একদল মানুষের
এই লেখা
পছন্দ
হবে না,
তারা না হয়
না ই বা
পড়লেন!!
সম্প্রতি স্বাধীনতার বিরোধী শিবির জামায়তকে বাচানোর জন্য নতুন গেইম প্ল্যান ঠিক করেছে
তারা এখন আওয়ামীলীগ এর কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে, কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে মানতে রাজী নন -
তাদের সাধারণ যুক্তিঃ পরিবারের 'ছেলে' খারাপ কাজ করতে পারে কিন্তু এজন্য 'পরিবার' কিভাবে দোষী হয়?
আসুন একটু ফিরে তাকাই পেছনে...
হিটলার কি করেছিলেন? মানুষ হত্যা? এতোটুকুই? আমরা যে সংবিধান অনুসরণ করি তার বয়স সবে ৪৩ পেরিয়েছে, তারও ২০ বছর আগে 'ইউনিভার্সাল হিউম্যান রাইটস' এর প্রচলন হয়েছে যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনক্রমেই মানুষকে যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত করা যাবে না।
যুদ্ধবিরতির জন্য কাজ করা যাবে, কিন্তু কখনো কোন জনগোষ্ঠীকে কোন জনগোষ্ঠীর দ্বারা যুদ্ধের আমন্ত্রণ জানানো যাবে না। এটা যুদ্ধের থেকেও বড় অপরাধ। হত্যার জন্য ধ্বংসের জন্য মানুষকে সংগঠিত করা হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ।
হিটলার কি করেছিলেন? শুধু কি ইহুদী হত্যা, কমিউনিস্ট হত্যা, বিরোধীদের হত্যা - না!!
তিনি যুদ্ধের বীজ ছড়িয়েছিলেন, মানুষকে হত্যা করার জন্য মানুষকে মাতিয়েছিলেন, মানুষ হত্যার আনন্দের মাতোয়ারা করেছিলেন সৈনিকদের, রক্তপিপাসু জনতা তৈরী করেছিলেন, আর এটা তিনি কি একা একাই করতে পেরেছিলেন?
তার মতো মেধাবী ক্রিমিনালেও একটা প্রশাসন প্রয়োজন হয়েছিলো, জনবল প্রয়োজন হয়েছিলো
তার অপরাধ শুধু হত্যা করা নয়, হত্যার এই যজ্ঞে তিনি মানুষকে উতসাহিত করেছেন, তাদের সংগবদ্ধ করেছেন
আমরা শুধু নিজামী, মুজাহিদ, গোলাম আযম, সাইদী নিয়ে কথা বলছিনা -
একটি সংগঠন ছাড়া এরা কি খুব বেশী কিছু?
এক গোলাম আযম নিজে কতো জনকেই বা মারতে পেরেছেন?
ব্যাপারটা কিন্তু 'যুদ্ধাপরাধ' - কথাটার মধ্যেই এর ব্যাপ্তি ছড়ানো। এই গর্হিত অন্যায় একা করা যায় না,
এই শুয়োরের বাচ্চাগুলো নিজেদের এই ষড়যন্ত্র আর খুন-লুটপাট-ধর্ষণ এর মতো মানবাধিকার নস্যাতের প্ল্যান করেছিলো জামায়াতে ইসলাম বা ছাত্রসংঘের ব্যানারে। একটা-দুইটা খুন করলেই যুদ্ধাপরাধ হয়ে যায় না। 'ওয়ার ক্রাইম' এর ব্যাপ্তি এর থেকেও অনেক বড় - একটি দেশ একটি চেতনা একটি জাতির স্বপ্ন নষ্ট করা কিংবা করার প্ররোচনা হলো ওয়ার ক্রাইম।
মানুষকে হত্যা করার প্ল্যান, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে অত্যাচার করার প্ল্যান, নিরস্ত্র মানুষকে ভয় দেখানো, তাদের ঘর থেকে স্ত্রী-কন্যাকে তুলে নিয়ে যাওয়া, কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে আটকে রেখে জুলুম, ভীতি সঞ্চার করে মানুষকে স্বাধিকারের স্বপ্ন থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা - একা একা কি করা যায়?
আমাদের দেশের কিছু মানুষ - আমাদের দেশেরই মুক্তিকামী মানুষের বিরোধিতা করেছিলো, নিজের দেশের মেয়েদের তুলে দিয়েছিলো সামরিক জান্তাদের বৈঠকখানায়, লুটপাট করেছিলো নিজেদেরই মানুষের সব কিছু - 'যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন' সেই ঘৃণ্য অপরাধে দুষ্ট
আজ থেকে ১০০ বছর পরেও যখন একটি ছেলে এই 'সংগঠন' করবে তার মাঝে সঞ্চারিত হবে এই একই বিষমন্ত্র - সেও একদিন প্রশ্ন করে ফেলবে, আসলেই ২ লক্ষ মা-বোন নির্যাতির হয়েছিলো কিনা। তার ধর্ম-বেঁচা লিফলেটে আবারো বিষাক্ত হবে সমাজের কোন নিভৃত অংশ, এর অপেক্ষাতেই কি থাকবে আমার পরের প্রজন্ম??
না ... বিষবৃক্ষটি তুলে ফেলার এখনই সময়
বিষমুক্ত হোক বাংলাদেশ, শাপমুক্তি হোক রাজনীতির

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



