কলেজের সামনে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত তারা, হাতে সবসময় থাকত একটা জ্বলন্ত সিগারেট, আর সেই জ্বলন্ত সিগারেটের ধোঁয়া বের হতে থাকে অনবর । এক টান দিয়ে নাকের ভেতর দিয়ে বাইকের সাইলেন্সারের মত একগাদা ধোঁয়া ছাড়ে ছেলেগুলো। কখনও বা কলেজ ছুটির পর তার পিছু নেয় ছেলেগুলো। পেছন থেকে ফুঁ দিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া তার মুখে দিত।
"রুপন্তি" ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারে না। এই ভয়ে যে, যদি তারা তার কোন ক্ষতি করে ফেলে? যদি হাত ধরে হিচকে টান দিয়ে বাইকে তুলে নেয়? নানান ধরণের ভয় বাসা বাঁধে তার মনে। ভয়, না বলা কষ্ট বুকে চেপে রেখে নিরবে সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করে যায় সে দিনের পর দিন। কিন্তু কথায় আছে না, বানরকে লাই দিলে মাথায় চড়ে বসে?!
প্রতিদিনের মত আজকেও রুপন্তি কলেজ ছুটির পর একা একা বাসায় ফিরছে। আশেপাশে কাউকে না দেখে একটা ছেলে দৌড়ে এসে তার হাত ধরে ফেলে। ভয়ে হটাত করে যেন একটা সাপ "রুপন্তির" শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যায়। ছেলেটা তার হাত টেনে নেয় বুকের কাছে, সাথে সাথে "রুপন্তি" সজোরে একটা চড় বসিয়ে দেয় ছেলেটির গালে। হাত ছেড়ে দিয়ে তারা বাইকে চেপে সেদিনের মত চলে যায়।
সোমবার, প্রতিদিনের মত আজও সে কলেজে আসছে। সে এখনও ভুলতে পারে নি সেদিনের কথা। বুক তার দুরু দুরু করে কেঁপে উঠে সে কথা মনে পড়লেই। তার ঘোর কাটতেই দেখে সামনে থেকে একটা বাইক ছুটে আসছে লাগামহীন পাগলা ষাঁড়ের মত। সে কিছু বুঝে উঠার আগেই কিছু পানি ছিটকে পড়ে তার মুখে, গলায় ও বুকে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পোড়া মুরগির রোষ্টের মত ঝলসে যায় "রুপন্তির" রসূনের মতন ত্বক।
প্রচণ্ড ব্যাথায় গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে থাকে সে। আশাপাশের মানুষ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য বাংলা সিনেমার মত উপভোগ করতে থাকে। কিন্তু সবাই তো এক না, তার মধ্যে কিছু মানুষ দৌড়ে এসে তাকে একটা সিএনজি করে নিকটতস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে "রুপন্তি"।
এই ঘটনা থেকে কি শিখতে পারলাম আমরা?
"রুপন্তি" যদি আগেই তার অভিভাবক কাউকে অবগত করত ঐ ছেলেদের বিষয়ে?
"রুপন্তি" যদি ছুটির পর একা একা বাসায় না গিয়ে তার বান্ধবীদের সাথে যেত?
"রুপন্তি" যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করত?
তাহলে হয়ত তার এই করুণ পরিণতি হত না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



