somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ আমার কলেজ জীবনের আমার এক বান্ধবীর প্রেম-কাহিনী বলি...

০২ রা মে, ২০১৪ সকাল ১১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজে প্রথমেই তিনটা মেয়ের সাথে ফ্রেন্ডশীপ হয় আমার। নাম “রিতু”,“রুপন্তি” ও “রাশা”। এইচ.এস.সি প্রথম বর্ষে থাকতেই আমাদের ফ্রেন্ডশীপ হয়। প্রথমেই বলে রাখি নামগুলো নিতান্তই আমার লেখার জন্য ব্যাবহার করলাম, আমার নামের সাথে মিল রেখে “র” অক্ষরে। তো যে প্রেম-কাহিনীটা শেয়ার করতে চাচ্ছি সেটা মূলত “রুপন্তি”কে নিয়ে। তার তার আগে “রুপন্তি”র নিজের সম্পর্কে কিছু বলে নেই।

পুরো কলেজে দশটা সুন্দরী মেয়ের নামের তালিকা করা হলে, আমার ঐ তিনটা বান্ধবী তাদের মধ্যে অবশ্যই থাকবে এবং ঐ তিনজনের মধ্যে আবার সবথেকে সুন্দরী “রুপন্তি”। মেয়েটা খুব চঞ্চল প্রকৃতির। সবসময় চিল্লাপাল্লা, লাফালাফি, জোরে জোরে কথা বলায় অভ্যস্ত। কিন্তু মনের দিন দিয়ে সত্যিই খুবই নরম। বাসা ছিল আমাদের এখানেই ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে।

আমার তিন বান্ধবীর মধ্যে দুইজনেরই রিলেশন ছিল, শুধু “রুপন্তি”র বাদে। মিরপুরের আনন্দরোড প্রায়ভেট পড়ত তারা। সেখানে “রিতু”র বয়ফ্রেন্ডের বন্ধুর সাথে দেখা হয় “রুপন্তি”র। আগেই বলেছি “রুপন্তি”র রুপের কথা। তো প্রথম দেখাতেই ছেলেটি পছন্দ করে ফেলে এবং কিছুদিন পর “রিতু”র মাধ্যমে “রিতু”র বয়ফ্রেন্ডের বন্ধুর সাথে রিলেশন শুরু হয় “রুপন্তি”র।

“রিতু”র বয়ফ্রেন্ডে আনন্দরোডের একজন নামকরা বখাটে ছেলে। আসলে রাজনৈতিক পরিবার, তাই মিরপুরে নাকি ওপেনে গুলি ফুটিয়েছে অনেকবার, আমিও দেখেছি ছেলেটাকে। সুবিধার মনে হয় নি। কুত্তার লেজের মত মাথার পেছনে একগুচ্ছ চুল, মুখে কাটা দাগ, চোখে সানগ্লাস আর হাতে সবসময় একটা জ্বলন্ত সিগারেট তো থাকবেই, সবসময় একটা বাইক নিয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। তো তার ফ্রেন্ড মানে “রুপন্তি”র বয়ফ্রেন্ড নিশ্চয় দুধে ধোয়া তুলসী পাতা হবে না। হ্যাঁ সেও ঐ ছেলেটার মতই।

রিলেশনের শুরুতে কলেজে এসেই শুরু হত ফোনে কথা বলা। সবসময় গুনগুন করে কথা বলত। টিফিনে গাছের এক কোণায় বসে কথা বলত। রিকশায় আমি আর ও একসাথে বাসায় ফিরতাম। রিকশায়ও কথা চলত আনলিমিটেড। তারপর ঘুরতে যাওয়া। কিছুদিন পর শুরু হল কলেজ ফাঁকি দিয়ে ঘুরতে যাওয়া। এইতো এভাবেই চলছিল রিলেশন। খারাপ না ভালই চলছিল...

তো একদিন টিফিনে কলেজ থেকেই চলে গেল ঘুরতে। আমি দেখলাম সিএনজির মধ্যে ওর বয়ফ্রেন্ড বসে ছিল। ঠিক দেড় ঘন্টা পর “রুপন্তি” ফিরে এল কলেজে। আমি ক্যাম্পাসেই বসে বসে কবিতা লিখার চেষ্টা করছিলাম। আমার পাশে এসে বসল সে। তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম কেমন মনমরা। একটু লক্ষ করে জিজ্ঞেস করলাম, কিরে তোর ঠোঁট এ কি হয়েছে? উত্তরে সে বলল; “দোস্ত মসা কামড় দিছে”। আমি বললাম; মসা কি সিএনজির ভেতরে কামড় দিয়েছে নাকি কোন পার্কে? “দোস্ত তুই বুঝে ফেলছিস? কি করব বল, আমি নিষেধ করা শর্তেও সে জোর করেই কিস করছে”। আমি বললাম; আজকে কিস করছে, কাল এর থেকে বেশি কিছু করবে, কাজেই রিলেশনটাকে পবিত্র রাখার চেষ্টা কর, মনে রাখবি, ভ্রমর মধু খেয়ে কিন্তু ফুলের উপর বসে থাকে না, উড়ে চলে যায়। “রুপন্তি” বলল, তোর কবির মত কথা বলা বন্ধ কর তো, ও অনেক ভাল, অনেক ভালোবাসে আমাকে, ঐসব কিছুই করবে না।

একদিন কলেজে এসে বাকি দুই বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম আজকে “রুপন্তি” কলেজে আসে নি। আমরা ক্লাস করে বাসায় ফিরে গেলাম। পরদিন “রুপন্তি” কলেজে আসলে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম সে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ছিল।

এরপর থেকে শুরু হল তাদের মধ্যে ঝগড়া। দেখতাম “রুপন্তি” ফোনে কান্না করে বলত; তুমি আমার সাথে এমন করছ কেন? প্লিজ এমন কর না, আমার অনেক কষ্ট হয়, আমি যে সত্যিই তোমাকে খুব ভালোবাসি সত্যি... কিছুদিনের মধ্যেই ব্রেকআপ হয়ে গেল “রুপন্তির”।

সব মেয়েদের আবারো বলছি;
“মনে রাখবে, ভ্রমর মধু খেয়ে কিন্তু ফুলের উপর বসে থাকে না, উড়ে চলে যায়। তোমার ঐ সতীত্ব সবকিছু, তোমরাই যান যে সতীত্বের মূল্য কতটা। কি জবাব দিবে, তোমার স্বামীর কাছে? স্বামীর সাথে যখন একই বিছানায় শোবে তখন কি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে? পারবে ভুলে যেতে যে এর আগেও অন্য একটা ছেলের সাথে বিছানায় শুয়ে এসেছ? তাই দেখেশুনে রিলেশন কর। আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনও প্রেমে পড় না প্লিজ... প্লিজ মনে রেখ আমার এই কথাগুলো...
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×