঘুমের ‍মাধ্যমে হাজার বছর বেচে থাকার প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করলাম কারন আমি দেখতে চেয়েছিলাম হাজার বছর ভবিষ্যতের পৃথিবী। আর নিজেকে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম হাজার বছরের জন্য। মেয়েটি বলে যেতে লাগল; কিন্তু নারী ছাড়া একটি সভ্যতা বেচে থাকে কিভাবে? সন্তান জম্নদান প্রক্রিয়া, মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা যৌন ক্ষুধার মত বিষয় গুলোকে মানুষ উপেক্ষা করে কিভাবে!?
ছেলেটি তার কক্ষের মধ্যে এক পাক ঘুরে এসে দাড়াল মেয়েটির সামনে; সন্তান উৎপাদন? ক্লোনিং প্রক্রিয়ার কথা নিশ্চয়ই জানে নারী। একজন পুরুষ একই সাথে এক্স [x] এবং ওয়াই [y] ক্রমোজম ধারন করে যার মাধ্যমে ছেলে অথবা মেয়ে উভয়ই তৈরা করা যেতে পারে। সভ্যতার যে কোন প্রয়োজনে আমরা নারী উৎপাদন করতে পারব। কিন্তু একজন নারী শুধু মাত্র এক্স (x) ক্রমোজমের ধারক যা শুধু মাত্র মেয়ে শিশুর জম্ন দিতে পারে। তাই একটি নারী সভ্যতা কখনোই একটি পুরুষ উৎপাদন করতে পারত না। ভেবে দেখ এক্ষেত্রে একজন পুরুষই কিন্তু পুর্নাঙ্গ সৃষ্টি। আর যৌন চাহিদার কথা বলছ? সে তা গত হয়েছে শতশত বছর। অতীতে এবং এখনো মনে করা হয় যৌন চাহিদা ছিল পুরুষের এক প্রকার দুর্বলতা ও ব্যাধি এবং এই ব্যাধিকে ঘিরেই দুজন নারী পুরুষের মধ্যে ভালবাসা তৈরী হত। ভালবাসা, প্রেম অবশ্যই ভাল কিন্তু বৃহৎ র্স্বাথে সব অনৈতিক কাজের মুলে থাকত নারীরা। তাই বিজ্ঞানীরা তাদের পরীক্ষার প্রথম ধাপ হিসেবে তারা যৌন নামক ব্যাধির প্রতিষেধক তৈরী করে সমস্থ পুরুষের মধ্যে পুশ করে দিলেন। পুরুষের মধ্যে এই অনুভুতির বিলুপ্তি ঘটায় নারীর চাহিদাও কমতে থাকল। এবং একদিন বিলুপ্ত হয়ে গেল নারী জাতি। কিন্তু অতীত সভ্যতার বিস্তার ও টিকিয়ে রাখার অবদান স্বরুপ নারীদের আমরা সম্মাননের সাথেই স্মরন করি। মহাবিশ্বের সমস্থ গ্রহের নামী দামি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে নারী নামক বিষয়টি পড়ানো হয়। এখানে একজন নারী সর্ম্পকে পুর্নাঙ্গ শিক্ষা দেয়া হয়। কিন্তু তবুও নারীদের জন্য নিষিদ্ধ এই সভ্যতা কখনোই তোমাকে গ্রহন করবে না।
আমি এখন কি করব? ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকায় মেয়েটি।
ইষ‍ৎ হাসে ছেলেটি; তোমার এখন কিছুই করার নেই। তুমি শুধু অপেক্ষা করতে পার মুক্তির জন্য আমি তোমাকে মুক্তি দেব।
না। না। চিৎকার করে ওঠে মেয়েটি; দেখ যুবক, আমার চোখের তারায় দৃষ্টি রাখ, মহাবিশ্বের সমস্থ সুখকর অনুভুতি আমি তোমার পদতলে লুটিয়ে দেব। একটা সুখকর অনুভুতির মাধ্যমে আমরা একটা শান্তিময় ভুমি গড়ে তুলব। তুমি আমাকে মেরো না। অথবা আমাকে চলে যাবার সুযোগ দাও। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটি।

শুন্যডিগ্রি সেলসিয়াসের এক শীতল হাসিতে লুটিয়ে পড়ে ছেলেটি; না। আমি তোমাকে সেই সুযোগ দিতে পারি না। আমি চাই না পৃথিবীতে আবার আর একটি *প্যান্ডোরার আর্বিভাব হোক, শান্তি বিনষ্ট হোক এই মহাবিশ্বের। তোমাকে আমি অব্যশ্যই মুক্তি দেব। তার পর ছুড়ে ফেলে দেব ব্লাকহোলের সীমানায়। তুমি জান না যোগ্যতমরা টিকে থাকে বাকীরা লোপ পায়? তাই বহু আগে নারী নামক প্রজাতি পৃথিবী তথা মহাবিশ্ব হতে লোপ পেয়েছে। তোমাকে বাচিয়ে রেখে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে অন্যের শান্তি নষ্ট করার কোন অধিকার আমার নেই।
সেলফ হতে ক্ষুদে অস্ত্রটি উঠিয়ে নিয়ে ছেলেটি দু’কদম এগিয়ে আসে। মেয়েটি চিৎকার করে ওঠে, অবাক দৃষ্টিতে তাকায় ছেলেটির চোখে তারপর নারীর নিথর দেহটি মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।
*প্যান্ডোরা: গ্রিক মিথের অপুরুপ রুপবতী, স্বর্গের সেরা সুন্দরী, দেবতা কন্যা প্যান্ডোরা। শান্তিময় পৃথিবীতে দেবতারা প্যান্ডোরাকে পাঠান একটি বাক্স দিয়ে। প্যান্ডোরা পৃথিবীতে এসে সেই বাক্স খোলে এবং সমস্ত প্রকার অন্যায় আর অনৈতিতা, খুন, হিংসা, বিদ্বেষ, মিথ্যা ইত্যাদি ওই বাক্স হতে বেরিয়ে পড়ে। সব খারাপ বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে প্যান্ডোরা তড়িৎ বাক্সের ঢাকনা বন্ধ করে দেয় কিন্তু ততক্ষনে সব অনৈতিক কাজগুলো বের হয়ে গেছে কিন্তু আশা নামক অনুভুতিটা বের হতে পারে নি তাই বাক্সের ভিতর পড়ে রইল আশা। আর তারপর হতেই পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ল হিংসা, বিদ্বেষ। কিন্তু এতকিছুর পরও মানুষ বেচে থাকার প্রেরনা পায় কারন আশা। আশা, মানে বেচে থাকার প্রেরনা।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×