somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যকা
রাজু আহমেদ । এক গ্রাম্য বালক । অনেকটা বোকা প্রকৃতির । দুঃখ ছুঁয়ে দেখতে পারি নি ,তবে জীবনের সকল ক্ষেত্রে অনুভব করেছি । সবাইকে প্রচন্ড ভালবাসি কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ করতে পারি না । বাবা এবং মাকে নিয়েই আমার ছোট্ট একটা পৃথিবী ।

পশুর রক্ত কিংবা গোশত নয় বরং খোদভীতি বেশি জরুরী

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ তারিখ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ । কুরবানী শব্দের শাব্দিক অর্থ উৎসর্গ বা ত্যাগ করা । ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, জিলহজ্জ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন দিন ইসলামী শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত জন্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মানসে জবেহ করাকে কুরবানী বলা হয় । নিঃসন্দেহে কুরবানী মুসলমানদের পক্ষ থেকে আল্লাহর প্রতি অগাধ প্রেম ও অনুপম আনুগত্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । বিশ্বের প্রায় ১৫৫ কোটি মুসলিম ব্যাপক ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালন করবে তাদের এ পবিত্র উৎসবটি । আল্লাহর অপার অনুগ্রহে বাংলাদেশী ধনী-গরীব মুসলমানরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদ আনন্দ উদযাপন করবে । মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর মাধ্যমে আমরা ঈদুল আযহাকে আমাদের ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পেয়েছি । কোরআন মাজীদ ও হাদীসের ভাষ্য মতে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) ও ঈব্রাহীম (আঃ) এর মধ্যে সংগঠিত আল্লাহ তা‘য়ালার পক্ষ থেকে তাদেরকে চরম ঈমানী পরীক্ষার মাধ্যমেই আমরা কুরবানীর ঈদ লাভ করেছি । ঐতিহাসিক সে ঘটনাটির সারসংক্ষেপ হল, তখন ইব্রাহীম (আঃ) এর নবুয়তের জীবন চলছিল । মহান আল্লাহ তা‘য়ালা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে স্বপ্নের মাধ্যমে আদেশ করলেন তার প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে । স্বপ্নে প্রাপ্ত আদেশ অনুযায়ী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তার প্রিয় নানা ধরনের বস্তু আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার পরে যখন বুঝতে পারলেন যে, আল্লাহ তা‘য়ালা তার কোন বস্তুগত সম্পদের কুরবানী চান না বরং তার কলিজার টুকরা, নয়নের মনিতুল্য তার প্রিয় সন্তানের কুরবানী চান । হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তার বার্ধক্যের অবলম্বন ইসমাঈল (আঃ) কে আল্লাহ সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কুরবানী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং সে মোতাবেক সন্তানকে নিয়ে তার মনোস্কামনা পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে যাত্রা করলেন । যখন হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে তার পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কুরবানী দেয়ার উদ্দেশ্যে মাটিতে শুইয়ে দিল তখন যাতে পিতৃত্বের স্নেহ তার মনে জেগে উঠতে না পারে সেই জন্য হযরত ইসমাঈল (আঃ) তার পিতার চোখে এক টুকরা কাপড় বেঁধে নেয়ার পরামর্শ দিল । আল্লাহর আদেশ পালনে যেমনি বাবা তেমনি তরা সুযোগ্য সন্তান । এভাবে চরম পরীক্ষার মাধ্যমে যখন ইব্রাহীম (আঃ) স্বীয় পুত্রকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুরবানী দিতে আরম্ভ করলেন তখন আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতারা জান্নাত থেকে একটি হৃষ্টপুষ্ট দুম্বা এনে ইসমাঈল (আঃ) উঠিয়ে সে স্থানে শুইয়ে দিল । আল্লাহর অপার মহিমায় ইসমাঈল (আঃ) এর বিপরীতে পশুটি কোরবানী হয়ে গেল । হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর ত্যাগের মহিমা এবং হযরত ইসমাঈল (আঃ) এর ঈমানী পরীক্ষার দৃষ্টান্তকে দুনিয়ার শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের স্মরণে রাখতে সহস্র শতাব্দী কাল ধরে এ প্রথা চলে এসেছে এবং চলতেই থাকবে ।

ইসলামী শরীয়তে কুরবানী করা ওয়াজিব তবে তা শর্ত সাপেক্ষে । ঢালাওভাবে সকল মুসলিম নর-নারীর উপর ইহা ওয়াজিব নয় । যার কাছে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য অথবা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ কিংবা সমপরিমান অর্থ সম্পদ আছে তার উপরেই কুরবানী ওয়াজিব হবে । তবে এক্ষেত্রে যাকাতের ন্যায় কুরবানীতে সম্পদের বর্ষপূর্তি শর্ত নয় বরং কুরবানী দাতার হুকুম সদকাতুল ফিতরার হুকুমের অনুরূপ । অর্থ্যাৎ ঈদের দিন কারো কাছে নেসাব পরিমান সম্পদ উপস্থিত হলেই যেমন তার সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হয় তেমনি ঈদুল আযহার দিনে যদি কারো কাছে নেসাব পরিমান সম্পদ আসে তবে তার উপরেও কুরবানী ওয়াজিব হয় । ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী যার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি, এমন কোন ব্যক্তি যদি কুরবানীর দিন জবেহ করার ইচ্ছায় পশু খরিদ করে তবে তার উপরেও কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যায় । এছাড়াও কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য কুরবানী দাতাকে আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হয় । সে শর্তগুলো হল, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া ও বাড়িতে অবস্থান করা তথা মুকিম হওয়া ।


সকল শর্ত পূর্ণ হয়ে কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যদি কেউ কুরবানীর হুকুম পালন না করে তবে সে মারাত্মক গুনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত হবে । এ প্রসঙ্গে মানবতার মুক্তির মহান দিশারী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করল না, সে যেন আমার ঈদগাহের কাছেও না আসে’ । ঈদুল আযহা উপলক্ষে এর পূর্বে-পরে এমন কিছু উত্তম কাজ করার সুযোগ আছে যার মাধ্যমে অধিক সওয়াব অর্জন করা সম্ভব । হাদিস শরীফে এবং জ্ঞানীগণের ভাষায় তা হল-
ক. ঈদুল আযহার রাত্রিতে সওয়াবের উদ্দেশ্যে জেগে আল্লাহর ইবাদাত বান্দেগী করা ।
খ. যে ব্যক্তি কুরবানী করবে তার জন্য ঈদের নামাজের পূর্বে কিছু পানাহার না করা এবং নামাজের পর কুরবানীর পশুর গোশত খাওয়া সুন্নত ।
গ. যে ব্যক্তি কুরবানী করবে তার জন্য জিলহজ্জ্বের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী না করা পর‌্যন্ত গোঁফ ও নখ না কাটা মুস্তাহাব ।
ঘ. ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে ঈদগাহে যাওয়ার সময় যে রাস্তা দিয়ে যাবে ফেরার সময় সে রাস্তা ব্যবহার না করা সুন্নত ।
ঙ. ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবীরে তাশরীক উচ্চঃস্বরে বলা সুন্নত ।
চ. ঈদুল ফিতর অপেক্ষা ঈদুল আযহার নামাজ সকালে আদায় করা সুন্নত ।

কুরবানীর জন্য ভেড়া, গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিষ ও উট-এই ছয় প্রকার জন্তু দ্বারা কুরবানী দিতে হবে । ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা একজনের পক্ষ থেকে এবং গরু মহিষ ও উট সর্বোচ্চ সাত জনের পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া যাবে । ছাগল দিয়ে কুরবানী দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাগলটিকে পূর্ণ এক বছরের হতে হবে । ভেড়া ও দুম্বা যদি এমন মোটাতাজা হয় যে সেগুলোকে দেখতে এক বছর বয়সী ভেড়া, দুম্বার মত মনে হয়, তবে তা দিয়ে কুরবানী করা জায়েজ আছে । গরু ও মহিষ দুই বছর বয়সী এবং উট পাঁচ বছর বয়সী হতে হবে । উল্লেখ্য যে, পশু বিক্রেতা যদি পশুকে পরিণত বয়সের বলে উল্লেখ করে কিন্তু বাস্তবে ক্রেতার কাছে তা পরিলক্ষিত না হয়, তবে বিক্রেতার কথার উপর নির্ভর করে এ পশু দ্বারা কুরবানী বৈধ হবে । কুরবানীর পশু সুস্থ ও মোটা-তাজা হওয়া বাঞ্ছণীয় । সকল পশু সমান নয়, পশুর মধ্যে খুঁত থাকা স্বাভাবিক । তবে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে যাতে নিঁখুত পশু দ্বারা কুরবানী দেওয়া যায় । যে ছয় ধরনের পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ, সেই সকল পশুর মধ্যে যদি শরীয়ত নির্ধারিত কোন ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে সে পশু দ্বারা কুরবানী দেওয়া বৈধ নয় । পশুর মধ্যে যে খুঁতগুলো থাকলে সে পশু দ্বারা কুরবানী দেওয়া বৈধ নয় তা হল- ক. যে পশুর কান কাটা । ইমাম আযম আবু হানীফা (রহঃ) এর মতে কানের অর্ধেক বা ততোধিক কাটা হলে সে পশু দ্বারা কুরবানী দেওয়া উচিত নয় । খ. খোঁড়া, গ. লেজ কাটা, ঘ, অত্যন্ত দূর্বল, ঙ. দাঁতহীন ও চ. পাগল । তবে নিখুঁত পশু ক্রয় করার পর যদি কুরবানীর প্রতিবন্ধক কোন ত্রুটি দেখা দেয় আর ক্রেতা যদি নেসাবে মালের অধিকারী না হন তাহলে কুরবানী করার ইচ্ছা পোষণ কারীকে অন্য পশু ক্রয় করিতে হবে ।

ইসলাম শুধু একটি ধর্ম ব্যবস্থা নয় বরং ইহা একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থাও বটে । কুরবানীর পশু কিভাবে জবেহ করতে হবে তাহাও এখানে স্পষ্ট করে বিধৃত হয়েছে । কুরবানীল পশু কুরবানী দাতা কর্তৃক নিজ হস্তে জবেহ করা উত্তম । আমাদের নবী করীম (সাঃ) কুরবানীর পশু নিজ হাতে জবেহ করতেন । তবে অন্য লোক দ্বারাও জবেহ করানো যায় । এক্ষেত্রে জবেহকারীকে জবেহ সম্বন্ধীয় সকল নিয়ম কানুন জানা থাকতে হবে । অন্যের দ্বারা জবেহ করানোর সময়েও কুরবানী দাতার উপস্থিত থাকা উত্তম । কুরবানীসহ সকল পশু জবেহ করার সময় জবেহকারীর মুখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহ আকবার’ বলতেই হবে । জবেহ করার সময় পশুকে কিবলামূখী করে শুইয়ে দেওয়া উত্তম । কুরবানীর মেয়াদকাল তিন দিন অর্থ্যাৎ ১০ই জিলহজ্জ্ব সূর্য্য উদিত হওয়ার পর থেকে ১২ই জিলহজ্জ্ব সূর্য্য অস্ত যাওয়ার পূর্ব মূহুর্ত পর‌্যন্ত । সুতরাং যখন ইচ্ছা দিনে অথবা রাত্রিকালে কুরবানী করা যেতে পারে । তবে রাত্রিকালে পশু জবেহ না করাই ভালো কেননা রাত্রি বেলায় জবেহ করতে গেলে জবেহে ত্রুটি দেখা দিতে পারে । যাতে কুরবানীর ফযিলত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় । কুরাবনীর গোশত ও চামড়া বিষয়ে আমাদের সমাজে প্রায়ই কিছু বিপত্তির সৃষ্টি হয় । একথা মানুষ প্রকাশ্যে উচ্চারণ না করলেও মনের ধারনার ফেলে চেহারায় অসন্তোষের ছাপ ফুটে ওঠে । আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় সাধারণত দেখা যায় একাধিক ব্যক্তির অংশীদারিত্বে কুরবানী দিয়ে গোশত সমান ভাগে ভাগ করে নিতে হয় । এক্ষেত্রে যদি শরীকগণ একমত হয়ে কুরবানীর গোশত অনুমান করে ভাগ করে নিতে চান তাও জায়েজ নহে । অবশ্যই দাঁড়িপাল্লার মাধ্যমে ওজন করে গোশত ভাগ করে নিতে হবে । কুরবানীতে প্রাপ্ত গোশত তিনভাগ করা উত্তম । তা থেকে এক ভাগ নিজ পরিবার বর্গের জন্য, একভাগ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের জন্য এবং একভাগ গরীব-অসহায়, অনাথ-মিসকিনদের জন্য । তবে পরিবারের সদস্য সংখ্যা যদি অনেক বেশি হয় এবং কুরবানীর মাধ্যমে প্রাপ্ত গোশত তিনভাগে বন্টন করলে নিজেদের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য হয় তবে ভাগ না করে সবটাই নিজেরা ভক্ষণ করার নিয়ম আছে । তবে সকল সময় মনে রাখা উচিত, ইসলাম সাম্যের ধর্ম । এ ধর্মে আপনার উপর আপনার প্রতিবেশী এবং গরীব মিসকিনদের দাবি রয়েছে । এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট করে ঘোষণা দেওয়া আছে । যাদের দ্বারা কুরবানীর পশু কাটানো হয় তাদেরকে পারিশ্রমিক হিসেবে কুরবানীর গোশত দেওয়া বৈধ নয় । এ প্রথা ইসলামী শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে এবং এটা মারাত্মক গুনাহের কাজ । এ সকল মজুরদেরকে টাকা পয়সা কিংবা অন্য কোন বস্তু পরিশ্রমিক হিসেবে দিতে হবে । কুরবানীর পশুর চামড়া নিজের ব্যবহারে লাগানো যায় । কুরবানীর পশুর চামড়া দিয়ে জায়নামাজ, বইয়ের মলাট, দস্তর খানা ইত্যাদি তৈরি করে নিজে ব্যবহার করা যায় । যদি এ চামড়া নিজে ব্যবহার না করে তবে গরীব মিসকিনকে চামড়া দিতে হবে । কেননা এ চামড়া গরীব মিসকিনদের হক । তবে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে, কুরবানীর পশুর চামড়া, গোশত বা পশুর অন্য কোন অংশ পরিশ্রমের বিনিময়ে দেয়া যাবে না । অজ্ঞতাবশত কিংবা জেনেও যদি এ সকল শর্ত ভঙ্গ করা হয় তবে পূণরায় সমপরিমান মূল্য গরীবদের মাঝে বিলি করতে হবে ।
কুরবানীর সাথে তাকবীরে তাশরীক গভীরভাবে সম্পর্কিত । জিলহজ্জ্ব মাসের ৯ তারিখ ফজর হতে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাজ শেষে জামাআ’তে কিংবা একাকী, পুরুষ কিংবা মহিলা, মুকিম কিংবা মুসাফির সবার উপর একবার তাকবীরৈ তাশরীক (আল্লাহ আকবার, আল্লাহ আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, অল্লহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পাঠ করা ওয়াজিব । এ সময়ের মধ্যে যদি ওজরবশত কোন নামাজ কাযা হয়ে যায় তবে সে কাযা নামাজ আদায়ের পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব । পুরুষগণ উচ্চঃস্বরে এবং মহিলারা নিম্নস্বরে বা নিরবে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করবেন । জামাআ’তের সাথে নামাজ সমাপান্তে ইমাম সাহেব ভূলক্রমে তাকবীরে তাশরীক পাঠ না করলে, মুসল্লিদের মধ্য থেকে যে কাউকে উচ্চঃস্বরে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা আবশ্যক । কারন তাকবীরে তাশরীক ইমাম-মুক্তাদি নির্বিশেষে সকলের জন্য পাঠ করা অত্যাবশ্যক ।
পবিত্র কুরআন মাজীদে মহান রব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহর কাছে কুরবানীর পশুর গোশত কিংবা রক্তের কোন মূল্য নাই (পৌঁছে না) বরং এক্ষেত্রে কুরবানী দাতার খোদভীতিই মূখ্য’ । সুতরাং আমাদের সমাজে কুরবানীকে কেন্দ্র করে যেভাবে গোশত প্রাপ্তির প্রতিযোগিত শুরু হয়েছে এটা অবিলম্বে ত্যাগ করতে হবে । প্রতিটি ঈদ মানুষের মাঝে সাম্যতার শিক্ষা নিয়ে আগমন করে । কাজেই আসন্ন কুরবানীর ঈদও যেন মুসলমানদের মধ্যে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে তার নিশ্চয়তা আমাদেরকেই দিতে হবে । ঈদুল আযহার শিক্ষার মাধ্যমেই ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান দূর যাক । সর্বোপরি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, যাতে সকলের কুরবানী কেবল স্রষ্টার সন্তুষ্টির নিমিত্তে হয় ।

রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।
facebook.com/rajucolumnist/
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×