somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাদা পাঞ্জাবীতে কালো দাগ!

২৯ শে মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাদের সাহেব হচ্ছেন আমাদের পাড়ার সবচেয়ে সৌখিন পুরুষ। কাদের সাহেবকে কেউ কোন দিন ভাজ পরা পাঞ্জাবি পরতে দেখেনি। খুব পরিচিত দৃশ্য হচ্ছে কাদের সাহেব ধবধবে সাদা পাঙ্গাবি পরে বাসার ছোট গেট খুলে বেরোচ্ছেন হাতে খুব সুন্দর ভাবে ভাজ করা বাজারের ব্যাগ। বাজারে যাবার সময় পরেন সাদা চেক লুঙ্গি, পায়ে থাকে কালি করা ঝকঝকে সেন্ডেল। মোটামুটি সবার জানা ওনার মত পরিচ্ছন্ন ব্যাক্তি এই এলাকাতেই নেই। যেমন তার পোশাক ঠিক তেমনি তার আচরন। কারো মনে পরেনা তাকে কখনো উচু গলায় কথা বলতে শোনেনি, কখনো বাজে শব্দ তার মুখে শুনেনি কখনো। এমনকি কারো সাথে তর্ক করতে দেখেনি কাদের সাহেবকে। সবাই পেছনে না সামনেই বলেন ভাই আপনার মতো মানুষ এ যুগে খুজে পাওয়া যাবে না।
কাদের সাহেবের স্ত্রী ফাতিমা আরেক প্রিয় মুখ এলাকায়। আশে পাশের ভাবীদের মুখে শোনা, উনি কখনো না বলতে পারেন না। অথবা না বলতে শেখেন নি। যার যখন যা প্রয়োজন ফাতিমা ভাবিকে জানালেই ব্যাস। বাসায় থাকলে এনে দিবেন আর না থাকলে কাজের ছেলে আজিজ কে তক্ষণই পাঠিয়ে দেবেন দোকানে। এনে পৌঁছে দেবেন নিজেই। তার মুখে হাসি দেখেনি এমন কাউকে খুজে পাওয়া যাবেনা অত্র এলাকায়। মোটামুটি প্রচলিত হয়ে গেছে, প্রত্যেকেই তাদের সন্তানদের বড় হবার উদাহরণ দিতে গিয়ে কোন না কোন ভাবে কাদের সাহেব আর ফাতিমা ভাবীর কথা বলবেনই। কাদের সাহেবের দুই মেয়ে এক ছেলে। প্রত্যেকেই যেন এক একটা রত্ন আর বাবা-মায়ের কার্বন কপি। যেমন মেধাবী ঠিক তেমনি দেখতেও সুন্দর। পাড়ার অনেকেই পেছন থেকে হিংসা করেনা বললে ভুল বলা হবে। এত পরিপাটি সংসার কে না আশা করে? বড় মেয়ে ডাক্তারী পাশ করে সরকারী চাকুরী করছে তার স্বামীও ডাক্তার। একমাত্র ছেলে বুয়েট থেকে পাশ করেছে, এখন একটা বিদেশি কোম্পানীতে চাকুরী করছে। আর ছোট মেয়ে নদী? এসএসসিতে আর এইচএসসিতে স্ট্যান্ড করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে পাশ করে এখন দেশের নাম করা ওষুধ কোম্পানীতে জয়েণ করেছে কয়েক মাস আগে। রুপে গুনে অনন্যা। এই মেয়ের জন্যে প্রতিদিন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে শুধু ঘটকরাই না আত্মীয়স্বজন ছাড়াও এলাকার লোকজনও আসে। হাসিমুখে সবাইকে আপ্যায়ন করে যান কাদের দম্পতি।
আজ এই প্রথম কাদের সাহেবের পাঙ্গাবীতে কাল দাগ! বিশ্রী ভাবে কাল দাগ পরেছে বুকের কাছে। দেখে মনে হচ্ছে কেউ পাঞ্জাবীটাতে ধরে কালো দাগ বসিয়ে দিয়েছে। সবাই কাদের সাহেবের গায়ে দাগ দেখে খুব অস্বস্তিবোধ করছে কিন্তু কাদের সাহেবের সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। উনি এই কাল দাগ লেগে থাকা পাঞ্জাবী পরেই সবার সাথে কথা বলছেন!
একটু আগেই নদী যখন বাবার বুকে ঝাপিয়ে পরে কাদতে লাগলো, চোখের পানির সাথে চোখের কাজল ধুয়ে গাল বেয়ে নেমে বাবার ধবধবে পাঞ্জাবীতে কালো দাগ ভরিয়ে দিলো। এত কান্নার মাঝেও নদী বলে উঠলো বাবা তোমার পাঞ্জাবীটা আমি ময়লা করে দিলাম। আরেকটা পাঞ্জাবী এনে দিবো? বাবা খুব শান্ত ভরাট গলায় বললো, "নারে মা তোমার এই চোখের পানির দাগ আজ আমার পাঞ্জাবীকে ময়লা করতে পারছে না-- আজ আমার মনটাই কষ্টে কালো হয়ে আছে। আমার প্রানের পাখিটা যে আজ আমায় ছেড়ে তার বাড়িতে চলে যাচ্ছে!!
চারদিকের হট্টগোলের মাঝেও কোথায় যেন একটা করুন সানাই এর সুর বেজেই চলছে অবিরাম------

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:১৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×