---------------- ড. রমিত আজাদ
কদিন যাবৎ তোমার কথা খুব মনে পড়ছিলো,
বার বার মন বলছিলো তোমাকে কোথাও দেখতে পাবো।
হয়তো ব্যাস্ত শহরের কোন এক ত্রস্ত গলিতে,
অথবা কৃষ্ণচূড়ার পাঁপড়ি বিছানো কাঁকর পথে।
আমি জানিনা তোমার অতলান্ত সেই দুটি চোখ
আজ আর আমাকে খুঁজে ফেরে কিনা,
আমি কিন্তু ঠিকই তোমাকে খুঁজি।
একঝাঁক জোনাকী যেমন আধারের বুকে খুঁজে ফেরে স্বপ্ন।
মনে পড়ে,
আরশিতে তাকালে তুমি যাকে দেখতে নিরন্তর
সে ছিলো আমার কাছে এক কপোতাক্ষ মেয়ে।
সেই দিশেহারা মনে ভীরু ভীরু চলে আসা,
সেই বাধবাধ বুকে অপলক বসে থাকা।
হোমারের ফিনিসিয় বর্ণমালায়
বেজে ওঠা সেতারের সুর,
পুন:পুন উষ্ণ চুম্বনে কম্পিত হৃৎ,
সদ্য নেমে আসা বসন্তের উছল নভস্বান্।
আমার গালে তোমার গোলাপের পাঁপড়ির মতো গাল ঠেকিয়ে
যে সেলফীটি তুলেছিলে সেটা কি রেখেছে ধরে?
নাকি মুছে ফেলেছ উত্কলিকায়?
ঘাসের উপর ঝরা গোলাপের পাপড়িঁর আল্পনা।
ক্লান্ত দুপুরের নীরবতা খান খান করে ভেঙে,
নিরর্থক নিঃসঙ্গতা মুছে ফেলে,
আমাকে দেখিয়েছিলে তুমি হ্রদের তীরে বিটপীর শোভা।
সেই দুর্বল আবেগের ক্ষণে,
তুমি লীন হতে চেয়েছিলে আমার কায়ে,
চন্দ্রমল্লিকার পাপড়ির মতো তোমার শরীর,
প্রলোভন ছিলো জলের ও মৎস্যের,
কিন্তু আমি লোভী মাছরাঙা হতে পারিনি।
আজ অনেকদিন পরে তোমাকে দেখবো বলে,
আকাশজালের সহায়তা নিলাম,
অন্তরঙ্গ প্রাচীন নাম লিখে পলক প্রতীক্ষায়
ভেসে ওঠে তোমার ছবি।
নেটের পাতায় পরী!
তুমি আর সেই ইনোসেন্ট মেয়েটির রূপে নও,
জানি তুমি এখন পরিণীতা,
উপরন্তু এক দুহিতার মাতা,
তবুও রূপসী পূর্ণতিথির নারী।
খুব সুন্দরী! খুব সুন্দরী!
গোধুলীর আলোয় ম্লান,
জোৎস্নার আলোয় স্নান,
একদিন অনুভব করেছিলাম আচম্বিতে
একটি বনগন্ধী চর জেগেছে বুকের নদীতে।
সেই জেগে ওঠা দ্বীপে,
কোন এক অঘ্রানের বিকেলে
একটি কবিতা পড়ে শুনিয়েছিলাম তোমায়, অন্যের লেখা,
তুমি আবদার করেছিলে,
"কবি, আমায় নিয়ে লেখোনা একটি কবিতা",
সেই কবিতাটি আমি লিখে ফেলেছি সুললিতা,
সেই সুর, সেই বাঁশি, সেই রাগ, সেই হাসি,
মান-অভিমান, ভাব ভালোবাসা সব সেই,
শুধু পড়ে শোনাবার তরে তুমি আর পাশে নেই!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



