somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজিন রিভিউ: Bajrangi Bhaijaan

১৯ শে জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


“দোস্ত! মনডা ভালা না!“
চার ধরনের বন্ধু থেকে চার ধরনের উত্তর পাওয়া যাবে।
১ম : “দূরে গিয়া মর।“
২য়: “চল বারে যাই”
৩য়: “চল স্টারে যাই”
এবং ৪র্থ: “চল সালমান খানের মুভি দেখি”

গাঁজাখুড়ি মারামারি এবং বুদ্ধিহীন রসিকতার জন্য সালমান খানের মুভির জুড়ি নেই। ভাবলাম “বজরঙ্গী ভাইজান” তার থেকে আলাদা কিছুই হবে না। কিন্তু মুভি দেইখা পুরাই টাশকি। মুভি শেষে দর্শকের মুখে হাসি এবং চোখে পানি দুটোই একসাথে যদি থাকে তাহলে মানতেই হবে দারুন একটা মুভি।

ট্রেলার দেখে কাহিনীটা যেটা মনে করেছিলাম সেটা আগে বলি। ছোট্ট একটি পাকিস্তানী বাচ্চা মেয়ে মুন্নী তার বাপ-মা এর কাছে আবদার জানায় “মেলায় যাবো”। বাপ-মা বাচ্চার শখ পূরনের জন্য ভারতীয় ঝাকানাকা মেলায় নিয়ে যায় যেখানে সালমান ভাই সেরকম ডান্স মারে। ভিলেনরা কোনভাবে মুন্নীকে বাপ-মা থেকে আলাদা করে ভারতে রেখে দেয়। সালমান ভাই ভিলেনদের চরম মাইর দিয়া মুন্নীকে রক্ষা করে। এলাকার নায়িকা কারিনা সালমানের প্রেমে পড়ে। শুরু হয় দুজনের চাকভুম চাকভুম। এরপর পাকিস্তানে গিয়ে মুন্নীকে পৌছে দেবার পরিকল্পনা করে সালমান। ইয়া এক লাফ দিয়ে ডাইরেক্ট পাকিস্তানে। পাকিস্তানের ভিলেন এদিকে আইটেম সংয়ের নাচ দেখছে। মুন্নীর বাড়ীর উপর এক টুকরো মেঘের সাথে “ক্লাউড কম্পিউটিং” করে ঠিকানা পেয়ে যায় সালমান ভাই। মুন্নীর বাপ-মায়ের বাড়ীর সামনে এসে ভিলেন বলে:”ভিতরে ঢুকতে গেলে আমার লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে।“ সালমান ভাইকে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে গুন্ডারা। সামনের গুন্ডা দেরকে চোখের থেকে আলোকরশ্মি বের করে পুড়িয়ে ফেলে সালমান ভাই। আর পিছনের গুন্ডাগুলারে পশ্চাৎদিক দিয়ে হালকা বায়ু ছাইড়া উড়ায় দেয় সালমান ভাই। মুন্নী বাপ-মায়ের কাছে ফিরে যায় এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার পায় সালমান ভাই। কাহিনী শেষ।
এটাই কী সালমান খানের মুভি হওয়া উচিত না? কিন্তু না। এই মুভির কাহিনীর সাথে আমার বর্ণিত কাহিনীর ফুটা মিলও নেই। আসল কাহিনী আমার মতে নিজেই মুভি থেকে জেনে নিলে বেশী উপভোগ করবেন।

অসাধারন একটি মুভি। প্রথম দৃশ্য থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুই কেঁদেছি। একেই বলে মনকে ছুঁয়ে যাওয়া। আমাদের উপমহাদেশের মানুষদের মধ্যে যেরকম পরিবারের প্রতি মায়া, ধর্ম-বর্ণ ভুলে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সবকিছু যখন রূপালি পর্দায় ফুটে উঠে তখন আটকে যায় মনটা।

নির্দেশক কবীর খানকে অনেক ধন্যবাদ এই মুভিটি উপহার দেবার জন্য। হিন্দী মুভির এই যাচ্ছেতাই যুগে একটি নিখাঁদ আবেগময় মুভি দিয়ে পুরাই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এর আগে “নিউইয়র্ক” মুভিটি দারুন হলেও “এক থা টাইগার” মুভিটি বোরিং ছিল। এই মুভিতে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি কোন খনীর তেল। মুভিটির চিত্রনাট্য , সংলাপ এবং কাহিনী সবকিছুই দারুন। চিত্রায়নের স্থানগুলিও ফাটাফাটি। বিশেষ করে কাশ্মীরে চিত্রায়িত দৃশ্যগুলির জবাব নেই। কাহিনীতে কোন যুক্তিহীন ব্যাপার স্যাপার নেই। এছাড়া মুভিটির রসিকতাগুলোই বেশ মজার। সমাপ্তিটিও দারুণ।

মুভিটি সালমান খানের হলেও অভিনয়ের দিক দিয়ে প্রথমে নাম নিতে হয় শিশু অভিনেত্রী হার্শালি মালহোত্রার। মুন্নী চরিত্রটির প্রত্যেকটি আবেগময় দৃশ্যগুলিতে চোখে পানি আটকে রাখা যায়না। চরম মিষ্টি এবং নিষ্পাপ এই মেয়েটির প্রতি কারো মায়া না হলে সে মানুষ না।

সালমান খান ছাড়া এই মুভি অসম্ভব। বজরঙ্গী চরিত্রটি সালমানের গতানুগতিক সুপারম্যান ধরনের না হলেও দারুন লেগেছে সালমান খানকে। নিঃসন্দেহে সালমানের ক্যারিয়ারের সেরা মুভি। সালমানকে বলিউডের এক নম্বর নায়ক এখন স্বীকার না করার কোন প্রশ্নই ওঠে না।

পার্শ্বচরিত্রে নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকীকে দারুন লেগেছে। কারিনা কাপুর মুভির নায়িকা হলেও প্রকৃত অর্থে তেমন বড় কোন চরিত্র নয়। কারিনার অভিনয় ভালো হলেও এরকম চরিত্রে কারিনা কাপুরের প্রতিভা পুরাটাই অপচয়। এছাড়া সাধনা শর্মা, ওম পুরী, রাজেশ শর্মা ,শরদ সাক্সেনাকে ভালো লেগেছে।

মুভির সংগীতে “সেলফি লে লে”,”তু চাহিয়ে”, “তু যো মিলা” বাদে বাকি গানগুলি মোটামুটি মানের। সংগীত পরিচালক প্রীতম “ভারদো ঝোলি মেরি” গানটির জন্য আবার চোরামিতে ধরাও খাইসে।

মুভিটির কোন খারাপ দিক আসলেই নেই। যদি আমার বস বলে “মুভির ভুল না খুঁইজা পাইলে তোর চাকরী নাই”, তবে বলতে হবে মুভিটি কিছুটা লম্বা এবং “চিকেন” নিয়ে গানটি মজার হলেও অপ্রয়োজনীয়।

মুভিটি দেখে পুনরায় সৎ এবং সুন্দরভাবে চলতে ইচ্ছা হয়। ধর্ম-বর্ণ সবকিছুর ঊর্দ্ধে শুধুমাত্র মানুষকে ভালোবাসাটাই হয়তো জীবনের স্বার্থকতা।
এক কথায় দুর্দান্ত একটি মুভি। নিঃসন্দেহে এ বছরের সেরা মুভি।

রেটিং : ৫ / ৫
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:০৭
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×