somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যকা
রাজু আহমেদ । এক গ্রাম্য বালক । অনেকটা বোকা প্রকৃতির । দুঃখ ছুঁয়ে দেখতে পারি নি ,তবে জীবনের সকল ক্ষেত্রে অনুভব করেছি । সবাইকে প্রচন্ড ভালবাসি কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ করতে পারি না । বাবা এবং মাকে নিয়েই আমার ছোট্ট একটা পৃথিবী ।

ডাষ্টবিনে পড়ে থাকা নিথর দেহ

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মধ্যে খোঁজ মেলে কিছু পরিচয়হীন শিশুর । ডাষ্টবিনের ময়লার মধ্যে, রাস্তার পাশে, মন্দির-মসজিদের সামনে, কিংবা ড্রেনে দেখা যায় সদ্য ভূমিষ্ট জীবন্ত কিংবা মৃত শিশু । অতীতে নাটক-সিনেমার যে সব দেখা যেত সেসব দৃশ্য এখন বাস্তবতায় অহরহ ঘটছে । পিতৃপরিচয়হীন শিশুর ধারণা আমাদের সমাজে যুগ-যুগান্তরজুড়ে পরিচিত থাকলেও কোন শিশু মাতৃপরিচয়হীন হয়ে জন্মাতে পারে না । তবুও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অনেক শিশুর কোন পরিচয়ই পাওয়া যায় না । গ্রামে এমন ঘটনা না ঘটলেও শহরের ইট-পাথরের বন্দীশালায় এমন নির্মম ঘটনার সংখ্যা নিছক উপেক্ষা করার মত নয় । পত্রিকার পৃষ্ঠা কিংবা টিভির পর্দায় যখন এমন পরিচয়হীন শিশুর ছবি প্রকাশ পায় তখন মানুষের জৈবিক প্রবৃত্তির মেটানোর নির্মমতা পশুর প্রবৃত্তিকেও হার মানায় ।
…..
মুক্তির সংগ্রামের বছর আমাদের অসংখ্য মা-বোন শত শত পিতৃপরিচয়হীন শিশুর জন্ম দিয়েছিল । সেটা ছিল দূর্ঘটনা । তখন আমাদের কিছুই করার ছিল না । পাকিস্তানী হায়েনাগোষ্ঠী এবং তাদের এদেশীয় দোসসরা আমাদের মা-বোনকে উপর্যপুরি ধর্ষণ করেছে, খুবলে খেয়েছে । ফলাফলে স্বাধীনতার সাথে আমরা উপহার পেয়েছিলাম তেমন অসংখ্য যুদ্ধশিশু । কিন্তু দেশে এখন যা ঘটছে তা কিসের লক্ষণ ?
……
ক্ষণিকের উচ্ছ্বাস, মোহ মেটাতে গিয়ে যে অবৈধ শিশুর জন্ম হচ্ছে তার ভাগ্য ময়লার স্তুপে চাপা পড়ে যাবে কেন ? কাকে দোষ দেব আর কাকে নয়-তা ভেবেই মিলাতে পারছি না । পুতুলের মত ফুটফুটে দেহ, যে দেহ মায়ের নিরাপদ আদরের আঁচলে জড়িয়ে থাকার অধিকার নিয়ে পৃথীবিতে আসে সেই দেহটি যখন কাক-কুকুরে ছিঁড়ে খায় তখন এর অভিশাপ কার ওপর বর্তাবে ? পশুর জৈবিক বৃত্তি পূরণের পদ্ধতিও তো মানুষের চেয়ে উত্তম দেখছি । মূহুর্তের কথিত ভালোবাসার এই কি উপহার ? নিজেদের অপকর্মের বলি হয়ে কেন জন্মাবে নিষ্পাপ মুখ ?
………
যিনি মায়ের জাতি তিনি কেমনে পারেন তার কলিজা ছেঁড়া ধণকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে আসতে কিংবা ফেলে আসার উপলক্ষ্য তৈরি করতে ? আবার কোন মা হয়ত, তার অভিভাবকদের এ ঘৃণ্য-জঘন্য ঘটনার জন্য দায়ী করবেন কিন্তু যে কারণে একটি অবৈধ সন্তান পৃথিবীতে আসার উপলক্ষ্য তৈরি হয় সেটা থেকে দূরে থাকা হয়নি কেন ? রক্তের অস্থায়ী অনুরণন কেন নারী-পুরুষকে অবৈধ কাজে প্রলুব্ধ করবে ? শিক্ষা-সংস্কার কেন ক্ষণিকের মোহের কাছে হার মনে যাবে ? বিবেকের কৈফিয়ত কোন নিরব হয়ে রবে ? যদি মানুষের নীতিশক্তি হেরে যায় তবে মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্য কোথায় ? ভাদ্র মাসে রাস্তার পরিচিত-অপরিচিত কুকুরগুলো বংশবৃদ্ধিতে মন দেয় কিন্তু তেমন আচরণ তো মানুষের দ্বারা সংগঠিত হতে পারে না । ধর্ম-সমাজ স্বীকৃত পন্থা মানুষ কেন নিজের জন্য বাধ্যতামূলক পালনীয় বানাচ্ছে না । যৌনাচার যখন সবকিছুকে গ্রাস করে নিচ্ছে তখন এ জাতিকে অসংখ্য পরিচয়হীন শিশুর ভার বইতে হবে কিন্তু সে নিষ্পাপ শিশুগুলোকে দোষ দেওয়া হবে কেন ? পৃথিবীর সকল ঘৃণা পতিত হোক সেই সকল নারী-পুরুষের প্রতি যারা নিজেদের অবৈধ আকাঙ্খা পূরণ করতে গিয়ে শিশুর জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলছে এবং ইচ্ছাকৃত তাদের হত্যা করছে ।

…….
ধর্মের শাস্তির কথা না হয় বাদ দিলাম কিন্তু বিবেকের শাস্তি থেকে এই সম্প্রদায় কি কোন কালে মুক্তি পাবে ? অকৃতজ্ঞ পুরুষ জাতি হয়ত মনে রাখবে না সেই চরম পুলকালীন সময়ের কথা কিন্তু যেই মায়ের জঠরে একটি শিশু একাধিক মাস লালিত হয়েছে এবং মা অসহ্য প্রসব বেদনা সহ্য করে যে শিশুকে জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় পৃথিবীতে এনেছে সেই শিশুকে ভুলে যাওয়া কোন মায়ের পক্ষে সম্ভব কি ? কাজেই অবৈধ মনোস্কামনা পূরণের ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীকে বেশি সচেতন ও সাবধান থাকতে হবে । ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক রীতি মেনে স্বীকৃত পন্থায় জৈবিক চাহিদা পূরণ ও সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া অত্যাবশ্যক । কয়েক মিনিটের রতিক্রিয়া হয়ত কোন নারী-পুরুষকে ভবিষ্যতে অনুশোচিত করে না কিন্তু এর ফল সরূপ অনাকাঙ্খিতভাবে যে সন্তানটি পৃথিবীতে চলে আসে, প্রতিকূল পরিবেশে সে শিশুটির বেড়ে ওঠা কিংবা মরে যাওয়ার দায়ভার অবশ্যই সেই নারী-পুরুষের, যাদের অপকর্মের সৃষ্টি এ নিষ্পাপ সন্তান । কোন ডাষ্টবিন কিংবা অন্য কোথাও যেন সদ্য ভূমিষ্ট কোন পরিচয়হীন শিশু পড়ে থাকার দৃশ্য দেখতে চাইনা কিংবা তাদের কান্নার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি আর শুনতে চাইনা । যা কিছু অবৈধ-অন্যায় তা ত্যাগ করে বৈধ-ন্যায়ের চর্চায় মনোযোগী হলে নিজেরা যেমন ভালো থাকা যাবে তেমনি সমাজকেও ভালো রাখা যাবে ।

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।
facebook.com/rajucolumnist/
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×