somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য একটি মজার গল্প !!!

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জনৈক এক প্রভাবশালী লোক যার নাম সোনা মিয়া। দুর্ভাগ্যবশত একদিন সোনা মিয়ার সিন্দুকের চাবি হারিয়ে যায়। সিন্দুকের চাবি হারানোর পর লোকটির অবস্থা পাগল প্রায়।

এমতাবস্থায় পাশের বাড়ির এক ভদ্রলোক এসে বলল সোনা ভাই অমুক গ্রামে এক ওঝা আছে তার কাছে যান ওই ওঝা আপনার সিন্দুকের চাবির সন্ধান দিতে পারবে। যেই বলা সেই কাজ!
সোনা মিয়া ওঝার কাছে গেলেন, ওঝা পরামর্শ দিলেন লুঙ্গি কাছা মেরে, মাথায় গামছা বেধে মাঝ রাতের অন্ধকারে বাড়ির পাশের নদীর মাঝখানে পশ্চিম মুখী হয়ে এক ডুবে এই তাবিজটা পুতে দিতে হবে। ঠিক-ঠাক মত তাবিজ পোতা হয়ে গেলে পরবর্তি কয়েক দিনের মাথায় হারানো সিন্দুকের চাবি ফিরে পাবেন। যেই কথা সেই কাজ।

তাবিজ পোতা হল, সময় গেলো, দিন গেলো কিন্তু সিন্দুকের চাবি আর ফিরে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিন দিনের মাথায় এক নিকট আত্মীয় এসে সোনা মিয়াকে জানালো অমুক গ্রামে এক পাগল থাকেন নাম বস্তা বাবা। বস্তা বাবার কাছে গেলে আসলেই সমাধান পাওয়া যাবে।

দেরি না করে সোনা মিয়া দ্রুত চলে গেলেন বস্তা বাবার নিকট। তিনি সব সময় বস্তা পরে থাকেন, তাই সবাই তাকে বস্তা বাবা বলেই চিনেন। বস্তা বাবা তেমন একটা কথা বার্তা বলেন না, সারাক্ষন চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বট গাছের ছায়ার তলে বসে থাকেন, ক্ষুদা লাগলে পাশের বাজারে একেক দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। বস্তা বাবাকে কোন দোকানদারই কিছুতেই না করেন না।
সবার বিশ্বাস বস্তা বাবা কারো দোকান থেকে খাবার আহরন করলে দোকানীর ভাগ্য বুঝি এখনি খুলে যাবে।
সোনা মিয়াও তার হারানো সিন্দুকের চাবি ফিরে পাবার আশায় বস্তা বাবাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল।
বস্তা বাবা উপদেশ দিলেন বাড়ির চাকর বাকরদের মাইনে বাড়িয়ে দে, ভাল ভাল খাবার-দাবার দে সিন্দুকের চাবি পেয়ে যাবি।

বস্তা বাবার কথা মত সেদিন থেকেই সোনা মিয়ার বাড়িতে চাকর বাকরেরা প্রায় রাজার হালে দিন কাটাতে শুরু করল।

দুদিন যেতে না যেতেই সোনা মিয়ার বড় ভাই চান মিয়া বললেন এইসব কি শুরু করছিস? সিন্দুকের চাবি হারাইছে আর তুই ওঝার পিছনে দৌড়াইতেছিস কেন? যা পুলিশে খবর দে। সব কিছু সুর সুর করে বেড়িয়ে আসবে।

সোনা মিয়া ভাবে এ আমি কি করছি, এত দিন কেন পুলিশে খবর দেই নাই? অনেক লস হয়ে গেছে, পুলিশে খবর দিলে সত্যি এতদিনে আমার হারানো সিন্দুকের চাবি ফিরে পেতাম। বড় ভাই তো ঠিকই বলছে।

দেরি না করে সোনা মিয়া চলে গেলেন পুলিশের কাছে। একটা মামলা করলেন, যাদেরকে সোনা মিয়া সন্দেহ করেন তাদের নাম দিয়ে আসলেন, চুপে চুপে পুলিশের হাতে চা পানি খাবার জন্য কিছু টাকাও দিয়ে আসলেন।

এখন তো প্রায় প্রতিদিনই সোনা মিয়ার বাড়িতে পুলিশ আশে, আজকে এই কাহিনী, কালকে ওই কাহিনী মন দিয়ে শুনে যান সোনা মিয়া, আর পুলিশেরা চলে যাওয়ার সময় যাতায়াত বাবদ কিছু টাকা দিয়ে পুলশকে খুশি রাখেন সোনা মিয়া।

এক দিন, দুই দিন, তিন দিন, এমন করে একদিন বাড়ির চাকর বাকর সবাইকে সন্দেহ ভাজন হিসেবে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এখনতো সোনা মিয়ার মহা বিপদ এত কাজ কাম কে সামাল দেবে?
সোনা মিয়ার বউ গত হয়েছে অনেক আগে। সোনা মিয়ার বড় মেয়ে জুলেখা বেগম কে খবর দেয়া হয়েছে। জুলেখা বেগম বাবার বাড়িতে এসে সমস্ত কাহিনী শুনে পিতা সোনা মিয়াকে উপদেশ দেয় “হারানো জিনিস যা তোমাকে ছেড়ে গিয়েছে তা এখন ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়, মিস্ত্রি এনে নতুন চাবি বানাও।”

মুখ বন্ধঃ উপরের ঘটনাটির সাথে কাকতালীয় ভাবে মিল রয়েছে বর্তমান সরকারের। জনগনের আস্থা হারিয়ে আওয়ামি সরকার এখন পাগলের মত দিশেহারা। কি রেখে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। যে যা বলছে তাই করে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে ব্লগার, ব্লগার, ব্লগার আর এখন সেই ব্লগারেরাই গ্রেপ্তার হয়, রিমান্ডে যায়। আর কত নাটক আম জনতাকে নির্বাক দর্শক হয়ে দেখতে হবে আমরা আছি সেই অপেক্ষায়।

মাননীয় সরকার আপনাদের প্রতি আহ্বান “হারানো জিনিস যা আপনাদের ছেড়ে গিয়েছে তা এখন ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়, তবে হারানো আস্থা নতুন করে অর্জনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।”
আশা করি একদিন সফলতা পাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৮:৫৩
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩



নতুন জেনারেশনের জ্ঞানগরিমায় যুগপৎ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে নিজেকে মনে হয় নিতান্তই জেনারেল!
তাহারা কতকিছু যে জানে, জানে না তাহারা যে জানে! তাবৎ দুনিয়ার খবর তাহাদের তালুর চিপায় নিদ্রামগ্ন!... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব চোকানো - হরমুজ এবং মার্কিন আধিপত্যের অবসান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১


ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল ও প্রভাবশালী ঘটনাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ২০২৪: অস্থিরতার অন্তরালে কী ছিল? লেখকীয় বিশ্লেষণ | সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪: ক্ষমতার পালাবদল নাকি গোপন সমন্বিত পরিকল্পনা?

২০২৪ সালের আগস্ট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও বিতর্কিত অধ্যায়। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী জানি আর কী জানি না

লিখেছেন আবু সিদ, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০১

এক

কী জানি আর কী জানি না তা আমরা অনেক সময় ভাবতে বা বুঝতে পারি না। অবশ্য বেশিরভাগ সময় আমরা আমাদের জানা/অজানাকে যাচাই করি না। আবার এমন সময় আসে যখন আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি র‍্যাপ সং কীভাবে সপ্তম শ্রেণীর বইয়ের কবিতা হলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৭


আজকে জুলাই আন্দোলনের একটা কবিতা পাঠ করলাম যেটা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। এই কবিতা নাকি সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবিতার নাম ‘সিঁথি’, লেখক হাসান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×