সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৬:৩২
বাংলাদেশী এক ক্যাব চালকের সততায় মুগ্ধ গোটা যুক্তরাষ্ট্র
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশী এক ক্যাবচালকের সততায় দেশটিতে এখন রীতিমত মাতামাতি শুরু হয়েছে। তিনি সততার এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যে, সে দেশের গণমাধ্যমগুলো তার সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য একেবারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এক যাত্রীর ফেলে যাওয়া কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এক ব্যাগ হিরার আংটি ফেরত দিয়ে ওই ক্যাবচালক পুরো নিউইয়র্কে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। তার নাম ওসমান চৌধুরী, বয়স:৪১। বাংলাদেশের দুর্নীতির দূর্নাম যখন বিশ্বজোড়া তখন ওসমান চৌধুরীর ওই দৃষ্টান্ত দেশের মানুষের মুখ অনেকটাই উজ্জ্বল করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীরা। দুর্নীতির দায়ে দেশের মন্ত্রী-সাংসদদের কারাবাসের সংবাদের পাশাপাশি গতকাল বুধবার সব মার্কিন মিডিয়ায় সংবাদ হয়েছেন ওসমান চৌধুরী। গত সোমবার রাতে নিউইয়র্ক হিলটন হোটেলের সামনে থেকে উঠিয়ে ৩৫ স্ট্রিটে ওই অলংকার ব্যবসায়ীকে পৌঁছে দেন ওসমান। পরের যাত্রীদের নামানোর সময় ধরা পড়ে হিলটন হোটেলের যাত্রীটি তার গাড়ির পেছনে ভুলে ফেলে গেছেন মাঝারি আকারের একটি লাগেজ। দ্রুত ছুটে যান ৩৫ স্ট্রিটে, কিন্তু হাজারো মানুষের ভীড় আর সারি সারি এপার্টমেন্টে তাকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন তিনি। এতেও দমে যাননি তিনি। কাজ বন্ধ করে লাগেজ নিয়ে সরাসরি চলে যান ট্যাক্সি এলায়েন্স নামক ক্যাব চালকদের সংগঠনের কার্যালয়ে। সেখানে ক্যাব চালকদের নেতা ভৈরবী দেশাইসহ ওসমান চৌধুরী যাত্রীর ঠিকানা বা ফোন নাম্বারের জন্য লাগেজ খোলেন। মুহূর্তে ধরা পড়ে লাগেজের মধ্যে ৩১টি ঝলমলে হীরার আংটি। টেক্সাসের একটি ফোন নাম্বারও পাওয়া যায় লাগেজে। টেক্সাসে ফোন করলে নিউইয়র্কে লাগেজ ফেলে যাওয়া যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। মাত্র দুই ঘন্টার ব্যবধানে হারিয়ে যাওয়া কয়েক কোটি টাকার হীরার আংটিসহ লাগেজ ফেরত নিতে এসে বিস্নয় আর আনন্দে কান্না শুরু করেন টেক্সাসের এ অলংকার ব্যবসায়ী। তিনি ভাবতেই পারেননি যে বিশ্বে এ রকম মানুষ এখনও আছে! হারানো হিরার আংটির আশা প্রায় ছেড়েই দিয়ে ছিলেন তিনি। এ সততার জন্য পুরস্কার দিতে চাইলে সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ওসমান। স্নিত হেসে শুধু বলেছেন, সততাই স্বাভাবিক এবং এ জন্য পুরস্কারের কোনো প্রয়োজন নেই তার। ১৫ বছর থেকে নিউইয়র্কে প্রবাসী ওসমান চৌধুরী বাংলাদেশে এক সময় ঠিকাদারী ব্যবসা করতেন। নিউইয়র্কের সব টিভি চ্যানেলসহ সংবাদপত্রগুলো ওসমানের সাক্ষাৎকারসহ সংবাদ পরিবেশন করছে। প্রতিক্রিয়ায় মৃদুভাষী ওসমান বলছেন, পরিশ্রম করে আমি আজ যে অবস্থায় আছি, তা নিয়ে গর্ববোধ করি। অন্যের সম্পদ নিয়ে ধনী হওয়ার কোনও অভিলাষ তার নেই। রেডিও, টিভি ও সংবাদপত্রে ওসমান চৌধুরীর সততার সঙ্গে বাংলাদেশের নামটিও গর্বের সঙ্গেই উচ্চারিত হচ্ছে। নিউইয়র্কের আরেক ক্যাবচালক বদরুল ইসলাম জানান, দুর্নীতি আর লুটপাট করে রাঘব-বোয়ালদের গ্রেপ্তার সংবাদের পাশাপাশি ওসমান চৌধুরীর সততার সংবাদটি বড়ই আনন্দের। ওসমানের ওই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন কোনো যাত্রী আমার ক্যাবে উঠলেই এ নিয়ে কথা বলছে। তারা বাংলাদেশী হিসেবে আমাকেও ধন্যবাদ দিচ্ছে। এ অনুভূতি খুবই আনন্দের যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
২৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে
এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাংসের ভুলচুক

বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য
যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।
ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।
খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।
আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।